
শেষ আপডেট: 1 March 2020 18:30
ভিএলও ও এলএমএ টেলিস্কোপে ধরা পড়েছে একরত্তি তারাদের ঘিরে ডিস্কের মতো আকার নিয়েছে গ্যাসীয় পিণ্ড। একে বলে প্রোটোপ্ল্যানেটরি ডিস্ক (Protoplanetary Disk) । ন্যাশনাল রেডিও অ্যাস্ট্রনমি অজারভেটরি (NRAO) জানিয়েছে, প্রতিটি তারাকেই ঘিরে রেখেছে এই ডিস্ক। ঠিক যেন দুগ্ধপোষ্যদের বাঁচানো হচ্ছে মহাশূন্যের অজানা বিপদ থেকে।
ন্যাশনাল রেডিও অ্যাস্ট্রনমির বিজ্ঞানীরা বলছেন, গ্যালাক্সির মধ্যে শক্তিশালী অভিকর্ষজ বলের টানে ঘন থকথকে হয়ে জমাট বেঁধে থাকে গ্যাসীয় স্তরেরা। এই ঘন গ্যাসীয় পিণ্ড থেকেই খাবার সংগ্রহ করে কচি তারারা। গ্যাসের ও জমাট বাঁধা ধুলোর স্তর থেকে পুষ্টি নিয়েই আড়েবহরে বাড়তে থাকে খুদে তারারা। পৌঁছয় তাদের কৈশোরে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ওরিয়ন কমপ্লেক্সের এই গ্যাসীয় বলয় অনেকটাই বেশি ঘন। প্রায় ৩০০ সদ্যোজাতের পুষ্টির জোগান দিতে ঘন ডিস্কের মতো ঘিরে রয়েছে নক্ষত্রমণ্ডলকে।
সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হল, এই কচি তারারা খুব দ্রুত বড় হয়ে উঠছে। আর তাদের চারপাশে জমাট বাঁধা গ্যাসীয় স্তর থেকে জন্ম হতে শুরু করেছে গ্রহদের।
‘স্ট্র্যাটোস্ফেরিক অবজারভেটরি ফর ইনফ্রারেড অ্যাস্ট্রোনমি সায়েন্স সেন্টার’ (SOFIA)-এর জ্যোতির্বিজ্ঞানী নিকোলে কারনাথ বলেছেন, ‘‘এমন আজ কাণ্ডকারখানা খুব বিরল। এই তারারা একেবারেই কচি। তাদের ঘিরে গ্যাসের স্তর খুব ঘন। তবে সবচেয়ে ছোট তারার বয়স প্রায় দশ হাজার বছর।’’
২০১৫ সালে আমাদের ছায়াপথ বা মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির মাঝে এমন ৩৫টি কচি তারার খোঁজ মিলেছিল। এত দিন মহাকাশ বিজ্ঞানীরা ভাবতেন, আমাদের ছায়াপথে নতুন কোনও ‘পড়শি’ আর আসবে না। যারা মিল্কি ওয়ের ‘বাসিন্দা’, তারা কয়েকশো কোটি বছর ধরেই রয়েছে। নতুন তারারা সব ধারণা ভেঙে দেয়। বিজ্ঞানীরা বলেছিলেন, ওই তারাদের বয়স বড়জোর দশ কোটি বছর। তাদের মধ্যে সবচেয়ে সবচেয়ে কচি তারার বয়স আড়াই কোটি বছরের বেশি নয়।
বিজ্ঞানীরা বলেন, যে কোনও গ্যালাক্সি বুড়ো হলেও সন্তানের জন্ম দিতে পারে। সেক্ষেত্রে কোয়াসার বা কোয়েজারের ভূমিকা থাকে অনেক বেশি। এই কোয়াসার হল সুপার-ম্যাসিভ ব্ল্যাক হোল যা প্রত্যেক গ্যালাক্সিরই কেন্দ্রে থাকে। এর ভর আমাদের সূর্যের চেয়ে কয়েক লক্ষ কোটি গুণ বেশি। যে কোনও মহাজাগতিক বস্তু এই দৈত্যাকার ব্ল্যাকহোলের কাছে চলে এলে জোরালো অভিকর্ষজ বলের টানে তাকে কেন্দ্রের দিকে টেনে নেয়। তারপর গপাগপ চলে ভুরিভোজ। সেই সময় প্রচুর গ্যাসীয় কণা ও পদার্থ ছিটকে বেরোয়। প্রচণ্ড শক্তিশালী বিকিরণের জন্ম হয়। গরম জমাট বাঁধা গ্যাসের অত্যন্ত পুরু মেঘ তৈরি হয়। আর কোনও গ্যালাক্সিতে নতুন নতুন তারার জন্ম হওয়ার জন্য প্রয়োজন অনেক ঠান্ডা হয়ে আসা গ্যাস বা গ্যাসের মেঘ। কোনও পদার্থ যত ঠান্ডা হয়, ততই তা জমাট বাঁধতে থাকে। আর গ্যাসের পুরু মেঘ জমাট বেঁধেই জন্ম দেয় নতুন নতুন তারাদের। বিজ্ঞানীদের মতে, কোয়াসারের রং নীলাভ দেখা গিয়েছে মানেই বুঝতে হবে, সেই গ্যালাক্সিতে কোয়াসারের আশপাশে ঠান্ডা গ্যাস বা ধুলোবালির মেঘ জমে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে। সেই মেঘ থেকেই জন্ম হচ্ছে নতুন নতুন তারাদের।