দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনার আতঙ্কের মাঝেই বার্ড-ফ্লু ছড়িয়ে পড়েছে রাজ্যে রাজ্যে। এখনও অবধি ২৫ হাজার পাখির মৃত্যু হয়েছে বার্ড-ফ্লু ভাইরাসের সংক্রমণে। হিমাচল প্রদেশ, হরিয়ানা, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, কেরলে জারি হয়েছে সতর্কতা। গবেষকরা বলছেন, অ্যাভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জার সংক্রমণ ছড়িয়েছে। এখন প্রশ্ন হল, এই অ্যাভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা কী? মানুষের শরীরেও নাকি এই ভাইরাস সংক্রমণ ছড়াতে পারে।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী (অ্যানিমাল হাসব্যান্ড্রি অ্যান্ড ডেয়ারি ডেভেলপমেন্ট, ফিশারি) সঞ্জীব বাল্যান বলেছেন, মৃত পাখি, অপরিষ্কার পোলট্রি থেকে এই ভাইরাস মানুষের শরীরে সংক্রামিত হতে পারে। এই ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসেরও ‘হিউম্যান ট্রান্সমিশন’ সম্ভব। যদিও, ভারতে এখনও অবধি মানুষের শরীরে অ্যাভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা ছড়াতে দেখা যায়নি।
অ্যাভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা কী?
বার্ড-ফ্লু ভাইরাস হল বিশেষ ধরনের ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস যা শুধু পাখি নয়, মানুষ ও অন্যান্য পশুর শরীরেও সংক্রামিত হতে পারে। এই ধরনের ইনফ্লুয়েঞ্জাকে বলে অ্যাভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা। থুতু-লালা ড্রপলেটের মাধ্যমে এই ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়াতে পারে। ভারতে এখনও অবধি দুই ধরনের বার্ড-ফ্লু তথা অ্যাভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের স্ট্রেন পাওয়া গিয়েছে—এইচ৫এন১ এবং এইচ৭এন৯। বিশেষজ্ঞরা বলেন, মানুষের শরীরে ঢুকলে করোনাভাইরাসের মতোই দ্রুত বিভাজিত হতে পারে ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের স্ট্রেন। সংক্রমণও ছড়াতে পারে দ্রুত। উপসর্গও করোনা সংক্রমণের মতোই।
দেশের কয়েকটি রাজ্যে মৃত পাখিদের নমুনায় যে ভাইরাল স্ট্রেন মিলেছে তা হল এইচ৫এন১ (H5N1)ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস। পাখিরা এই ভাইরাসের বাহক। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) ১৯৯৭ সালে প্রথম মানুষের শরীরে এই ভাইরাল স্ট্রেন চিহ্নিত করেছিল। মৃত পাখির দেহাবশেষের সংস্পর্শে এসেই মানুষের শরীরে সেই ভাইরাল স্ট্রেন ছড়িয়েছিল বলেই মনে করা হয়েছিল।

বিজ্ঞানী বলছেন, মানুষের শরীরে ছড়াতে পারে ঠিকই, তবে এক শরীর থেকে অন্য শরীরে এই ভাইরাল স্ট্রেন দ্রুত সংক্রামিত হতে পারে কিনা, সে তথ্য এখনও মেলেনি। তবে মানুষের শরীরে এমন ভাইরাস ছড়িয়ে গেলে তার প্রভাব যে মারাত্মক হতে পারে সে সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিজ্ঞানীরা।
কী কী উপসর্গ দেখে সতর্ক হতে হবে
ভাইরাল জ্বরের মতোই উপসর্গ। শুকনো কাশি, পেট খারাপ, শ্বাসকষ্ট। কাঁপুনি দিয়ে জ্বর, সেই সঙ্গে মাথাযন্ত্রণা। পেশির ব্যথাও শুরু হতে পারে রোগীর। সর্দি-কাশি, কফ জমতে থাকবে ঘন ঘন। গলা শুকিয়ে কথা বলার সমস্যা হবে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, পাখির শরীরে অ্যাভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস ঢুকলে ১০ দিনের মধ্যেই থুতু-লালার মারফৎ সংক্রমণ ছড়াতে শুরু করবে। সংক্রামিত পাখিদের সংস্পর্শে থাকলে ভাইরাস ছড়ানোর সম্ভাবনা বেশি। অনেক সময়েই সাধারণ ভাইরাল জ্বর মনে করে এই ভাইরাসকে চিহ্নিত করা যায় না। তবে উপসর্গ বেশি হলে রিয়েল টাইম আরটি-পিসিআর টেস্টে (এ/এইচ৫
[1]) ভাইরাল স্ট্রেন চিহ্নিত করা যায়। এইচ৫এন১ ভাইরাসের সংক্রমণের মৃত্যুহার খুব বেশি। মানুষের শরীরে ছড়ালে মৃত্যুর ঝুঁকি ৬০ শতাংশ। যদি সেপসিস, নিউমোনিয়া বা অ্যাকিউট রেসপিরেটারি ডিসট্রেসের মতো উপসর্গ ধরা পড়ে তাহলে সঙ্গে সঙ্গেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
[1]