
শেষ আপডেট: 26 June 2020 18:30
অক্সফোর্ডের ডিএনএ ভেক্টর ভ্যাকসিন তথা ChAdOx1 nCoV-19 ভ্যাকসিন গবেষণার লাইসেন্স পেয়ে গিয়েছে তাদের সহযোগী সংস্থা অ্যাস্ট্রজেনেকা। শিম্পাঞ্জির শরীর থেকে নেওয়া কম সংক্রামক অ্যাডেনোভাইরাসকে নিষ্ক্রিয় করে তৈরি এই ভ্যাকসিন ক্যানডিডেট শরীরে গিয়ে বি-কোষ (B-Cell) ও টি-কোষকে (T-Cell) উদ্দীপিত করে পর্যাপ্ত অ্যান্টিবডি তৈরি করছে বলেই জানিয়েছে অক্সফোর্ডেন ভাইরোলজিস্ট সারা গিলবার্টের টিম। এই গবেষণা ও ট্রায়ালে অক্সফোর্ডের সঙ্গেই রয়েছেন জেন্নার ইনস্টিটিউটের গবেষকরা।
লেমানন ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ব্রাজিলে করোনার হটস্পট সাও পাওলো ও রিও ডি জেনিরোতে মোট ৩০০০ জনের উপরে অক্সফোর্ড ভ্যাকসিনের ট্রায়াল শুরু হয়েছে। তার মধ্যে ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী-সহ সাও পাওলোতে ২০০০ জন ও রিও ডি জেনিরোতে হাজার জনকে দেওয়া হচ্ছে অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন। ব্রাজিলের পরে দক্ষিণ আফ্রিকাতেও অক্সফোর্ড ভ্যাকসিনের ট্রায়াল চলছে। সে দেশের উইটওয়াটারস্র্যান্ড ইউনিভার্সিটি (উইটস)-র উদ্যোগে ও তত্ত্বাবধানে প্রাথমিক পর্যায়ে ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে ২০০০ জনকে। ক্লিনিকাল ট্রায়ালের জন্য মোট চার হাজার জনের নাম নথিভুক্ত করা হয়েছে।
অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন ছাড়াও ‘ক্লোনড অ্যান্টিবডি’নিয়ে কাজ করছে অ্যাস্ট্রজেনেকা
ব্রিটিশ-সুইডিশ ফার্ম অ্যাস্ট্রজেনেকা দাবি করেছে, ‘ক্লোনড’ অ্যান্টিবডি দিয়ে তারা এমন ইঞ্জেকশন বানিয়েছে যা দিয়ে রোগীর শরীরে সরাসরি অ্যান্টিবডি ইনজেক্ট করা যাবে।
গবেষকরা বলছেন, যখন কোনও সংক্রামক রাসায়নিক উপাদান যেমন ব্যাকটেরিয়া, প্যাথোজেন বা ভাইরাল প্রোটিন শরীরে ঢুকে আসে, তখন তার প্রতিরোধে দেহকোষে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়। এই অ্যান্টিবডি তৈরি হয় শ্বেত রক্তকণিকায় (White Blood Cells) । এই অ্যান্টিবডি মূলত তৈরি করে ‘বি লিম্ফোসাইট’ কোষ যাকে বি-কোষ (B Cells) বলে। অ্যান্টিজেনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে এই বি-কোষ তার অনেকগুলো প্রতিলিপি তৈরি করে ফেলে যাকে বিজ্ঞানের ভাষায় বলে ‘ক্লোনিং’ । এমন অজস্র কোষ থেকে লক্ষ লক্ষ অ্যান্টিবডি তৈরি হয় রক্তরসে। গবেষকরা বলছেন, একসঙ্গে বহুসংখ্যক অ্যান্টিবডি বা ‘পলিক্লোনাল অ্যান্টিবডি’ রক্ত থেকে ছেঁকে বার করার প্রক্রিয়া অনেক জটিল এবং সময়সাপেক্ষ। সেক্ষেত্রে একটি মাত্র বি-কোষ শনাক্ত করে তার থেকে তৈরি অ্যান্ডিবডি স্ক্রিনিং করে নেওয়া অনেক সহজ। এই অ্যান্টিবডিকে বলে ‘মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি’ । এই অ্যান্টিবডি স্ক্রিনিং করেই কাজ করছে অ্যাস্ট্রজেনেকা।
ভাইরোলজিস্টরা দাবি করেছেন, অ্যান্টিবডি সরাসরি রোগীর দেহকোষে ইনজেক্ট করতে পারলে খুব তাড়াতাড়ি রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে শরীরে। সংক্রমণ প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এমন রোগীদের উপরে এই অ্যান্টিবডি প্রয়োগ করলে ভাল ফল পাওয়া যাবে।