
বিয়েতে নারাজ ছাত্রীকে ছুরির কোপ! প্রতীকী ছবি।
শেষ আপডেট: 14 June 2024 14:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তাঁর 'অপরাধ' বিয়ের পরিবর্তে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। অভিযোগ, তার জেরেই আক্রমণ নেমে এসেছিল হুগলি জেলার চন্ডীতলা থানা এলাকার শ্যামসুন্দর গ্রামের মেয়েটির ওপর।
এমনকী ওই ছাত্রীর পড়াশোনা আটকাতে স্থানীয় পঞ্চায়েতে বসেছিল সালিশি সভাও! নাছোড় মেয়ে অবশ্য ভর্তি হয়েছিল কলকাতার হাজরা ল কলেজে। অভিযোগ, সেখানেও পৌঁছে গিয়েছিল দুষ্কৃতীরা। ছুরি দিয়ে মেয়েটির হাতও কেটে দেওয়া হয়। বিচার চেয়ে বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল ছাত্রীটি।
শুক্রবার ওই মামলায় চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের ডেপুটি কমিশনার পদমর্যাদার আধিকারিককে দিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিলেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা।
ঘটনায় হুগলি গ্রামীণ পুলিশের বিরুদ্ধে দুষ্কৃতীদের আড়াল করার অভিযোগ উঠেছে। আদালতের নির্দেশে স্পষ্টভাবে একথাও বলা হয়েছে, এই ঘটনায় হুগলি গ্রামীণ পুলিশ সুপার বা স্থানীয় পঞ্চায়েত যেন কোনওভাবেই তদন্তে হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা না করে।
এদিন মামলার শুনানিতে ছাত্রীর আইনজীবী শামীম আহমেদ আদালতে বলেন, নিরাপত্তা চেয়ে মেয়েটি পুলিশের দ্বারস্থ হলেও স্থানীয় থানা বা জেলা পুলিশ কোনও পদক্ষেপ করেনি। উল্টে বারে বারে দুষ্কৃতীদের হামলা-হুমকির মুখে পড়তে হয়েছে মেয়েটিকে। এমনকী এ ব্যাপারে মেয়েটির পরিবার হুগলি গ্রামীণ পুলিশ সুপারের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও কোনও সাহায্য মেলেনি। উল্টে বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় পঞ্চায়েত সালিশি সভা ডেকে সমস্যা মিটিয়ে নেওয়ার জন্য চাপ তৈরি করেছিল।
এরপরই বিচারপতি জানান, এই মামলায় হুগলি গ্রামীণ পুলিশ সুপার বা তার অধস্তন পুলিশকর্মীরা কোনভাবেই যুক্ত থাকতে পারবেন না। গোটা ঘটনা তদন্ত করবেন চন্দননগর পুলিশ কমিশনের ডেপুটি পুলিশ কমিশনার পদমর্যাদা আধিকারিক।