দ্য ওয়াল ব্যুরো : লকডাউনের ফলে কয়েক মাস ধরে ভারতে গাড়ি বিক্রি নেমে গিয়েছিল প্রায় শূন্যে। সেই সময় গাড়ির যে চাহিদা সৃষ্টি হয়েছিল, তার ওপরে ভর করে জুলাই-অগাস্ট মাসে ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে গাড়ির বাজার। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, মূলত চারটি কারণে দেশে গাড়ির বিক্রি বেড়েছে। প্রথমত, গ্রামীণ অর্থনীতি এবার ভাল অবস্থায় আছে। দ্বিতীয়ত, ব্যাঙ্কের সুদ কমেছে। তৃতীয়ত, গাড়ি কেনার জন্য টাকা ধার পাওয়া যাচ্ছে সহজে। চতুর্থত, ধীরে ধীরে অর্থনীতি আবার সচল হচ্ছে। বাড়ছে ব্যবসা-বাণিজ্য।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এখনই গাড়ির বিক্রি ব্যাপক বাড়বে না। কারণ গাড়ি শিল্পের পথে বাধা আছে যথেষ্ট। কিন্তু গাড়ি বিক্রি যে অল্প অল্প করে বাড়ছে, তাতে সন্দেহ নেই। যে সংস্থাগুলি গাড়ির যন্ত্রাংশ তৈরি করে, তাদেরও ব্যবসা বাড়ছে। ব্রোকারেজ ফার্ম মতিলাল অসওয়াল ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেস জানিয়েছে, দেশের কোথাও কোথাও এখনও ছোট এলাকা জুড়ে লকডাউন চলছে। কিন্তু গাড়ির যন্ত্রাংশ নির্মাতা সংস্থাগুলি ধীরে ধীরে পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিচ্ছে। ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য গাড়ি কেনার প্রবণতা বেড়েছে।
মতিলাল অসওয়াল জানাচ্ছে, শহরে টু হুইলার ও যাত্রীবাহী গাড়ি বিক্রি বেড়েছে। অনেকে করোনা সংক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য নিজের গাড়িতে যাতায়াত করা পছন্দ করছেন। শহরে এখন এমন অনেকে টু হুইলার কিনছেন, যাঁরা অতিমহামারী না হলে কিনতেন না। সাধারণভাবে গাড়ি কেনার আগ্রহ দেখাচ্ছেন অনেকে। কিন্তু শহরে ক্রেতারা এখন সতর্ক। কারণ করোনা পরিস্থিতিতে অর্থনীতির হাল শেষপর্যন্ত কী দাঁড়াবে, তা নিয়ে সন্দেহ আছে।
চলতি বছরে ভাল বৃষ্টি হয়েছে। ফসলের উৎপাদন বেড়েছে। গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা হওয়ায় বেড়েছে ট্রাক্টরের বিক্রি। ব্রোকারেজ ফার্ম এমকে গ্লোবাল সিকিউরিটিজ বলেছে, এসকর্টস ও মাহিন্দ্রা অ্যান্ড মাহিন্দ্রা এবার গত বছরের তুলনায় বেশি ট্র্যাক্টর বিক্রি করবে। এসকর্টসের বিক্রি বাড়বে ৫১ শতাংশ। মাহিন্দ্রা অ্যান্ড মাহিন্দ্রার বিক্রি বাড়বে ৩৩ শতাংশ। মতিলাল অসওয়ালের মতে, সামগ্রিকভাবে ট্র্যাক্টরের বিক্রি গত বছরের তুলনায় ৪৫ শতাংশ বাড়বে।
এমকে-র মতে, যাত্রীবাহী গাড়ির বিক্রিও চলতি বছর বাড়বে। তার ফলে লাভবান হবে মারুতি সুজুকি, টাটা মোটর্স, রেনল্ট, কিয়া মোটর্স এবং এমজি মোটর্সের মতো সংস্থা। দেশের বাজারে মারুতি সুজুকির বিক্রি বাড়বে ১৫ শতাংশ। অন্যদিকে মাহিন্দ্রা অ্যান্ড মাহিন্দ্রার যাত্রীবাহী গাড়ির বিক্রি ১৪ শতাংশ কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
এমকে-র মতে, দেশের বাজারে হিরো মোটোকর্পের টু হুইলার বিক্রি বাড়বে গত বছরের তুলনায় সাত শতাংশ বেশি। বাজাজ অটোর বিক্রি বাড়বে চার শতাংশ। অন্যদিকে টিভিএস মোটরের টু হুইলারের বিক্রি কমবে দুই শতাংশ। রয়াল এনফিল্ডের বিক্রি কমবে আট শতাংশ।