
শেষ আপডেট: 9 September 2022 11:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আচমকা লোডশেডিং, আর তাতেই ‘খেল খতম’ সত্যেন্দ্রর। ১৮ দিন ধরে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় গা ঢাকা দিয়ে বেড়াচ্ছিল বাগুইআটির (Baguiati double murder) জোড়াখুনের মূল চক্রী সত্যেন্দ্র চৌধুরী ওরফে জামাই। হাওড়া থেকে ট্রেনে মুম্বই পালানোর প্ল্যান ছিল তার। কিন্তু পকেটে নগদ ছিল না। হাওড়া স্টেশন চত্বরের লঞ্চঘাটের কাছে ট্রাভেল এজেন্ট কাউন্টারের এক কর্মীর নম্বরে কোনও পরিচিতকে মোবাইল ওয়ালেট বা ইউপিআই মারফত টাকা পাঠাতে বলেছিল সে। কিন্তু টিকিট কাটার মোক্ষম মূহুর্তেই কারেন্ট চলে যায়।
পুলিশের কাছে আগে থাকতেই খবর ছিল যে, সত্যেন্দ্র ভিন রাজ্যে পালানোর ছক করছে। পালিয়ে বেড়ানোর সময় কারণ আগেও হাওড়া স্টেশনে এসেছিল সে। যেকারণে বৃহস্পতিবার রাত থেকেই সিআইডির পাঁচজন গোয়েন্দা হাওড়া স্টেশন চত্বরে জাল বিছিয়ে রেখেছিলেন। সত্যেন্দ্র হাওড়া স্টেশনের উল্টোদিকের ওই বুকিং কাউন্টারে বিদ্যুৎ আসার অপেক্ষা করছিল। সেই সময়েই দু’জন গোয়েন্দা তাকে পাকড়াও করেন। ফোন করে গাড়ি ডাকা হয়। এরপরই পুলিশের একটি গাড়ি এসে দাঁড়ায় বুকিং কাউন্টারের সামনে। ওই গাড়িতেই কোমরে দড়ি বেঁধে গাড়িতে তোলা হয় বাগুইআটির জামাইকে (Baguiati double murder)।
সেই টিকিট কাউন্টারের কর্মী দীপক প্রসাদ জানিয়েছেন, তাঁর কাছে সত্যেন্দ্র মুম্বাই যাওয়ার ট্রেনের সময় জানতে চায়। এবং টিকিট দিতে বলে। সেই সময় হঠাৎ বিদ্যু চলে যাওয়ায় সত্যেন্দ্রকে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে বলা হয়। তখনই দু’জন ব্যাক্তি এসে গোয়েন্দা পরিচয় দিয়ে সত্যেন্দ্রকে ধরেন। আশপাশে লোকজন জমে গেলে গোয়েন্দারা জানান, একজন বড় আসামীকে ধরা হয়েছে।
সত্যেন্দ্র ফেরার হওয়ার পর থেকেই তদন্তকারীরা অনবরত তার লোকেশন জানার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু বার বার সিম পাল্টে ফেলায় তার লোকেশন জানা সম্ভব হচ্ছিল না। যেকারণে রাজ্যর বিভিন্ন স্টেশনে গোপনে ওত পাতে গোয়েন্দারা। খুনের অভিযোকে আগেই যে ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়, তাদের থেকে সত্যেন্দ্র সম্পর্কে তথ্য, ফোন নম্বর–সহ একাধিক তথ্যের ভিত্তিতে গোপনে জাল পাততে থাকেন তদন্তকারীরা।
জানা গেছে, এতদিন মেমারি, ডানকুনি–সহ বিভিন্ন এলাকায় ছিল সত্যেন্দ্র। ফোনে সে একাধিকবার পরিচিতদের সঙ্গে কথা বলেছে। সেসব ফোনকলের সূত্র ধরে সত্যেন্দ্রর সম্ভ্রাব্য গন্তব্যে নজর রাখছিলেন রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দারা। পাশাপাশি সত্যেন্দ্রর পরিচিতদের ফোনও ট্যাপ করা হচ্ছিল বলে খবর। পালানোর পর থেকে পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে এটিএম কাউন্টারেও ঢোকেনি অনলাইনে লেন–দেন করছিল। যে কারণে মাঝেমধ্যে মোবাইল ব্যবহার করতে হচ্ছিল তাকে। যখন যখন সে মোবাইল অন করেছে, তখনই পুলিশের কাছে লোকেশন পৌঁছেছে।
সুত্রে খবর, পালানোর সময় সত্যেন্দ্র মুখে গোঁফ–দাঁড়ি ছিল। কিন্তু গা ঢাকা দিতে সুবিধের জন্য গোঁফ–দাড়ি কামিয়ে ফেলে সে। কিন্তু তাতেও শেষরক্ষা হয়নি। এদিন বাগুইআটির দুই ছাত্র খুনের মূল অভিযুক্ত সত্যেন্দ্রকে ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজত দিয়েছে বারাসত আদালত। এদিন পুলিশ আসতে একটু দেরি হলে হয়ত সত্যেন্দ্র এখন মুম্বইগামী কোনও ট্রেনে থাকত। তার নাগাল পাওয়া মুশকিল হতে পারত সিআইডির পক্ষে। কিন্তু আচমকা বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার জন্যই বড় সাফল্য পেল রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দারা। অস্বীকার করার জায়গা নেই, জামাইকে বাগে আনতে লোডশেডিংয়ের বড় ভূমিকা রয়েছে।
বাগুইআটি জোড়া খুনকাণ্ড: অভিযুক্ত সত্যেন্দ্রর ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজত