
শেষ আপডেট: 23 April 2023 14:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১৫ এপ্রিলের রাতের কথা হয়তো অনেকেই ভুলবেন না। উত্তরপ্রদেশের মাটিতে পুলিশের ঘেরাটোপে খুন হয়ে যান কুখ্যাত গ্যাংস্টার আতিক আহমেদ (Atiq Ahmed Murder) ও তাঁর ভাই আশরাফ। দাবানলের মতো খবরটা ছড়িয়ে পড়ে। শুরু হয় রাজনৈতিক তরজা। যোগী রাজ্যে আইনি শাসন তলানিতে চলে গেছে বলে আওয়াজ তুলছেন বিরোধীরা। কিন্তু এতকিছুর মধ্যেই কয়েকজন মানুষ আছেন যাঁরা আতিকের জমানা শেষ হওয়ায় ভগবানকে ধন্যবাদ দিচ্ছেন!
সেই তালিকায় আছেন প্রয়াগরাজের ঝালওয়া এলাকার রামকালি কুশওয়াহার নামে এক প্রৌঢ়া। আতিকের সঙ্গে ৩৫ বছরের লড়াই যে এভাবে এক রাতে শেষ হয়ে যাবে তা কল্পনাও করতে পারেননি তিনি। গ্যাংস্টার আতিকের অত্যাচারের অতিষ্ঠ হয়ে ওঠা মানুষের সংখ্যা কম নেই প্রয়াগরাজে। তাঁদের মধ্যেই একজন হলেন রামকালী।
কিন্তু আতিকের সঙ্গে দ্বন্দ্ব কীসের ছিল রামকালীর? একটি সংবাদমাধ্যমে নিজের ৩৫ বছরের লড়াইয়ের কথা বলতে গিয়ে বারবার রামকালীর গলা কান্নায় ভারী হয়ে আসছিল। এই আতিকের রোষের মুখে পড়ে তিনি তাঁর স্বামী-সন্তানকে হারিয়েছিলেন। সেই দুঃখ আজও বুকের মধ্যে চেপে রেখে ছিলেন রামকালি। আতিক মরে গেলেও তাঁর ত্রাস আজও তাড়া করে তাঁকে।
রামকালীর জীবনের গল্প জানতে হলে ফিরে যেতে হবে সেই আটের দশকের শেষের দিকে। বিবাদের শুরু একটি ১২ বিঘা জমিকে কেন্দ্র করে। ঝালওয়াতে ইন্ডিয়ান অয়েল ডিপোর বিপরীতেই ছিল এই জমি। খাতায় কলমে এই জমির মালিক রামকালীর পরিবার। কিন্তু আতিক সেই জমি কিনতে চান!
আতিককে জমি বিক্রির কোনও আগ্রহ দেখায়নি কুশওয়াহার পরিবার। রামকালীর কথায়, ওই জমি কিনতে চায় বলে আতিক প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু জমি বিক্রি করার কোনও ইচ্ছে ছিল না। সেই কথা জানানও হয় আতিককে। এই প্রত্যাখ্যান মেনে নিতে পারেননি আতিক। প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি আসতে শুরু করে।
তিনি আরও বলেন, আতিক ও তাঁর ভাইয়ের কাছ থেকে হুমকি একটা নিয়মিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু সেইসব হুমকি তেমন গুরুত্ব দেননি রামকালী। পৈতৃক ভিটে বিক্রি করতে নারাজ থাকেন তিনি। তার পরিণতি হয় ভয়ঙ্কর। সে কথা বলতে গিয়েই কেঁপে ওঠেন ৬০ ছুঁইছুঁই রামকালী।
১৯৮৯ সালের একদিন তাঁর স্বামী ব্রিজমোহন কুশওয়াহা কাজে বেরিয়ে আর বাড়ি ফিরে আসেননি। এটা যে রামকালীকে জমি বিক্রি করতে চাপ দেওয়ার একটা কৌশল বুঝতে পেরে থানায় ছোটেন তিনি। রামকালির কথায়, 'আমি ধুমনগঞ্জ থানায় আতিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করতে যাই। কিন্তু আতিকের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ নিতে চায়নি সেই সময় পুলিশ। আমাকে সাহায্য করার বদলে তাড়িয়ে দিয়েছিল।'
সেই বছরই প্রথম বিধানসভা নির্বাচনে জিতে বিধায়ক হন আতিক। গ্যাংস্টার থেকে রাজনৈতিক জীবনে প্রবেশ করেন। সেই সঙ্গে সকলের ধরা ছোঁয়ার বাইরে বেরিয়ে যান আতিক। রামকালী বলেন, 'সেই সময় আমাকে ফোন করে আতিক জানিয়েছিলেন, আমার স্বামী আর বেঁচে নেই।'
কিন্তু তখনও সেই জমির লোভ ছাড়তে পারেননি আতিক। ফোনেই রামকালীকে জানান, যদি ওই ১২ বিঘা জমি তাঁকে দিয়ে দেন তো বাকি জীবন রামকালীর দেখাশোনার দায়িত্ব সেই নেবে। স্বামীকে হারিয়েও নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থেকেছেন রামকালী।
১৯৮৯ থেকে ২০১৬ সাল, বারবার আতিক ও তাঁর লোকেদের থেকে হুমকি এসেছে। পরিবারের বহু লোক শেষ হয়ে গেছে আতিকের সন্ত্রাসের কারণে। তবে আতিকের সন্ত্রাসের কাছে মাথা নত করেননি রামকালী। তিনি প্রতিজ্ঞা করেন, 'জীবন থাকতে এই ইঞ্চি জমিও ছেড়ে দেবেন না আতিককে।' ২০১৬ সালে আতিকের হামলায় গুলির আঘাতে আহত হন রামকালীর ছেলে।
সেই রামকালী আজ ফের নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখছেন। শুধু রামকালী একা নন, একই স্বপ্ন দেখছেন আরও অনেকে। যাঁরা এতদিন আতিক ও তাঁর গ্যাংয়ের ভয়ে কুঁকড়ে থাকতেন, তাঁরাই আজ মাথা তুলছে। দু'হাত জড়ো করে আকাশের দিকে তাকিয়ে ভগবানকে ধন্যবাদ দিচ্ছেন।
আগামী পাঁচ দিন থামবে তাপপ্রবাহ, দেশের নানা প্রান্তে বৃষ্টির পূর্বাভাস! কী বলছে আইএমডি-র রিপোর্ট