
শেষ আপডেট: 12 October 2023 19:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পুরুলিয়া: মাত্র দু'বছরের দাম্পত্য জীবনে টানাপড়েন শুরু হয়েছিল। তাই বিয়ে ভেঙে বেরিয়ে আসার কথা বলেছিলেন স্ত্রী। কিন্তু তার পরিণতি হয় ভয়ঙ্কর। স্ত্রী ও তাঁর মাসি-মেসোকে ছুরি মেরে খুনের চেষ্টার অভিযোগ উঠল স্বামীর বিরুদ্ধে। এই ঘটনা সাড়া ফেলে দিয়েছে চুঁচুড়ায়। ইতিমধ্যে অভিযুক্ত স্বামীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতের নাম জয়দীপ সিনহা। সে চুঁচুড়ার টালিখোলার বাসিন্দা। ২০২১ সালে মোগলটুলির বাসিন্দা দেবস্মিতা পালের সঙ্গে রেজিষ্ট্রি করে তাঁর বিয়ে হয়। এর আগে আট বছর ধরে দেবস্মিতা ও জয়দীপের প্রেমের সম্পর্ক ছিল।
পরিবারের দাবি, এতদিন ধরে এক অপরের সঙ্গে মেলামেশা থাকলেও বিয়ের পর থেকে দেবস্মিতার সঙ্গে জয়দীপের মধ্যে বনিবনা হচ্ছিল না। তাই জয়দীপের সঙ্গে বিয়ে ভাঙতে চাইছিলেন দেবস্মিতা। তিনি একটি বেসরকারি সংস্থায় চাকরি করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন,বৃহস্পতিবার চুঁচুড়া মিলন পল্লীতে মাসি সীমা বসুর বাড়িতে গিয়েছিলেন দেবস্মিতা। সেখানে তার পিছু নেয় জয়দীপ। জোর করে বাড়িতে ঢোকে সে। দেবস্মিতার মেসো অভিজিৎ বসু জয়দীপকে ছাদে নিয়ে যান কথা বলার জন্য। সেখানে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এই সময় জয়দীপ অভিজিৎবাবুর গলায় ছুরি চালিয়ে দেয়। দেবস্মিতা ও তার মাসি তখন নীচের ঘরে ছিলেন। চিৎকার শুনে তারা অভিজিৎবাবুকে বাঁচাতে গেলে তাদের উপরও ছুরি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পরে অভিযুক্ত। তিনজনকে জখম করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে ধরে ফেলে।
এরপরেই পুলিশকে খবর দেন তাঁরা। চুঁচুড়া থানার পুলিশ মিলনপল্লীর বাড়ি থেকে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে। আহত তিনজনকে চুঁচুড়া ইমামবাড়া হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করেন। দেবস্মিতার মেসো অভিজিৎ বসুর অবস্থা আশঙ্কাজনক।
জানা গিয়েছে, এদিনই পুরুলিয়া থেকে ঘুরে বাড়ি ফেরেন দেবস্মিতা ও জয়দীপ। দেবস্মিতার অভিযোগ, বেশ কিছুদিন ধরেই তাঁকে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করছিল জয়দীপ। তাই বিয়ে ভাঙতে চাইছিলেন দেবস্মিতা।
দেবস্মিতার মাসি সীমা বসু বলেন, ছেলেটি তাঁদের বাড়ি আসত। এদিন ছুরি নিয়ে এসেছিল। তাঁর বোনঝি ও জয়দীপের মধ্যে কোনও সমস্যা হয়েছিল। সেই বিষয়ে আলোচনার জন্যই অভিজিৎবাবু জামাইকে নিয়ে ছাদে গিয়েছিলেন। সেখানেই অভিযুক্ত তাঁর স্বামীকে ছুরি মারে।