
শেষ আপডেট: 13 January 2024 17:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুরু হয়ে গেছে গঙ্গাসাগরের মেলা। দূর-দূরান্ত থেকে পুণ্যার্থীরা এসে ভিড় করতে শুরু করেছেন এখানে। দলে দলে আসছেন সাধু-সন্ন্যাসীরা। তেমনই তিনজন সাধু উত্তরপ্রদেশ থেকে গঙ্গাসাগরে আসছিলেন। শুক্রবার সন্ধেয় গঙ্গাসাগর যাওয়ার পথে পুরুলিয়াতে উত্তেজিত জনতার হাতে আক্রান্ত হন তিনজনই। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তাল রাজ্য-রাজনীতি। এই আবহে আক্রান্ত এক সাধুর মুখে শোনা গেল পুলিশের ভূয়সী প্রশংসা। মধু মহারাজ বলেন, 'সময়মতো পুলিশ না এলে মরেই যেতাম!'
উত্তরপ্রদেশের বরেলি থেকে দুই ছেলেকে নিয়ে গঙ্গাসাগরে আসছিলেন মধু মহারাজ। একটি ভাড়া গাড়িতে চেপে অন্যান্যদের সঙ্গে গঙ্গাসাগর যাচ্ছিলেন তাঁরা। কিন্তু পুরুলিয়ার কাশিপুর থানা এলাকায় পৌঁছতেই বিপত্তি ঘটে। মধু মহারাজের কথায়, 'তিনজন মহিলা আমাদের গাড়ি থামিয়ে কিছু একটা জিজ্ঞেস করছিলেন। কিন্তু তাঁদের ভাষা কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। আমরাও আমাদের ভাষায় কিছু বলছিলাম। হঠাৎই মহিলারা চিৎকার করতে শুরু করেন। তাঁদের চিৎকার শুনে অনেক মানুষ ভিড় করেন। তারপর আমাদের গাড়ি থেকে নামিয়ে মারধর শুরু করে।'
মহারাজ আরও বলেন, পুলিশ যদি দু'পাঁচ মিনিট দেরি করত তবে আর প্রাণ নিয়ে বেঁচে ফেরা হত না। ঘটনার পর পুলিশ তিন সাধুকে উদ্ধার করে কাশিপুর থানায় নিয়ে আসে। সেখানেই প্রাথমিক চিকিৎসা করানো হয়। আক্রমণকারীদের বিরুদ্ধে এফআইআর করতে চান কিনা মধু মহারাজকে জিজ্ঞেসও করা হয়। কিন্তু তিনি জানান যে, কোনও লিখিত অভিযোগ করে না। কাউকেই চেনেন না। যা ঘটার ঘটে গেছে। এখন আর তা নিয়ে বেশি ঝঞ্ঝাটে যেতে রাজি নন, মধু মহারাজ।
শুক্রবারের এই ঘটনার পর থেকেই আসরে নেমেছে বিজেপি। পুরুলিয়ার বিজেপি সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাত বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে সাধুরা আর নিরাপদ নন। এখানে এখন গুন্ডারাজ চলছে। গেরুয়া পোশাকে সাধুদের দেখলেই মারধর করছে তারা। কোনও কারণ ছাড়াই উত্তরপ্রদেশ থেকে আসা এই সাধুরা গণরোষের শিকার হলেন।' তিনি সরাসরি তৃণমূলের দিকে আঙুল তুলেছেন।
পাল্টা তৃণমূলও জবাব দিয়েছে। রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা বলেন, 'বিজেপি সবসময় কুৎসা ও বিভ্রান্ত করার জন্য আগ বাড়িয়ে আছে। পুরুলিয়ার ঘটনা নিয়ে বিজেপি মানুষকে ভুল বোঝাচ্ছে।' তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, 'উত্তরপ্রদেশের ওই সাধুই তো পুলিশের প্রশংসা করেছেন। পুলিশ এখানে অত্যন্ত দ্রুত পদক্ষেপ করেছে।' কুণাল এদিনের টুইটে টেনে এনেছেন ১৯৮২ সালে বিজন সেতুর ওপর আনন্দমার্গীদের ওপর হামলার ঘটনাকে।
পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ১২ জন গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ভাষাগত সমস্যার কারণে বিভ্রান্তের সৃষ্টি হয়। পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে তদন্ত করছে। ওই তরুণীরা সাধুদের কাছে ক্ষমাও চেয়েছেন।