রোটাং টানেল খুলবে আগামী মাসে, সারা বছরই যোগাযোগে থাকবে লাহুল-স্পিতি
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অবশেষে কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে রোটাং টানেল বা অটল টানেলের। হিমাচল প্রদেশের মানালি থেকে কেলং যাওয়ার জন্য ৩২০০ কোটি টাকার এই প্রকল্পটি উদ্বোধন করতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সব ঠিক থাকলে আগামী মাসেই খুলে যাবে টানেল। মূলত
শেষ আপডেট: 31 August 2020 01:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অবশেষে কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে রোটাং টানেল বা অটল টানেলের। হিমাচল প্রদেশের মানালি থেকে কেলং যাওয়ার জন্য ৩২০০ কোটি টাকার এই প্রকল্পটি উদ্বোধন করতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সব ঠিক থাকলে আগামী মাসেই খুলে যাবে টানেল। মূলত সেনা-পরিবহণের জন্য এই টানেলের পরিকল্পনা করা হলেও, পর্যটক এবং স্থানীয় মানুষরাও এই টানেল ব্যবহার করতে পারবেন।
ভারতীয় সেনা এবং বর্ডার রোড অর্গানাইজেশনের পরিশ্রমে এবং উদ্যোগে প্রকল্পটি সফল হয়েছে গত কয়েক বছর ধরে কাজ চলার পরে। ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ এই টানেলের ফলে মানালি থেকে কেলংয়ের দূরত্ব ১১৫ কিলোমিটার থেকে কমে ৬৬ কিলোমিটার হয়ে যাবে।

৯ কিলোমিটার দীর্ঘ এই টানেলটি হবে বিশ্বের দীর্ঘতম টানেল। সমুদ্রতল থেকে ১০ হাজার ফিটের গড় উচ্চতায় অবস্থিত এই টানেলে প্রতি দিন তিন হাজার গাড়ি, বাস যেতে পারবে। ২০০০ সালের ৩ জুন এই টানেল তৈরি করার কথা প্রথম ঘোষণা করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ী। সেই কারণেই এই টানলের নামও অটল টানেল রাখা হয়েছে।
তবে তার অনেক আগে, ১৯৮৩ সালে এই টানেল তৈরি করার পরিকল্পনা প্রথম মাথায় এসেছিল ইন্দিরা গান্ধীর। এর পরে ২০০৯ সালের সেপ্টেম্বরে এই টানেলের কাজ শুরু করার প্রক্রিয়া শুরু হয়। শেষমেশ ২০১১ সালে এই টানেল খোঁড়ার কাজ শুরু হয়।

হিমাচল প্রদেশের ভূ-রাজনৈতিক মানচিত্রে এই টানেলটির ভূমিকা অপরিসীম। বছরের একটা বড় সময় রোটাং পাস বরফের কারণে বন্ধ থাকে। তার ফলে লাহুল ও স্পিতি উপত্যকা গোটা দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। অতি জরুরি প্রয়োজনে অনেক সময়ে হেলিকপ্টার করেও যাতায়াত করতে হয় স্থানীয় বাসিন্দাদের। এই টানেলের ফলে বছরের যে কোনও সময়ে লাহুল-স্পিতি যাওয়া আসা সহজ হয়ে যাবে।
শুধু তাই নয়। চিনের সঙ্গে ভারতের সাম্প্রতিক দ্বন্দ্বেও এই টানেলের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে চিন সীমান্ত থেকে খুব সহজেই সেনাকে সরিয়ে নেওয়া যাবে। পাশাপাশি, এই টানেলের কারণে এখন গভীর শীতেও মানালি থেকে কেলং যেতে পারবেন পর্যটকরা। ১৩ হাজার ৫১ ফুট উচ্চতার রোটাং পাস এবার থেকে শুধু পর্যটন কেন্দ্র হয়ে থেকে যাবে, যাতায়াতের আবশ্যক উপায় নয়।