দ্য ওয়াল ব্যুরো: আইএসএলে হায়দরাবাদকে ২-১ গোলে হারিয়ে এটিকে মোহনবাগান লিগ তালিকায় চারে উঠে এসেছে। বড় কোচ কাকে বলে বুঝিয়ে দিচ্ছেন দলের কোচ জুয়ান ফার্নান্দো। এই তরুণ স্প্যানিশ কোচ বড় ম্যাচের নায়ক কিয়ান নাসিরিকে ব্যবহার করেননি। রয় কৃষ্ণও ছিলেন না প্রথম একাদশে। বাদ পড়েছিলেন সন্দেশ জিঙ্ঘানও।
তারপরেও কোচ দলকে এমনভাবে সাজিয়েছেন, বিপক্ষ কোচ কোনও পরিকল্পনা আগে থেকে করে রাখতে পারেননি। বরং মনবীরকে দায়িত্ব দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন তাঁর ওপরও তিনি ভরসা করতে পারেন। সেই মনবীরই শেষ গোলটি করে দলের জয়ে বড় ভূমিকা নিলেন। তবে ম্যাচে মোহনবাগান যেভাবে গোল মিস করেছে, সেটি চিন্তার বিষয়। গোল মিস না করলে পাঁচ গোলে জিততে পারত সবুজ মেরুন দল।
খেলার প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ঝাঁজ আরও বাড়ায় সবুজ-মেরুন ব্রিগেড। ৫৬ মিনিটে উইলিয়ামসের বাড়ানো বল থেকে সোলো রানে টাইট অ্যাঙ্গেল থেকে দুর্দান্ত গোল করে দলকে এগিয়ে দেন লিস্টন। গোল করে লিস্টন রিজার্ভ বেঞ্চে দলের গোলরক্ষক অভিলাষ পালের দিকে ছুটে যান। অভিলাষের হাঁটুতে চোট রয়েছে, তাঁকে মানসিকভাবে চাঙ্গা করার জন্যই লিস্টনের এমন উদ্যোগ। সকলের নজর কেড়েছে তাঁর এই উচ্ছ্বাস।
আইএসএলের শীর্ষে থাকা হায়দরাবাদ এফসি–র বিরুদ্ধে লড়াইটা সহজ ছিল না এটিকে মোহনবাগানের। বিপক্ষে ছিলেন বার্থেলেমেউ ওগবেচের মতো স্ট্রাইকার। তা সত্ত্বেও গুটিয়ে থাকেনি সবুজমেরুণ ব্রিগেড। ম্যাচের শুরু থেকেই হায়দরাবাদ এফসি–র ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। ১৮ মিনিটে এগিয়েও যেতে পারত এটিকে মোহনবাগান।
https://twitter.com/IndSuperLeague/status/1491101693773500416
লিস্টন কোলাসোর পাস থেকে বল পেয়ে গোল লক্ষ্য করে দুর্দান্ত শট নেন হুগো বোমাস। তাঁর সেই শট ততোধিক তৎপরতার সঙ্গে বাঁচিয়ে দেন হায়দরাবাদ গোলকিপার লক্ষীকান্ত কাট্টিমানি। ২৪ মিনিটে বার্থেলেমেউ ওগবেচের শট বাঁচিয়ে এটিকে মোহনবাগানের পতন রোধ করেন অমরিন্দার সিং। প্রথমার্ধে জুয়ান ফেরান্দোর দলের আধিপত্য বেশি থাকলেও হায়দরাবাদ এফসি গোল করার মতো সুযোগ বেশি পেয়েছিল। তবে কাজে লাগাতে পারেনি।
দ্বিতীয়ার্ধেও দুই দল আক্রমণাত্মক মেজাজে শুরু করেছিল। লিস্টনের গোলের ৩ মিনিট পর ব্যবধান বাড়ায় এটিকে মোহনবাগান। জনি কাউকোর কাছ থেকে বল পেয়ে মনবীর ২–০ করেন।
৬৭ মিনিটে ব্যবধান কমায় হায়দরাবাদ এফসি। জোয়াও ভিক্টরের দুরপাল্লার শট এটিকে মোহনবাগান অমরিন্দার সিংয়ের হাত থেকে বেরিয়ে এলে সেই বল জালে ঠেলে দেন জোয়েল চিয়ানিস। সমতা ফেরানোর জন্য ম্যাচের শেষদিকে আক্রমণের ঝাঁঝ বাড়ায় হায়দরাবাদ। সুযোগ পেলেও কাজে লাগাতে পারেনি। হায়দরাবাদকে হারিয়ে ১৩ ম্যাচে ২৩ পয়েন্ট পেয়ে লিগ টেবিলে চতুর্থ স্থানে উঠে এল এটিকে মোহনবাগান।