টয়লেটে ভেঙে গেছে স্পেস স্টেশনে, ২০ ঘণ্টা ডায়াপার পরে থেকে পৃথিবীতে ফিরছেন নভশ্চররা
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বড় ঝামেলায় পড়ে গেছেন মহাকাশচারীরা (Astronauts)।
আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনের (ISS) টয়লেটই কিনা বিগড়ে গেছে। মহাকাশে পৃথিবীর চারদিকে চক্কর খাচ্ছে স্পেস স্টেশনে। মাধ্যাকর্ষণ বলে কিছুই নেই। লম্বা টানেলের মতো স্পেস স্টেশনে ভ
শেষ আপডেট: 6 November 2021 07:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বড় ঝামেলায় পড়ে গেছেন মহাকাশচারীরা (Astronauts)।
আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনের (ISS) টয়লেটই কিনা বিগড়ে গেছে। মহাকাশে পৃথিবীর চারদিকে চক্কর খাচ্ছে স্পেস স্টেশনে। মাধ্যাকর্ষণ বলে কিছুই নেই। লম্বা টানেলের মতো স্পেস স্টেশনে ভেসে ভেসেই থাকতে হয় নভশ্চরদের। ঘর বলতে এক চিলতে ছোট্ট জায়গা। খুপড়ি বাথরুম। সেখানেই কষ্ট করে প্রাকৃতিক কাজকর্ম সেরে নিতে হয়। সেই টয়লেটই কিনা ভেঙে গিয়ে বিপত্তি বাঁধিয়েছে। অগত্যা এখন পৃথিবীতে ফিরে আসতে হবে মহাকাশচারীদের। সেখানেও সময় লেগে যাবে প্রায় ২০ ঘণ্টা। এই সময় বেগ এলে চেপে রাখা ছাড়া গতি নেই। নিতান্তই খুব দরকার হলে ডায়াপার ভরসা। তাই এখন আপাতত ডায়াপার পরেই পৃথিবীতে ফিরে আসার চেষ্টা করছেন স্পেস স্টেশনের মহাকাশচারীরা।
পৃথিবীর ৪০০ কিলোমিটার কক্ষপথে থাকার জায়গা বানানো হয়েছে। এরই পোশাকি নাম আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশন। ভেতরটা লম্বা টানেলের মতো। শূন্য মাধ্যাকর্ষণেই থাকতে হয়। তাই ভেসে ভেসে, ঝুলে ঝুলে যাতায়াত করতে হয় নভশ্চরদের। স্পেস স্টেশনে বসেই মহাকাশ নিয়ে গবেষণা করেন মহাকাশচারীরা। শূন্য মাধ্যাকর্ষণ বা জিরো গ্র্যাভিটি নিয়েও চলে গবেষণা।

এই স্পেস স্টেশনে বেডরুম, রান্নাঘর, বাথরুম সব আছে। রান্না বলতে বেশিটাই প্যাকেট খাবার। মাছ, মাংস, ডিম, সব্জি সবই প্যাকেট করা, শুকনো খাবার। জল দিয়ে বানাতে হবে। কোনওটা আবার বানানোই আছে। গরম করে নিলেই খাওয়ার উপযোগী। দীর্ঘ সময় প্যাকেটবন্দি খাবার ছেড়ে এখন আবার টাটকা ফলমূল, শাকসব্জি খেতে চাইছেন নভশ্চররা। তাই স্পেস স্টেশনেই ফসল ফলানো হচ্ছে। মূলো, সবুজ-লাল লঙ্কার চাষ হয়েছে। তাই দিয়ে পছন্দের ডিশও রান্না হয়েছে।

আর বাথরুম বলতে ছোট্ট এক চিলতে একটা জায়গা, পর্দা দিয়ে ঢাকা। তবে এই টয়লেট কিন্তু আধুনিক ও ভীষণ খরচসাপেক্ষ। কারণ এখানে ‘ওয়েস্ট কালেকশন সিস্টেম’ আছে। বর্জ্য নিষ্কাশন করে স্পেস স্টেশন থেকে মহাশূন্যে ছেড়ে দেওয়ার পদ্ধতি সহজ নয়। এই টয়লেটের যে কমোড আছে তার নিজস্ব ‘সাকশন পাওয়ার’ আছে। এমনভাবেই বানানো যাতে মাধ্যাকর্ষণ না থাকলেও বর্জ্য এদিক ওদিক চলে যাবে না। এমন টয়লেট যদি আচমকা বিগড়ে যায় তাহলে সমস্যা হওয়ারই কথা। তবে টয়লেট তাড়াতাড়ি ঠিক করে ফেলা হবে বলেই জানিয়েছেন মহাকাশচারীরা।
পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা 'সুখপাঠ'