
শেষ আপডেট: 21 July 2022 06:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের (Presidential Election) জন্য ভোটগ্রহণের পর সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল থেকে ব্যালট বক্স (Ballot Box) উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া শুরু হয়। আজও গেছে কয়েকটি রাজ্য থেকে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটগ্রহণের জন্য এবার মোট ৩১টি বুথ হয়েছিল। একটি ছিল দিল্লিতে সংসদ ভবনের দোতলায় ৬৬ নম্বর ঘরে। বাকি ৩০টি বুথ হয়েছিল রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের বিধানসভায়।
লোকসভা, বিধানসভার থেকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দুটি পদ্ধতিগত ফারাক আছে। এক, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে এখনও পেপার ব্যালটে ভোট নেওয়া হয়। ইভিএমে নয়। অথাৎ ভোটগ্রহণের পুরনো ব্যবস্থা অনুযায়ী ঘেরা জায়গায় ব্যালটে ছাপ দেওয়ার পর তা ব্যালট বাক্সে ফেলতে হয়। দুই, লোকসভা, বিধানসভার মতো রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে যেখানে ভোট, সেখানে গণনার বিধান নেই। সব ব্যালট বক্স দিল্লিতে নিয়ে গিয়ে গণনা করা হবে।
ব্যালট বক্স দিল্লিতে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রেও বিশেষ ব্যবস্থার আয়োজন আছে। ভোটগ্রহণ শেষে ব্যালট বক্স এবং সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র ইত্যাদি একত্রে সিল করা হয়। সেই সিল করা বাক্স বিমানেই পাঠানো হয় দিল্লি। সাধারণত এই ধরনের বাক্স চেকড ব্যাগেজ হিসাবে বিমানের পেটে মালপত্র বহনের জায়গায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু সুরক্ষা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ব্যালট বাক্স পাঠানো হয় যাত্রী আসনে চাপিয়ে। ব্যালট বক্সের জন্য বিমানে আসন বুক করা হয়। বিভিন্ন রাজ্য থেকে যাত্রী বিমানে ব্যালট বাক্স নিয়ে যেতে ৩০টি ই-টিকিট কেটেছিল নির্বাচন কমিশন। ই-টিকিটগুলি কাটা হয় ‘মিঃ ব্যালট বক্স’ নামে। প্রতিটি ব্যালট বক্সের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের অ্যাসিস্ট্যান্ট রিটার্নিং অফিসার এবং রক্ষীরা গিয়েছেন। এজন্য বিমান সংস্থার সঙ্গে আগাম কথা বলে বিমানের প্রথম রো বরাদ্দ করা হয়েছিল। জানা গিয়েছে, একমাত্র বিমান চলাচলে বিঘ্নের কারণে হিমাচল প্রদেশ থেকে জেড-প্লাস সিকিউরিটি এবং ভিভিআইপি কনভয়-সহ সড়ক পথে মিঃ ব্যালট বক্স দিল্লি রওনা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটের গণনা শুধু দিল্লিতেই করা হয় কেন? এর কারণ, গণনায় কোনও ধরনের গোলযোগ বা বিতর্ক দেখা দিলে যাতে কেন্দ্রীয়ভাবে তার সমাধান করা যায়। কারণ গণনার ফল প্রকাশের চারদিনের মাথায় নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব নেবেন। তার মধ্যে বিবাদ-বিতর্ক মিটিয়ে ফল ঘোষণা করতে হবে। সেই কারণেই নির্বাচন কমিশন প্রথম থেকেই গণনার জন্য শুধু দিল্লির সংসদ ভবনকেই বেছে নিয়েছে।
এখন প্রশ্ন হল, ইভিএমের পরিবর্তে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কেন এখনও পেপার ব্যালট ব্যবহার করা হয়। পেপার ব্যালটের পরিবর্তে ইভিএম ব্যবহারের জন্য ১৯৮৯ সালে ১৯৫২ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইন সংশোধন করা হয়েছিল। তবে রাজ্যনৈতিক দলগুলির সহমতের ভিত্তিতে পরীক্ষামূলকভাবে ইভিএমে ভোট নেওয়া হয় প্রথম ১৯৯৮ সালের লোকসভার মধ্যবর্তী নির্বাচনে। সেবার গোটা দেশে ২৫টি বিধানসভা কেন্দ্রের ভোট নেওয়া হয় ইভিএমে। ২০০১-এ পশ্চিমবঙ্গ-সহ আরও চার রাজ্যের বিধানসভা ভোট পুরোপুরি ইভিএমে নেওয়া হয়। তিন বছরের মাথায় ২০০৪-এর লোকসভা নির্বাচনে ভোটগ্রহণ করা হয় পুরোপুরি ইভিএমে। সেদিক থেকে বলতে গেলে ইভিএম ব্যবহারে ভারত প্রায় আড়াই দশক পেরিয়ে এসেছে।
তবু রাষ্ট্রপতি ও উপরাষ্ট্রপতি এবং রাজ্যসভার ভোটে এখনও পেপার ব্যালট এবং ব্যালট বক্স ব্যবহার করা হয়। এর কারণ, এই ভোটগুলিতে একজন ভোটার তাঁর অগ্রাধিকার অনুযায়ী একাধিক ভোট দিতে পারেন। ধরা যাক, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে চারজন প্রার্থী ছিলেন। সেক্ষেত্রে একজন ভোটার তাঁক প্রথম পছন্দের ভোট একজন প্রার্থীকে দিয়ে দুই, তিন, চার নম্বর ভোট নিজের বিবেচনা মতো বাকি প্রার্থীদের দিলেন। উপরাষ্ট্রপতি এবং রাজ্যসভার ভোটের ক্ষেত্রেও নিয়মটা একই।
কেন এই পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়? এর কারণ, দু’জন বা তিনজন প্রার্থী যদি সমসংখ্যক ভোট পেয়ে যান, তখন কী হবে? কীভাবে কাউকে বিজয়ী ঘোষণা করা হবে?
সেক্ষেত্রে দ্বিতীয় পছন্দের ভোটগণনা করা হবে। তাতেও যদি দেখা যায় দু’জন প্রার্থী সমান সংখ্যক ভোট পেয়েছেন, তখন গণনা করা হবে তৃতীয় পছন্দের ভোট। তবে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় পছন্দের ভোট দেওয়াটা ভোটারের ইচ্ছার উপর নির্ভর করে। রাজ্যসভার ভোটে এই পদ্ধতিতে জয়-পরাজয় স্থির হওয়ার অনেক নজির আছে। গত মাসেই মহারাষ্ট্র ও হরিয়ানায় বিজেপি সমর্থিত দুই নির্দল প্রার্থী দ্বিতীয় পছন্দের ভোটে বাজিমাত করেন।
আরও পড়ুন: গ্রেফতার করা হচ্ছে না নূপুর শর্মাকে, জানাল সুপ্রিম কোর্ট