দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোল বদলে দেবে। ভাইরাস ধ্বংস হবে। নোভেল করোনার সংক্রমণ মুছে যাবে পৃথিবী থেকে। বড় দাবি করলেন অস্ট্রেলিয়ার বিজ্ঞানীরা।
চিনের বাইরে এই প্রথম কোনও ল্যাবোরেটরিতে নোভেল করোনাভাইরাসের প্রতিলিপি তৈরি করলেন অস্ট্রেলিয়ার
রয়্যাল মেলবোর্ন হাসপাতালের ডাক্তার, পিটার ডোহার্টি ইনস্টিটিউটের ভাইরাস আইডেন্টিফিকেশন ল্যাবোরেটরির প্রধান ড. জুলিয়ান ড্রুস এবং
ডোহার্টি ইনস্টিটিউটের ডেপুটি ডিরেক্টর ড. মাইক ক্যাটন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) অনুমোদনেই ল্যাবোরেটরিতে এই ভাইরাসের প্রতিলিপি তৈরি হয়। ডাক্তার মাইক ক্যাটন বলেছেন, রয়্যাল মেলবোর্ন হাসপাতালে ভাইরাস আক্রান্ত এক রোগীর নমুনা সংগ্রহ করে সেখান থেকেই করোনাভাইরাসের জিনোম সিকুয়েন্স করা হয়। টিস্যু কালচার ল্যাবে এই ভাইরাস তৈরি করে তার গতিপ্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। চিকিৎসক-গবেষক মাইকের কথায়, “গবেষণাগারে তৈরি ভাইরাস আমাদের এর প্রতিষেধক খুঁজতে সাহায্য করবে। এই ভাইরাসকে মারতে কী ধরনের অ্যান্টিবডি দরকার তার খোঁজ আমরা পেয়েই গেছি। পরবর্তী পরীক্ষানিরীক্ষা চলছে।” মাইক আরও বলেন, দ্বিতীয়বার ভাইরাসের জিনোম বিশ্লেষণ করে ১০০ শতাংশ নিশ্চিত হওয়া গেছে কীভাবে এই মারণ-ভাইরাসকে রোখা যাবে।
[caption id="attachment_182091" align="aligncenter" width="600"]
ডোহার্টি ইনস্টিটিউটের ডেপুটি ডিরেক্টর ড. মাইক ক্যাটন[/caption]
ডোহার্টি ইনস্টিটিউটের আরও এক মুখ্য গবেষক জুলিয়ান ড্রুসও রয়েছেন এই প্রজেক্টে। তিনি বলেছেন, “অস্ট্রেলিয়ার বিজ্ঞানীদের আবিষ্কার বড় চমক আনতে চলেছে। প্রাণঘাতী ভাইরাসের সংক্রমণ নির্মূল হবে পৃথিবী থেকে।”
[caption id="attachment_182092" align="aligncenter" width="600"]
ভাইরাস আইডেন্টিফিকেশন ল্যাবোরেটরির প্রধান ড. জুলিয়ান ড্রুস[/caption]
চিনের বায়ো-সেফটি ল্যাবের পরে প্রথম অস্ট্রেলিয়ার ল্যাবে তৈরি হল করোনাভাইরাস
এই নোভেল করোনাভাইরাস সত্যি পশুপাখির শরীরে জন্ম নেওয়া কোনও ভাইরাল-ইনফেকশন নাকি রাসায়নিক মারণাস্ত্র, সেই নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে আন্তর্জাতিক মহলে। চিনের উহান ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজির বায়ো-সেফটি লেভেল ৪ ল্যাবোরেটরিতে জৈব-রাসায়নিক প্রযুক্তিতে এই ভাইরাস তৈরি করা হয়েছে বলে ইতিমধ্যেই দাবি করেছেন ইজরায়েলের সেনা-গোয়েন্দা প্রধান ড্যানি শোহম ও ইজরায়েলি মাইক্রোবায়োলজিস্টরা। ওয়াশিংটন পোস্ট এই খবর সামনে আনার পরে হইচই শুরু হয়ে যায় আন্তর্জাতিক মহলে। প্রশ্ন ওঠে, তাহলে কি রাসায়নিক যুদ্ধের জন্য তৈরি হচ্ছে চিন? বায়ো-ওয়ারফেয়ারের জন্য এই ভাইরাসই কি তাদের মারণাস্ত্র? সার্স (SARS), ইবোলা, জাপানি এনকেফ্যালাইটিসের মতো অনেক মারণ-ভাইরাস তৈরির অভিযোগ ছিল এই বায়ো-সেফটি ল্যাবের বিরুদ্ধে। দাবি দীর্ঘদিন ধরেই অতি গোপনে নোভেল করোনা তৈরির প্রক্রিয়া চালাচ্ছিল তারা, যেখান থেকেই কোনওভাবে এই সংক্রমণ বাইরে ছড়িয়ে পড়ে।
ডোহার্টি ইনস্টিটিউটের ভাইরোলজি ল্যাবে প্রথম বানানো করোনাভাইরাস:
https://twitter.com/TheDohertyInst/status/1222232959375347713
অস্ট্রেলিয়ার বিজ্ঞানীদের দাবি, বায়ো-সেফটি ল্যাবের পরে প্রথম ডোহার্টি ইনস্টিটিউটের ভাইরাস আইডেন্টিফিকেশন ল্যাবোরেটরিতে নোভেল করোনাভাইরাস তৈরি করা হয়েছে। তবে মারণাস্ত্রের জন্য নয়, বিশ্বের উপকারের জন্যই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ডাক্তার-গবেষক মাইক ক্যাটন বলেছেন, ল্যাবোরেটরিতে সংরক্ষিত ভাইরাসের চালচলন দেখেই এই প্রতিষেধক বানানোর প্রক্রিয়া চলছে। কীভাবে এই প্রতিষেধক ভাইরাসকে শিকড় থেক নির্মূল করতে পারে তারই গবেষণা চলছে। সাফল্য ছুঁতে আর কয়েক কদমই বাকি।
কীভাবে চলছে কাজ মিডিয়াকে জানালেন বিজ্ঞানীরা:
https://twitter.com/unimelb/status/1222436776385695745
সার্স আর মার্সের তুতো ভাই নোভেল করোনা
ডাক্তার মাইক ক্যাটন ডোহার্টি ইনস্টিটিউটের প্যাথোলজি বিভাগেরও প্রধান। তিনি বলেন, শুধু বিটা ভাইরাস নয়, নোভেল করোনাভাইরাসের জিনোম বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে এই
2019-nCoV আদতে
সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটারি সিন্ড্রোম বা সার্স (SARS) এবং
মিডল ইস্ট রেসপিরেটারি সিন্ড্রোম বা মার্সের (MERS) তুতো ভাই। অর্থাৎ এদের সঙ্গে বিস্তর মিল নোভেল করোনাভাইরাসের। মাইকের মতো এই ভাইরাসও প্রাণঘাতী, তবে ইবোলার মতো বিধ্বংসী নয়। একে বাগে আনা সম্ভব।

অস্ট্রেলিয়ার বিজ্ঞানীদের দাবি, সিঙ্গল স্ট্র্যান্ডেড এই আরএনএ ভাইরাসের ছোবলে মৃত্যুর সম্ভাবনা ৩ শতাংশ, যেখানে সার্স অনেক বেশি প্রাণঘাতী। চিনের সিডিসি ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট, ইনস্টিটিউট অব প্যাথোজেন বায়োলজি এবং উহান জিনিইনটান হাসপাতালের গবেষকরা নোভেল করোনার পাঁচটি জিনোম আলাদা করে পরীক্ষা করছেন। একই পরীক্ষা হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার ডোহার্টি ইনস্টিটিউটের ভাইরোলজি ল্যাবেও। মাইক ক্যাটন এবং জুলিয়ান ড্রুস দু’জনেই বলেছেন, এই ভাইরাসকে রোখার প্রতিষেধক তৈরির পথে। খুব তাড়াতাড়ি অ্যান্টিবডি বানিয়ে ফেলা হবে।
ইতিমধ্যেই হংকং ইউনিভার্সিটির মাইক্রোবায়োলজিস্ট ইউয়েন কোক-ইয়াং বলেছেন, নোভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোখার টিকা নাকি তাঁরা বার করে ফেলেছেন। তবে মানুষের উপর সেই ভ্যাকসিনের প্রয়োগ এখনও হয়নি। তার জন্য আরও কিছু সময় লাগবে। হংকং না অস্ট্রেলিয়া—কে আগে এই প্রাণঘাতী ভাইরাসকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে, সেটাই এখন দেখার।