দ্য ওয়াল ব্যুরো: ছবির মতো সুন্দর দ্বীপ মরিশাস। ভ্রমণপ্রেমীদের স্বর্গ, স্বপ্ন। কিন্তু সেখানেই বিপদের মুখে প্রকৃতি ও জলজীবন। মরিশাস জ্বীপ-সংলগ্ন এলাকায় ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটিয়েছে একটি তেলভর্তি জাপানি জাহাজ। তা থেকে চার হাজার টন তেল মিশে গেল সমুদ্রে! ফলে জলের জীবন রীতিমতো বিপন্ন, বিষাক্ত হয়ে গেছে সমুদ্রের জল। এই ঘটনা নিয়ে আরও হইচই শুরু হয়েছে, একসঙ্গে ১৭টি ডলফিনের মৃতদেহ ভেসে ওঠায়।
জুলাইয়ের শেষের দিকে জাপানের বন্দর থেকে সিঙ্গাপুর রওনা হয়েছিল তেলভর্তি জাহাজ এমভি ওয়াকাশিও। সব ঠিক থাকলেও, ২৫ জুলাই মরিশাসের কাছে একটি প্রবাল প্রাচীরে আচমকা ধাক্কা খায় জাহাজটি। ছোট ধাক্কা নয়, রীতিমতো দু’টুকরো হয়ে যায় জাহাজ। হু হু করে তেল মিশতে থাকে সমুদ্রের জলে। খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোরগোল পড়ে যায় পরিবেশবিদদের মধ্যে। দেখা যায়, দুর্ঘটনাস্থলের ১৪ মাইল পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে তেল।

বস্তুত, মরিশাসের সমুদ্র জলদীবনের বৈচিত্র্যের জন্য বিশ্ববিখ্যাত। এখানকার মতো প্রবাল বিশ্বের আর কোথাও মেলে না। স্বচ্ছ জলের নীচে দেখা যায় আরও নানা রকমারি প্রাণী ও উদ্ভিদ। এই সমুদ্রের সৌন্দর্যকে ঘিরেই এখানে গড়ে উঠেছে পর্যটন শিল্প। কিন্তু এত বড় দুর্ঘটনা সব কিছু ছিন্নভিন্ন করে দিতে পারে বলে আশঙ্কা। কারণ এত তেল সমুদ্রে মিশে জলের বাস্তুতন্ত্র প্রবল ভাবে বিঘ্নিত হবে। প্রবাল অথবা ক্ষুদ্র সামুদ্রিক জীবের মারাত্মক ক্ষতি হবে। কোনও কোনও প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ারও আশঙ্কা রয়েছে।

কয়েক দিন ধরেই সমুদ্র উপকূলে অসংখ্য মরা কচ্ছপ, মাছ, ঝিনুক, কাঁকড়া ভেসে আসতে থাকে। কিন্তু বুধবার হঠাৎই মরিশাসের দক্ষিণ-পূর্ব এলাকার বাসিন্দাদের চোখে পড়ে, সমুদ্র সৈকতে ভেসে এসেছে বেশ কিছু ডলফিন। বেশির ভাগই প্রাণহীন। কেউ কেউ মৃত্যুযন্ত্রণায় ছটফট করছে।
খতিয়ে দেখে পরিবেশ সংস্থা গ্রিনপিস জানিয়েছে, অন্তত চারটি ডলফিনের দেহ মিলেছে। আরও চারটি ডলফিনের অবস্থা সঙ্কটজনক। কিন্তু আসলে সংখ্যাটা আরও বেশি। কমপক্ষে ১৭টি ডলফিন মারা গিয়েছে। মরিশাসের মৎস্য মন্ত্রকও ১৭টি ডলফিনের মৃত্যুর খবর স্বীকার করে নিয়েছে। পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ওই অঞ্চলের সমুদ্র-জীবন সঙ্কটে। ডলফিন মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়বে।

মৃত ডলফিনগুলির মুখে, শরীরে পুরু তেলের আস্তরণ। শ্বাসপ্রশ্বাসের ছিদ্রটিও তেলে ঢাকা। ফলে সহজেই অনুমান করা যায় যে তেলের কারণেই ছটফট করে মারা গেছে তারা। কিন্তু ডলফিনগুলির দেহ ময়নাতদন্ত করার পরে আবার নতুন তথ্য উঠে এসেছে বিজ্ঞানীদের হাতে। তাঁরা বলছেন, ডলফিনদের শরীরে ক্ষতচিহ্ন মিলেছে। হাঙরের আক্রমণ হয়ে থাকতে পারে তাদের উপর। চোয়ালের চারপাশেও রক্ত আছে। কিন্তু পাকস্থলীতে তেলের চিহ্ন মেলেনি।

মরিশাসের এই উপকূল অঞ্চলটি এত দিন পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু ছিল ডলফিনের জন্যই। ঢেউয়ের মাঝে মাঝে লাফাতে দেখা যেত কয়েকশো ডলফিনকে। এ ছাড়াও আরও বহু মাছ, শশুকের সহাবস্থান ছিল এই এলাকা। সবটাই বড় বিপদের মুখে পড়ে গিয়েছে বলে মত বিজ্ঞানীদের। কতদিন লাগবে এই এতটা তেলের সঙ্গে তাদের মানিয়ে নিতে তা বলা যাচ্ছে না।