
শেষ আপডেট: 12 March 2019 18:30
‘ভেজিটেবল অর্কেস্ট্রা’ বা ‘দ্য ভিয়েনা ভেজিটেবল অর্কেস্ট্রা’— এই ব্যান্ডের পথ চলা শুরু ১৯৯৮ সালে। দশ জন মিউজিশিয়ান, একজন রাঁধুনী এবং একজন সাউন্ড টেকনিশিয়ান, এই হলো ব্যান্ডের ভরা সংসার। ব্যান্ড বাদকরা প্রায় প্রত্যেকেই নানান দিকে পারদর্শী। কেউ ধ্রুপদী সঙ্গীতে প্রশিক্ষিত, কেউ সাউন্ড পোয়েট, কেউ ভাস্কর্য শিল্পে পারদর্শী, কেউ ডিজাইনার আবার কেউ বিখ্যাত স্থপতি। নানা পেশা, নানান ধরন। সবে মিলেই ব্যান্ড ‘ভেজিটেবল অর্কেস্ট্রা’।

ব্যান্ডের শিল্পীরা[/caption]
ম্যাথিয়াসের কথায়, ‘‘প্রথম শো সফল হওয়ার পরই ভাবতে শুরু করি, আরও কী নতুনত্ব আনা যায়। কী ভাবে দর্শকদের চমক দেওয়া যায়। মিউজিকের পরে গরম স্যুপের আইডিয়াটাও ক্লিক করে যায়।’’ লন্ডনের রয়্যাল অ্যালবার্ট হল, সাংঘাই আর্ট সেন্টারের মতো নামী দামি জায়গায় ইতিমধ্যেই এই ব্যান্ডের কনসার্ট হিট। ‘‘প্রথমে অনেকেই মনে করতেন এটা মজার পারফর্ম্যান্স। ভেলকি দেখানোর মতো। শোনার পরে শ্রোতাদের সেই ভুলটা ভাঙে। শুরুতে ব্যঙ্গ করলেও, পরে এগিয়ে এসে তারিফ করেছেন অনেকেই,’’ সুসানার চোখে গর্ব।






কাঁচা ঝাঁঝাঁলো পেঁয়াজ থেকে বৃষ্টির টুপটাপ ফোঁটার মতো শব্দ হয়, কুমড়ো থেকে ড্রামের বোল বার হয়, দু’টো পেঁয়াজকলি পরস্পরকে ঘষলে গিটারের স্ট্রিংয়ের মতো ধ্বনি হয়, প্রত্যেক সবজিরই নিজস্বতা আছে, জানিয়েছেন সুসানা। তাঁর কথায়, সবচেয়ে কঠিন হচ্ছে দু’টো সবজি একসঙ্গে করে অর্থাৎ হাইব্রিড বাদ্য বাজানো। স্যাক্সোফোনের মতো বোল তোলাও খুব একটা সহজ নয়। শশার সঙ্গে বেল পেপারের সংমিশ্রণে স্যাক্সোফোনের বোল তুলতে পারেন শিল্পীরা, যার পোশাকি নাম ‘কিউকাম্বারফোন’।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এক ধরনের রসুন পাওয়া যেটা দিয়ে বেস স্ট্রিং বাজানো যায়, বিনস দিয়ে মারাকা, বলেছেন ম্যাথিয়াস। ব্যান্ডের সবচেয়ে দক্ষ পামকিনিস্ট জুয়েরগান বারলাকোভিচের কথায়, বিশ্বের এক একটা দেশের তাপমাত্রার বৈচিত্র্য, আবহাওয়ার পরিবর্তন ও সবজির তারতম্যের জন্য কোনও বিশেষ টাইমলাইন তৈরি করা যায় না। শিল্পীরা এ ক্ষেত্রে কনসার্টের সময় একটা সিক্রেট কোড ব্যবহার করেন। কখন কোন সুর উচ্চগ্রামে হবে, আবার কোনটা একেবারেই লো পিচে, সেটা এই কোড দিয়ে ঠিক করা হয়।
লাইভ কনসার্ট ছাড়াও এই ব্যান্ডের সিডি রয়েছে, ‘Gemise’ (১৯৯৯) ‘Automate’ (২০০৩)‘Onionoise’ (২০১০)। সম্প্রতি রিলিজ করেছে ‘Krautfunding’।
বারবারা কায়সার জানিয়েছেন তাঁর অন্য অভিজ্ঞতার কথা। গ্রীষ্মপ্রবণ দেশগুলিতে কনসার্টের সময় অনেকটাই কমিয়ে আনতে হয়। কারণ কাঁচা আনাজ পচে যাওয়ার ভয় থাকে। বিশেষ করে বাঁধাকপি। তাই কোনও কোনও শো ৯০ মিনিটেও শেষ করে ফেলতে হয়। তাঁর কথায়, ‘‘সমস্যা থাকে অনেক, তাও আমার কাছে এটা মাল্টি-সেনসরি পারফর্মিং অ্যাক্ট। সঙ্গীতকে এখানে অনুভব করা যায়, তার গন্ধে ভরে ওঠে মন। সবজি-সঙ্গীতের স্বাদও অনবদ্য।’’
আগামী দিনে বিশ্বের আরও নানা দেশে কনসার্টের পরিকল্পনা করে ফেলেছে ‘ভেজিটেবল অর্কেস্ট্রা।’ স্বাদে-গন্ধে-সুরে-ছন্দে এই ব্যান্ডের পারফরম্যান্স শুনতে আগ্রহী ভারতের শ্রোতারাও।
আরও পড়ুন:
https://www.four.suk.1wp.in/magazine-feature-bhilar-in-maharashtra-the-first-book-village-in-india/