দ্য ওয়াল ব্যুরো: হাফ ডজনেরও বেশি ডাক্তারের শরীরে ফের করোনার সংক্রমণ ধরা পড়েছে। প্রথমবার তাঁদের শরীরে মৃদু সংক্রমণ ধরা পড়েছিল। চিকিৎসায় সেরেও গিয়েছিল। ফের দ্বিতীয়বার কোভিড টেস্টের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। করোনার পুনঃসংক্রমণ বা রিইনফেকশন কিনা খতিয়ে দেখছে স্বাস্থ্য দফতর।
ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চের রিজিওনাল মেডিক্যাল সেন্টারের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, ডিব্রুগড় জেলার লাহোয়ালের বেশিরভাগ ডাক্তারই দ্বিতীয়বার করোনা আক্রান্ত হয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। পুনঃসংক্রমণ তখনই হয়, যখন করোনারই ভিন্ন ভাইরাল স্ট্রেন ফের শরীরে ঢোকে। এই ডাক্তারদের ক্ষেত্রেও তেমনটা হয়েছে কিনা জানতে প্রত্যেকের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।
আইসিএমআর জানাচ্ছে, অসম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ৬ জন ডাক্তার দ্বিতীয়বার কোভিড আক্রান্ত হয়েছেন। একই ঘটনা ঘটেছে গুয়াহাটি মেডিক্যাল কলেজেও। রাজ্যে স্বাস্থ্যসচিব সমীর সিনহা বলেছেন, পুনঃসংক্রমণ হয়েছে কিনা সেটা রক্তের নমুনা পরীক্ষার পরেই বোঝা যাবে। ভাইরাল স্ট্রেনের জিনোম বিশ্লেষণ করলেই বোঝা যাবে প্রথমবারের থেকে আলাদা অন্য কোনও ভাইরাল স্ট্রেন ঢুকেছে কিনা শরীরে। ডাক্তারদের রক্তে অ্যান্টিবডি কী পরিমাণে আছে সেটাও পরীক্ষা করা হচ্ছে।
অসম মেডিক্যাল কলেজের প্রিন্সিপাল ডক্টর এইচকে গোস্বামী বলেছেন, পুনঃসংক্রমণ নিয়ে সন্দেহ হচ্ছে কারণ ডাক্তাররা কোয়ারেন্টাইন পিরিয়ডে থাকার সময়েই ফের আক্রান্ত হয়েছেন। একজন ডাক্তারের সংক্রমণ ধরা পড়েছি ২৬ জুলাই। তারপর টেস্ট রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। ফের এখন তাঁর করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। গোস্বামী বলছেন, দু’মাসেরও কম সময় দ্বিতীয়বার সংক্রমণের ঘটনা বিরল। তবে যদি রক্তে অ্যান্টিবডির পরিমাণ খুব দ্রুত কমে গিয়ে থাকে তাহলে পুনঃসংক্রমণের সম্ভাবনা থেকেই যায়। এক্ষেত্রেও তেমনটা হয়েছে কিনা সেটা যাচাই করা হচ্ছে।
সম্প্রতি গুজরাতেও করোনার পুনঃসংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। তিনজন কমবয়সী ডাক্তার ও একজন ৬০ বছরের প্রৌঢ়ার শরীরে দ্বিতীয়বার ভাইরাসের সংক্রমণ হয়েছে। ডাক্তাররা বলছেন, ওই চারজন তিনমাসের মধ্যেই পুনঃসংক্রামিত হয়েছেন। তাজ্জবের ব্যাপার হল, একজনের রক্তেও অ্যান্টিবডির ছিটেফোঁটাও নেই।
দিনকয়েক আগেই বেঙ্গালুরুতে ২৭ বছরের এক তরুণীর শরীরে করোনাভাইরাসের রিইনফেকশন ধরা পড়ে। চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, তরুণীর জ্বর, কাশি ও গলা ব্যাথা ছিল। হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসার পরে সেরেও যান তিনি। পরপর রিপোর্ট নেগেটিভ আসায় তাঁকে ডিসচার্জ করে দেওয়া হয়। কিন্ত মাসখানের মাথায় ফের জ্বর ও অন্যান্য উপসর্গ দেখা দেয় তাঁর শরীরে। কোভিড পরীক্ষা করা হলে দেখা যায় আবারও ভাইরাল স্ট্রেন সক্রিয় তাঁর শরীরে। তেলঙ্গানার দুই স্বাস্থ্যকর্মীর সেরে ওঠার পরেও দ্বিতীয়বার ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন।
বিজ্ঞানীরা বলেছিলেন, রিইনফেকশন তখনই হবে যখন পরপর ভিন্ন ভাইরাল স্ট্রেন শরীরে ঢুকে সংক্রমণ ছড়াবে। আর সেটা তখনই সম্ভব হবে যখন রক্তে অ্যান্টিবডির পরিমাণ তলানিতে গিয়ে ঠেকবে। করোনা সংক্রমণের ক্ষেত্রে তেমনটাই হচ্ছে। করোনা সারালেও অ্যান্টিবডি রোগীর শরীরে বেশিদিন স্থায়ী হচ্ছে না। ভাইরাসের প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি থাকছে মাত্র তিন মাস। তার পরেই এক ধাক্কায় অ্যান্টিবডির পরিমাণ কমে যাচ্ছে। তাই একবার সংক্রমণের পরেও রোগীর ফের সংক্রামিত হওয়ার ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে।