রামদেবের ভাই রামভরত, আড়ালে থাকা যোগগুরুর 'ডান হাত' এখন বড় দায়িত্বে
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পতঞ্জলি গোষ্ঠীরই অন্যতম সংস্থা রুচি সয়া। আর সেই সংস্থার সদ্য নিযুক্ত ম্যানেজিং ডিরেক্টরের নাম রামভরত। কে এই রামভরত? তিনি যোগগুরু বাবা রামদেবের ছোট ভাই। সাধারণত আড়ালেই থাকেন তিনি। এত দিন গেরুয়াধারী দাদার ব্যবসার অনেকটাই আড়
শেষ আপডেট: 24 August 2020 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পতঞ্জলি গোষ্ঠীরই অন্যতম সংস্থা রুচি সয়া। আর সেই সংস্থার সদ্য নিযুক্ত ম্যানেজিং ডিরেক্টরের নাম রামভরত। কে এই রামভরত? তিনি যোগগুরু বাবা রামদেবের ছোট ভাই। সাধারণত আড়ালেই থাকেন তিনি। এত দিন গেরুয়াধারী দাদার ব্যবসার অনেকটাই আড়াল থেকে সামলানো রামভরত এই প্রথম সামনে এলেন।
আরও পড়ুন
পতঞ্জলিতে রামদেবের আর এক ভরসার আচার্য বালকৃষ্ণকে সরিয়েই সেই জায়গায় ভাইকে বসালেন যোগগুরু। ভোজ্য তেল থেকে অন্যান্য সয়া জাত পণ্য প্রস্তুত ও বিপণনকারী সংস্থা রুচি সয়া বছর কয়েক আগে যখন দেউলিয়া হয়ে যায় তখন তা অধিগ্রহণ করে পতঞ্জলি। এর পরে পতঞ্জলির পাশাপাশি রুচি সয়ারও ম্যানেজিং ডিরেক্টর হন রামদেবের সহযোগী আচার্য বালকৃষ্ণ। গত ১৮ অগস্ট তিনি রুচি সয়ার ম্যানেজিং ডিরেক্টর পদ ছেড়ে দিয়ে সংস্থার নন-এক্সিকিউটিভ স্বাধীন ডিরেক্টর পদে চলে যান। নতুন দায়িত্ব দেওয়া হলেও বাজার বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, কার্যত আচার্য বালকৃষ্ণকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তার পরিবর্তে সংস্থার ম্যানেজিং ডিরেক্টর পদে যোগ দেন রামভরত। যোগগুরু রামদেবের ছোট ভাই।
রুচি সয়ার পক্ষে অবশ্য বলা হয়, অন্য ব্যস্ততার জন্য এই পদ থেকে নিজেই ইস্তফা দিতে চেয়েছিলেন পতঞ্জলী গোষ্ঠীর 'নাম্বার টু' হিসেবে পরিচিত বালকৃষ্ণ। যদিও বাজার বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, রুচির গত জুনে শেষ হওয়া ত্রৈমাসিকের ফলাফলই বলছে, কোম্পানির নিট আয় যেমন কমেছে, তেমনই ধাক্কা খেয়েছে নিট মুনাফা। গত জুন ত্রৈমাসিকে রুচি সয়ার মুনাফা এক ধাক্কায় ১৩ শতাংশ কমে হয়েছে ১২.২৫ কোটি টাকা। আগের অর্থ বর্ষে একই সময়ে মুনাফা ছিল ১৪.০১ কোটি টাকা। বিশেষজ্ঞদের দাবি, ব্যবসায় এই ঘাটতির জন্যই বদল হল সংস্থার শীর্ষ পদে।
নতুন দায়িত্বে আসা ৪২ বছরের রামভরত এতদিন আড়াল থেকে পতঞ্জলির কারবার দেখতেন। সংস্থার দৈনন্দিন কাজকর্ম দেখাশোনাই তাঁর কাজ। যোগগুরু রামদেব মূলত পতঞ্জলির প্রচার দেখেন। আর পতঞ্জলিতে তাঁর 'ডান হাত' হিসেবে পরিচিত রামভরত গবেষণা থেকে ব্যবসায়িক পরিকল্পনা, উৎপাদন, বিপণন সবই দেখেন। বিশেষ করে পতঞ্জলির সাপ্লাই চেন দেখার দায়িত্ব তাঁর উপরে। রামভরত সরাসরি রিপোর্ট করেন রামদেব ও বালকৃষ্ণকে।
সে ভাবে প্রকাশ্যে না এলেও পতঞ্জলির অন্দরে সকলেই চেনে সাধারণত কুর্তা-পাজামা পরা রামভরতকে। সংস্থায় তিনি 'ভরতভাই' নামে পরিচিত। যোগগুরুরা তিন ভাই। রামদেবের বড় ভাই দেবদত্ত যাদব হরিয়ানার মহেন্দ্রগড় জেলার সৈয়দপুরে থাকেন। তবে রামভরত দাদা রামদেবের সঙ্গে হরিদ্বারেই থাকেন।
এখন রুচি সয়ার ম্যানেজিং ডিরেক্টর হয়ে খবরে আসা রামভরতের নাম অতীতেও একবার আলোচ্য হয়ে উঠেছিল। ২০১৫ সালে ট্রাক ইউনিয়নের সঙ্গে পতঞ্জলি কর্মীদের একবার বড় গোলমাল হয়। সেই ঘটনায় একজনের মৃত্যুও হয়। জখম হন চারজন। পতঞ্জলি কারখানা চত্বরেই সেই গোলমালে গ্রেফতার হন রামভরত। বিচারবিভাগীয় হেফাজতেও ছিলেন তিনি। পরে জামিনে মুক্ত হন।