দ্য ওয়াল ব্যুরো : অসমে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি থেকে বাদ গিয়েছেন ১৯ লক্ষ মানুষ। জাতীয় নাগরিকপঞ্জি বা এনআরসি নিয়ে বিতর্ক চলছে দেশ জুড়ে। এই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করল ধর্মীয় স্বাধীনতা সংক্রান্ত মার্কিন কমিশন। তারা বলেছে, সংখ্যালঘুদের আক্রমণ করার জন্য এনআরসি একটি যন্ত্র। তার উদ্দেশ্য মুসলিমদের রাষ্ট্রহীন করে দেওয়া।
কমিশন বলেছে, “ভারতে ও বিদেশে বহু সংগঠন ইতিমধ্যেই এনআরসি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তার উদ্দেশ্য অসমের বাঙালি মুসলিমদের নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত করা। নাগরিকত্বের ক্ষেত্রে ধর্মীয় পরিচয়কে গুরুত্ব দেওয়া। বহু সংখ্যক মুসলমানকে রাষ্ট্রহীন করে দেওয়া।”
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ২০১৩ সালে অসমে নাগরিকপঞ্জি সংশোধন শুরু হয়। রাজ্যের ৩ কোটি ৩০ লক্ষ মানুষকে প্রমাণ করতে হয়, তাঁরা ১৯৭১ সালের ২৪ মার্চের আগেও ভারতে বাস করতেন। চূড়ান্ত নাগরিকপঞ্জি প্রকাশিত হয় গত ৩১ অগস্টে। তাতে ১৯ লক্ষ মানুষের নাম বাদ যায়।
গত শুক্রবার মার্কিন কমিশন ‘ইস্যু ব্রিফ : ইন্ডিয়া’ নামে একটি রিপোর্ট পেশ করে। তাতে বলা হয়, এনআরসি-র মাধ্যমে যেভাবে মুসলিমদের রাষ্ট্রহীন করে ফেলার চেষ্টা হচ্ছে, তাতে বোঝা যায়, ভারতে ধর্মীয় স্বাধীনতা কমছে। এনআরসি প্রকাশিত হওয়ার পরে বিজেপি সরকার এমন কয়েকটি পদক্ষেপ নিয়েছে যাতে স্পষ্ট বোঝা যায়, তারা মুসলিম বিদ্বেষী।
বিংশ শতকের শুরু থেকেই প্রতিবেশী নানা রাজ্য থেকে অসমে লোকজন আসতে শুরু করে। স্বাধীনতার পরেও মানুষের আসা থামেনি। বাংলাদেশ থেকে বড় সংখ্যক হিন্দু ও মুসলমান মানুষ অসমে এসে বসবাস করেছেন। বিদেশ মন্ত্রকের তরফে বলা হয়, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি তৈরি হচ্ছে। শীর্ষ আদালত সরাসরি নাগরিকপঞ্জি তৈরির কাজ তদারক করছে। বিচারপতিরা যেমন বলছেন, সরকার সেই অনুযায়ী কাজ করছে মাত্র।