
ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 23 November 2024 19:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০১১ সালের পরিবর্তনের ঝড় হোক কিংবা ২০২৪ সালের লোকসভা ভোট। উত্তরবঙ্গের মাদারিহাট বিধানসভা বরাবরই তৃণমূলের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে রেখেছিল। এবারের উপ নির্বাচনে সেখানে উলটপুরাণ!
কোন অস্ত্রে মাদারিহাটে (West Bengal bypolls results 2024) জয় পেল তৃণমূল?
পর্যবেক্ষকদের মতে, 'চা বাগানের ভোট তাঁরাই পাবে', অতিরিক্ত এই আত্মবিশ্বাসী ডোবাল বিজেপিকে। তবে শুধু এই একটি কারণ নয়, শাসকের প্রার্থী নির্বাচন, বিজেপির কোন্দল, গেরুয়া শিবিরের প্রাক্তন সাংসদ জন বার্লার বেসুরো আচরণও তৃণমূলকে চা বাগানে জিততে সাহায্য করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে চা বাগানের উন্নয়নে রাজ্যের একাধিক প্রকল্পও পদ্ম শিবিরের ভোটকে তৃণমূলের অনুকুলে টানতে সাহায্য করেছে বলেই মনে করছেন অনেকে।
তৃণমূল প্রার্থী জয়প্রকাশ টপ্পোর কথায়, "গত ১০ বছর বিজেপি এখানে ক্ষমতায় থাকলেও চা বাগানের শ্রমিকদের সুখে-দুঃখে পাশে ছিল না। ওরা শুধু মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে গেছে। অন্যদিকে প্রচারে আমার মূল অস্ত্র ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়ন যজ্ঞ।"
জয়প্রকাশের দাবি, ইতিমধ্যে মাদারিহাটের তিনটি চা বাগানে ৭০০ চা সুন্দরী শ্রমিক আবাস তৈরি করা হয়েছে। তৃণমূলের আন্দোলনের ফলেই এখানকার চা শ্রমিকরা এখন প্রতিদিন ২৫০ টাকা মজুরি পাচ্ছেন। বাগানগুলিতে পানীয় জলের সমস্যা মেটানো হয়েছে। এগুলোই ভোট পেতে সাহায্য করেছে বলে মনে করেন তিনি।
তবে পরিসংখ্যানের দিকে চোখ রাখলে দেখা যায়, গত লোকসভা ভোটের সময় থেকেই মাদারিহাটে বিজেপির ভোটে থাবা বসিয়েছিল তৃণমূল। একদা আরএসপির শক্ত ঘাঁটিতে পদ্মফুলের সূচনা ২০১৬ সালে। ২০২১ সালে এই কেন্দ্র থেকে বিজেপির মনোজ টিগ্গা প্রায় ৩০ হাজার ভোটে জিতেছিলেন। ২ বছরের ব্যবধানে লোকসভা ভোটে সেই ব্যবধান কমে দাঁড়িয়েছিল ১১ হাজার।
বাড়তি অক্সিজেন জুগিয়েছে শাসকের প্রার্থী নির্বাচন। তৃণমূলপ্রার্থী জয়প্রকাশ ২০২১ সাল থেকে শুধু ব্লক সভাপতি নন, এলাকায় তাঁর জনসংযোগও যথেষ্ট নজরকাড়া। অন্যদিকে লোকসভা ভোটে টিকিট না পাওয়ায় দলের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করেছিলেন জন বার্লা। বিজেপির পরাজয়ের নেপথ্যে এটাও একটা বড় কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
পরাজয় প্রসঙ্গে বিজেপি প্রার্থী রাহুল লোহার বলেন, "মানুষ কেন আমাদের প্রত্যাখ্যান করল সেটা খতিয়ে দেখা হবে।"