দ্য ওয়াল ব্যুরো: অ্যাম্বুল্যান্সের ভিতরে তখন প্রসব যন্ত্রণায় ছটফট করছেন তরুণী। তাঁর সন্তান প্রসব করাচ্ছেন এক স্বাস্থ্যকর্মী। আর অ্যাম্বুল্যান্সের বাইরে রাস্তায় বসে আছে একদল সিংহ! ঠিক যেন অ্যাম্বুল্যান্সটি পাহারা দিচ্ছে তারা! আর ভিতরে নিশ্চিন্তে ভূমিষ্ঠ হচ্ছে নতুন প্রাণ!
না, কোনও সিনেমার দৃশ্য নয়। বুধবার রাতে বাস্তবেই এমনটা ঘটল গুজরাতের গীর অরণ্যে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে গীরের ভাখা গ্রামের বাসিন্দা, বছর তিরিশের তরুণী আফসানা রফিকের হঠাৎই প্রসব যন্ত্রণা শুরু হয়। তখন গভীর রাত। হাসপাতাল ১৮ কিলোমিটাপ দূরে, জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে পেরোতে হয় পথ। রাতের বেলা এড়িয়েই চলেন সকলে। কিন্তু তখন আর সময় নেই। তাই তড়িঘড়ি তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে ডাকা হয় অ্যাম্বুল্যান্স।
অ্যাম্বুল্যান্সে শুয়ে কাতরাতে থাকেন অন্তঃসত্ত্বা আফসানা। হাসপাতালে পৌঁছনোর আগেই যন্ত্রণা তীব্রতর হয়ে ওঠে। গাড়ি ছুটছে দ্রুতগতিতে। চালক ছাড়া এক স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছেন আফসানার সঙ্গে, জগদীশ মাকওয়ানা। তিনি জানান, রসুলপুর পাটিয়া এলাকায় আসতেই গাড়ি থামান অ্যাম্বুল্যান্স চালক। হাসপাতা তখনও ৬ কিলোমিটার বাকি। হঠাৎ গাড়ি কেন থামল, তা দেখতে গিয়েই তিনি দেখেন, রাতের অন্ধকারে রীতিমতো পথ আটকে বসে রয়েছে একদল সিংহ!

আরাম করে বিশ্রাম নিচ্ছিল তারা। অ্যাম্বুল্যান্স দেখে পথ ছেড়ে দেওয়ার নিয়ম মানুষের মধ্যে থাকলেও, পশুদের মধ্যে তা মোটেই নেই। ফলে গাড়ি আর এগোয় না। এদিকে ভিতরে তখন প্রসব যন্ত্রণায় ছটফট করছেন আফসানা। এই অবস্থায় স্বাস্থ্যকর্মী জগদীশ সিদ্ধান্ত নেন, আর দেরি করা যাবে না। গাড়িতেই প্রসব করাতে হবে তরুণীর। শেষমেশ সফল হন তিনি। গভীর রাতে, জঙ্গলের অন্দরে, সিংহদের প্রহরার মধ্যেই জন্ম নিল ফুটফুটে এক কন্যাসন্তান।

জগদীপ পরে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, "বাইরে একদল সিংহ বসে। মাঝেমধ্যে গর্জেও উঠছে তারা। বুক দুরুদুরু অবস্থা আমার। কী করবেন বুঝে উঠতে না পেরে বন দফতরের এক কর্তাকে ফোন করি। তিনি আমায় বলেন, সিংহরা নিজে থেকে পথ না ছাড়লে তাদের যেন সরানোর চেষ্টা না করা হয়। তাই অ্যাম্বুল্যান্স নিয়ে থেমে যাই আমরা। কিন্তু আসন্নপ্রসবা তরুণী তখন ব্যথায় কষ্ট পাচ্ছে। অগত্যা ফোনে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে প্রসব করাই। বাইরে সিংহ, ভিতরে নতুন প্রাণের জন্ম-- এ এক অভূতপূর্ব অভিজ্ঞতা আমার জীবনে।
জানা গেছে, শিশু জন্মানোর পরেও আরও ২০-২৫ মিনিটে সেখানেই আটকে ছিল অ্যাম্বুল্যান্স। তার পরে সিংহবাহিনী পথ ছাড়লে অবশেষে হাসপাতালে গিয়ে পৌঁছন তাঁরা। মা ও সন্তান দু'জনেই সুস্থ রয়েছেন এখন।