দ্য ওয়াল ব্যুরো : চলতি বছরে লকডাউনের মধ্যে কর্মীদের ইনক্রিমেন্ট দিয়েছে ভারতের মাত্র ৪০ শতাংশ কোম্পানি। অন্যান্য বছর দেশে বেতন বাড়ে ৮.৬ শতাংশ। কিন্তু লকডাউনের ধাক্কায় তা কমে হয়েছে ৩.৬ শতাংশ। ডেলয়েট্টি টুচে টোহমাতসু ইন্ডিয়া এলএলপি নামে এক সংস্থার সমীক্ষায় জানা গিয়েছে একথা।
ভারতের ৩৩ শতাংশ কোম্পানি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এবছর ইনক্রিমেন্ট দেওয়া হবে না। বেশ কয়েকটি কোম্পানি এখনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি, ইনক্রিমেন্ট দেওয়া হবে কিনা। ইনক্রিমেন্টের ক্ষেত্রে একটা বড় ভূমিকা পালন করছে সময়। যে কোম্পানিগুলি লকডাউনের আগেই ইনিক্রিমেন্ট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, সেখানে বেতন বেড়েছে বেশি হারে। যে সংস্থাগুলি ভাবছে, কোভিড অতিমহামারীর ফলে ২০২০-২১ সালের আর্থিক বছরে তাদের লাভ কমবে ২০ শতাংশের বেশি, তারা ইনক্রিমেন্ট দিয়েছে অনেক কম।
ডেলয়েট্টি টুচে সংস্থার এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, গত কয়েক বছরে দেখা গিয়েছে, অর্থনীতির বিকাশের হারের সঙ্গে সাযুজ্য রেখে ইনক্রিমেন্ট হয়। কোভিড ১৯ অতিমহামারীর ফলে সারা বিশ্বের অর্থনীতি মন্দার কবলে পড়েছে। তাই ভারতেও কমেছে ইনক্রিমেন্টের হার। প্রায় সব কোম্পানির মুনাফা কমছে। তাই তারা খরচ কমানোর দিকে নজর দিয়েছে।
সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ছ'মাস আগে ভারতে বিভিন্ন কোম্পানিতে যত ইনক্রিমেন্ট হবে ভাবা হয়েছিল, বাস্তবে হয়েছে, তার চেয়ে কম। ২০২০ সালে কোনও কোম্পানিতেই ১০ শতাংশ বা তার ওপরে বেতনবৃদ্ধি হয়নি। লাইফ সায়েন্স সেক্টরে ইনক্রিমেন্ট হয়েছে সবচেয়ে বেশি। ম্যানুফ্যাকচারিং ও সার্ভিস সেক্টরে বেতন বেড়েছে সবচেয়ে কম। রিয়েল এস্টেট, নির্মাণ, খনি, হোটেল, খুচরো ব্যবসা ও গাড়ি শিল্পে ইনক্রিমেন্টের হার আগের চেয়ে অনেক কমেছে। এমনকি ডিজিটাল বা ই কমার্স ইন্ডাস্ট্রিও আর আগের হারে ইনক্রিমেন্ট দিতে পারছে না।
একটি উল্লেখযোগ্য তথ্য হল, চলতি বছরে বড় কোম্পানিগুলিতে বেতন বেড়েছে কম। তুলনায় ছোট সংস্থাগুলিতে ইনক্রিমেন্ট হয়েছে বেশি হারে। যে সংস্থাগুলি ২০২০ সালে ইনক্রিমেন্ট দিয়েছে, তাদের ৩৮ শতাংশ স্থির করেছে, ২০২১ সালেও বেতন বাড়াবে। বিভিন্ন সংস্থাকে খরচ কমাতে সাহায্য করছে তাদের এইচআর টিম। তারা অনেকের প্রমোশন আটকে দিয়েছে, বেছে বেছে কর্মীদের বোনাস দিচ্ছে এবং ইনসেনটিভ কমিয়েছে।
ভারতে চাকরিজীবীদের ইনক্রিমেন্ট নিয়ে সমীক্ষা শুরু হয় গত জুন মাসে। ৩৫০ টি কোম্পানিকে নিয়ে সমীক্ষা করা হয়। অর্থনীতির সাতটি সেক্টরে ও ২০ টি সাব সেক্টরে কর্মীদের বেতনবৃদ্ধির বিষয়টি খতিয়ে দেখা হয়।