
শেষ আপডেট: 20 April 2023 10:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সাংবাদিক সেজে, মিডিয়ার লোকেদের ভিড়ের মধ্যে মিশে, পুলিশি ঘেরাটোপে থাকা আতিক আহমেদ ও আশরাফ আহমেদের একেবারে কাছে চলে এসেছিল তিন আততায়ী (Atiq Ahmed Killers)। তার পরেই পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক থেকে মাথায় গুলি, নাটকীয় হত্যা। গত শনিবার থেকে যে হত্যাকাণ্ড নিয়ে তুলকালাম চলছে উত্তরপ্রদেশে তথা গোটা দেশে।
তিন ঘাতক লাভলেশ তিওয়ারি, অর্জুন মৌর্য এবং সানি সিংহ খুন করার পরেই জয়শ্রীরাম স্লোগান দেয় সেখানে এবং তার পরে আত্মসমর্পণ করে পুলিশের কাছে। জেরা চলছে তাদের। সেই জেরা করতে গিয়ে এবার উত্তরপ্রদেশ পুলিশ দাবি করল, রীতিমতো পরিকল্পনা করেই মাঠে নেমেছিল তারা, এমনকি রিপোর্টার এবং ক্যামেরাম্যান হিসেবে নিখুঁত অভিনয় করার জন্য ট্রেনিংও নিয়েছিল (Crash Course In Reporting)!
পুলিশ জানিয়েছে, স্থানীয় একটি নিউজ পোর্টালে কাজ করা তিন জন সাংবাদিক ওই তিন অপরাধীকে রীতিমতো ক্র্যাশ কোর্স করিয়েছেন। ঘটনার পরে তাঁরা তিন জন উত্তরপ্রদেশের বান্দায় গিয়ে আত্মগোপন করে ছিলেন, সেখান থেকে ওই তিন জন সাংবাদিকে গ্রেফতারও করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, তাঁরা যে সাংবাদিকতা শেখাচ্ছিলেন তিন দুষ্কৃতীকে, সেই সংক্রান্ত বেশ কিছু তথ্যপ্রমাণও মিলেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, কীভাবে ক্যামেরা ধরতে হয়, কীভাবে বুম ধরতে হয়, কীভাবে সাক্ষাৎকার নিতে হয়, এই সমস্ত জিনিস যাতে রিপোর্টার-সুলভ হয়, তার সবই শিখিয়ে দেওয়া হয়েছিল লাভলেশদের।
গত শনিবার রাত সাড়ে দশটা নাগাদ প্রয়াগরাজের জেল থেকে কোলভিন হাসপাতালে স্বাস্থ্যপরীক্ষার জন্য নিয়ে আসা হচ্ছিল উমেশ পাল হত্যা-সহ একাধিক অভিযোগে অভিযুক্ত গ্যাংস্টার আতিক আহমেদ এবং তাঁর ভাই আশরাফকে। সে সময়েই হাসপাতালের বাইরে গাড়ি রেখে তাঁদের নামানো হয়, সঙ্গে ছিলেন ২০ জন সশস্ত্র পুলিশকর্মী। তখনই সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা এগিয়ে আসেন কথা বলার জন্য। সেই ভিড়ে মিশে ছিল ওই তিন ছদ্মবেশী সাংবাদিকও অর্থাৎ তিন আততায়ীও। তাদের সঙ্গে ছিল অন্যদের মতোই ক্যামেরা এবং বুম। সে কারণেই কারও সন্দেহ না ঘটিয়ে একেবারে কাছে গিয়ে আতিকদের খুন করতে পারে তারা।
শহিদ হয়েছেন গ্যাংস্টার আতিক-আশরাফ, পোস্টারে ছেয়ে গেছে মহারাষ্ট্রের মাজালগাঁও