
শেষ আপডেট: 28 February 2024 18:45
সুভাষ চন্দ্র দাশ, ক্যানিং
এখন শুধু বাঘ সংরক্ষণ নয়, গোটা বিড়াল প্রজাতির সংরক্ষণে উদ্যোগী হয়েছে রাজ্য সরকার। বন জঙ্গল কমে আসায় বাঘরোল, খটাসের মতো প্রাণীরা এখন লুপ্তপ্রায়। তাই তাদের বাঁচাতে বিশেষ ব্যবস্থা নিতে শুরু হয়েছে গবেষণা।
স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘শের’ এতদিন ধরে বাঘ সংরক্ষণ নিয়ে কাজ করে আসছে। এবার তারা বাঘরোল, খটাস সংরক্ষণেও উদ্যোগী হয়েছে। গ্রামে গ্রামে এ বিষয়ে প্রচার চালাচ্ছেন সংগঠনের প্রতিনিধিরা। শহর-শহরতলির মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে।
বাঘ ও বন্যপ্রাণ বিশেষজ্ঞ জয়দীপ কুণ্ডু বলেন, “ বাঘ, হাতি, গণ্ডার সংরক্ষণ সর্বত্রই হচ্ছে। কিন্তু বাঘরোল বা মেছো বিড়াল কিংবা খটাস যাই বলি না কেন, এদের সংরক্ষণ সেভাবে হচ্ছে না। মানুষের মধ্যে এদের নিয়ে সচেতনতা কম। তাই এলাকায় বাঘরোল, খটাস দেখতে পেলেই অনেকেই এদেরকে হত্যা করছে। বাস্তুতন্ত্রে তার মারাত্মক প্রভাব পড়ছে। সেই কারণে এই সব প্রাণীদের সংরক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে। মানুষকে এবিষয়ে সচেতন করতে গণমাধ্যমকেও এগিয়ে আসতে হবে।”
পরিবেশপ্রেমীদের মতে, চারিদিকে কমছে জলাভূমি। এর ফলে জীবকূলের খাদ্য ও বাসস্থানের অভাব দেখা দিয়েছে। তাই তাদের অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে পড়ছে। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন এলাকায় এই বাঘরোল বা খটাসের মতো প্রাণী দেখতে পেলেই ভয়ে পিটিয়ে মেরে ফেলার প্রবণতা বাড়ছে। অপরাধ লুকাতে বনদফতর পৌঁছানোর আগেই লোপাট করে দেওয়া হচ্ছে মৃত প্রাণীদের দেহ।
বন্যপ্রাণ বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, মেছো বিড়াল নিয়ে ইতিমধ্যেই গবেষণা শুরু হয়েছে। এরফলে আগামী দিনে তাদের সংরক্ষণের সহায়ক হবে। সুন্দরবনে হওয়া সর্বশেষ পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, প্রায় ৩ শতাধিক মেছো বিড়াল আছে সুন্দরবনে। তার বাইরেও বহু এলাকা আছে যেখানে থাকে বিড়ালের বিভিন্ন প্রজাতি। এবার সেই এলাকাগুলিতেও সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।