
শেষ আপডেট: 22 September 2019 18:30
গত ১৪ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ কাশ্মীরের পুলওয়ামায় সিআরপিএফ কনভয়ে ফিদায়েঁ হামলা চালায় জইশ। তার উপযুক্ত জবাবে ২৬ ফেব্রুয়ারি নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে পাকিস্তানে ঢোকে ভারতীয় বায়ুসেনা। পাক অধিকৃত কাশ্মীর, বালাকোট এবং চাকোটিতে, মিরাজ-২০০০ যুদ্ধবিমান থেকে প্রায় ১০০০ কেজির বোমা ফেলে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয় জইশের একাধিক প্রশিক্ষণ শিবির। বায়ুসেনার দাবি ছিল, এই হামলায় খতম হয়েছে জইশ, লস্কর-সহ প্রায় ৩০০ জঙ্গি, যার মধ্যে জইশ মাথা মাসুদ আজহারের ভাই ও আত্মীয়েরাও রয়েছে। তবে ভারতীয় বায়ুসেনার এই দাবি মানতে চায়নি পাকিস্তান।
বস্তুত, বালাকোটের খাইবার পাখতুনখোয়ার যে জায়গায় একাধিক জইশ শিবির ও জইশ পরিচালিত মাদ্রাসা বোমা ছুড়ে ধ্বংস করার দাবি করেছিল ভারতীয় বায়ুসেনা, ঠিক সেই জায়গায় বিবিসি, আল-জাজিরা-সহ একাধিক বিদেশি সংবাদমাধ্যম ও বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গিয়েছিল পাক সেনারা। তাদের দাবি ছিল, সব কিছু নাকি ঠিক আগের মতোই বহাল তবিয়তে রয়েছে। গাছপালাও নাকি বিশেষ নষ্ট হয়নি। উপগ্রহ চিত্রে বিমান হানার চিহ্নস্বরূপ যে বড় বড় গর্তগুলো দেখা গিয়েছিল, সেগুলি নাকি ছোট ও মাঝারি মাপের কিছু গর্ত। মাদ্রাসাতেও পড়াশনা করছে ছাত্রেরা। এরই মধ্যে সামনে আসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোর প্ল্যানেট ল্যাবস আইএনসি সংস্থার তোনা একটি উপগ্রহ চিত্র। যাকে হাতিয়ার করে আলাদা আলাদা দাবি করতে থাকে বিদেশি সংবাদ সংস্থাগুলি।
রয়টার্সের সেই ছবি
সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানায়, বালাকোটের জাবা গ্রামে জইশের জঙ্গিঘাঁটি মাথা তুলে দাঁড়িয়ে রয়েছে। অক্ষত অবস্থায় দাঁড়িয়ে রয়েছে মাদ্রাসা-সহ মোট ছ’টি বাড়ি। ভারত সরকার যে বিপুল ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তুলে ধরছিল, তার কোনও প্রমাণ মেলেনি বলেই দাবি করে তারা। সংবাদ সংস্থা প্রিন্ট জানায়, যে এলাকায় জঙ্গি প্রশিক্ষণ শিবিরের তাঁবু ছিল, সেখানে বিস্ফোরণের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে। অর্থাৎ সেদিন যে বিস্ফোরণ হয়েছিল, তা নিশ্চিত। সংবাদ সংস্থা টাইমস নাও দাবি করে, এই হামলায় স্পাইস ২০০০ গ্লাইড বোমা ব্যবহার করা হয়েছিল। এই বোমার নিয়মই হচ্ছে, যেখানে পড়ে, সেখান থেকে গর্ত করে ভেতরে ঢোকে। আর উপগ্রহ চিত্রে পরিষ্কার দেখা গেছে, কমপক্ষে ১০ থেকে ১২টি গর্ত রয়েছে মূল প্রশিক্ষণ শিবিরের ছাদে। সংবাদসংস্থাগুলির এই দাবির প্রেক্ষিতে চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু করে পাকিস্তান ও ভারতের বিরোধী শিবিরগুলি। যদিও ভারত সরকার বালাকোটে জঙ্গি নিধনের দাবিতে অটল থাকে। বস্তুত, এ দিন সেনাপ্রধান বিপিন রাওয়াত জানান, পাকিস্তান বালাকোট নিয়ে এতদিন যে দাবিগুলো করে এসেছে সে গুলো যে ভিত্তিহীন তার প্রমাণ মিলেছে। বালাকোটে জইশ ও লস্কর পরিচালিত একাধিক জঙ্গি ঘাঁটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল ভারতীয় বায়ুসেনা। সেই জায়গায় এখন নতুন করে শিবির তৈরির চেষ্টা চলছে। গোয়েন্দা রিপোর্টও বলছে, জইশের কম্যান্ডাররা একজোট হয়ে নাশকতার নতুন ছক কষছে। তবে যে কোনও পরিস্থিতি সামাল দিতে যে ভারতীয় সেনা তৈরি। বালাকোটের পর থেকে সেনার প্রত্যেকের মধ্যে একটা আলাদা জোশ তৈরি হয়েছে। সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সব রকম ভাবে প্রস্তুত রয়েছে ভারতীয় বায়ুসেনা।