মুক্তমনা ব্লগার অভিজিৎ রায় হত্যা মামলা: সাক্ষ্য দিলেন আরও তিন জন, বিচারের আশায় গোটা দেশ
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি। পড়শি দেশের এক নৃশংস ঘটনায় কেঁপে গিয়েছিল এ-বাংলার বহু মানুষও। বাংলাদেশের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে একুশে বইমেলার বাইরে মৌলবাদীদের আক্রমণে কুপিয়ে খুন হন মুক্তমনা ব্লগার ও লেখক অভিজিৎ রায়। তার পর থেক
শেষ আপডেট: 3 December 2019 11:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি। পড়শি দেশের এক নৃশংস ঘটনায় কেঁপে গিয়েছিল এ-বাংলার বহু মানুষও। বাংলাদেশের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে একুশে বইমেলার বাইরে মৌলবাদীদের আক্রমণে কুপিয়ে খুন হন মুক্তমনা ব্লগার ও লেখক অভিজিৎ রায়। তার পর থেকেই চলছে হত্যা-মামলা। সেই মামলাতেই সাক্ষ্য দিলেন আরও তিন জন।পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে ১১ ডিসেম্বর।
ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে অবস্থিত এক চায়ের দোকানের কর্মচারী মহম্মদ হাবিব ও আবদুল মালেক। তাঁদের সঙ্গেই সাক্ষ্য দেন আর এক সাক্ষী, ঘটনার সময়ে বইমেলায় আসা মহম্মদ আকিমুজ্জামান।
অভিজিৎ ও তাঁর স্ত্রী রাফিদা দু’জনেই ছিলেন আমেরিকার নাগরিক। অমর একুশে গ্রন্থমেলা উপলক্ষে তাঁরা দেশে ফিরেছিলেন। মেলা থেকে বেরিয়ে বাড়ি ফেরার পথেই তাঁদের উপর হামলা হয়। খুন হন অভিজিৎ।
সেই সময়েই শাহবাগ থানায় দায়ের হয়েছিল খুনের অভিযোগ। তদন্ত শুরু করে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট। চার বছর পরে, চলতি বছরের মার্চ মাসের ১৩ তারিখে মোট ছ'জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়।শেষমেশ গত ১ অগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে ট্রাইব্যুনাল। গত ২৮ অক্টোবর অভিজিতের বাবা অজয় রায়ের সাক্ষ্যে দিয়ে অভিজিৎ হত্যা মামলার বিচারকাজ শুরু হয়। তার পর থেকে এই নিয়ে অভিজিৎ হত্যা মামলায় মোট আট জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হল।
সোমবার সাক্ষ্য দেওয়ার সময়ে চায়ের দোকানের কর্মচারী আবদুল মালেক এজলাসে জানান, ওই দিন তিনি সোহরাওয়ার্দি উদ্যানের তিন নম্বর গেটে চা বিক্রি করছিলেন। রাত ন'টা নাগাদ দোকানের কাছেই হঠাৎ তীব্র চিৎকার শুনতে পান বলে দাবি করেন তিনি। জানান, সেখানে গিয়ে তিনি দেখেন, রক্তাক্ত অবস্থায় দু’জন রাস্তায় পড়ে আছেন।
আর এক সাক্ষী মহম্মদ আকিমুজ্জামান জানিয়েছেন, তিনি এবং তাঁর বন্ধু মাহমুদুর রহমান বাইরে তাঁদের মোটরসাইকেল রেখে বইমেলায় ঢোকেন। রাত ন’টার দিকে মেলা থেকে বেরিয়ে জটলা দেখতে পান। পরে পুলিশ তাঁকে জানান, এক জন খুন হয়েছেন সেখানে।
মামলায় দুই আসামি সৈয়দ মহম্মদ জিয়াউল হক ওরফে জিয়া এবং আক্রাম হোসেন ওরফে আবির এখনও ফেরার। অন্য আসামিরা হল: মোজাম্মেল হুসাইন ওরফে সায়মন, আবু সিদ্দিক সোহেল ওরফে সাকিব, মুকুল রানা ওরফে শরিফুল ইসলাম, আরাফাত রহমান ওরফে শফিউর রহমান ফারাবি। এই চার জন কারাগারে আছে। শুনানি চলার সময়ে তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজিরও করা হয়।