দ্য ওয়াল ব্যুরো : বিশ্ব জুড়ে একটি কুসংস্কার চালু আছে যে, গণ্ডারের শিং-এ নানা রোগ আরোগ্য হয়। বুধবার ছিল বিশ্ব গণ্ডার দিবস (Rhino Day)। সেই উপলক্ষে অসম সরকার এদিন ২৪৭৯ টি গণ্ডারের সিং পুড়িয়ে দিল। তার মধ্যে অনেকগুলি শিং চোরাশিকারিদের থেকে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। গণ্ডারদের স্বাভাবিক মৃত্যুর পরেও সংগ্রহ করা হয়েছে অনেক শিং। কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যানের বোকাখাট অঞ্চলে চারটি লোহার চিতায় শিংগুলি পোড়ানো হয়।
২০১৮ সালের হিসাব অনুযায়ী, কাজিরাঙায় রয়েছে ২৪০০ গণ্ডার। বিশ্বের আর কোথাও একটি বনে এত বেশি সংখ্যক গণ্ডার বাস করে না। এদিন দূর নিয়ন্ত্রকের সাহায্যে গণ্ডারের শিং-এ আগুন লাগান মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বনমন্ত্রী পরিমল শুক্লাবৈদ্য।
বিশ্বে যত একশৃঙ্গ গণ্ডার আছে, তার ৭১ শতাংশ কাজিরাঙায় বাস করে। আন্তর্জাতিক বাজারে গণ্ডারে শিং-এর অনেক দাম। সেই লোভে চোরাশিকারিরা গুলি করে অথবা বিষ দিয়ে গণ্ডার মারে। চোরাশিকারিদের ঠেকাতে সম্প্রতি কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে অসম সরকার।
গত এপ্রিলে জানা যায়, গণ্ডার বাঁচাতে রাজ্যের দুই জাতীয় উদ্যান গরুমারা ও জলদাপাড়ায় ‘ শ্যুট অ্যাট সাইট’ এর নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য বন দফতর। বন্যপ্রাণ বিভাগের রাজ্যের প্রধান মুখ্য বনপাল বিনোদ কুমার যাদব এই ঘোষণাটি জানিয়েছেন। লদাপাড়া জাতীয় উদ্যানে গণ্ডার হত্যার ঘটনায় মণিপুর থেকে দুই চোরাশিকারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও তিনি এদিন জানান। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
এপ্রিলের শুরুতে একদিন বন টহলের সময় জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের চিলাপাতা রেঞ্জের জঙ্গলে একটি পনের বছরে স্ত্রী গণ্ডারের মৃতদেহ নজরে পড়ে বনকর্মীদের। কাছে গিয়ে বনকর্মীরা দেখতে পান গণ্ডারটির খড়গ কেটে নিয়ে পালিয়ে গেছে চোরা শিকারিরা। মৃত গণ্ডারের শরীরে বুলেটের ক্ষতও পাওয়া গিয়েছে। সাথে সাথে ঘটনার তদন্ত শুরু করে বন দফতর। সোমবার মণিপুর থেকে দুই জনকে গ্রেফতার করেছে বনদফতর।
বন্যপ্রাণ বিভাগের রাজ্যের প্রধান মুখ্য বনপাল বিনোদ কুমার যাদব বলেন, “গণ্ডার হত্যা রুখতে আমরা গরুমারা ও জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানে ‘শ্যুট অ্যাট সাইট' নির্দেশ জারি করছি। সোমবার এই নির্দেশ জারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া রবিবার জলদাপাড়ায় গণ্ডার হত্যার সঙ্গে যুক্ত দুই চোরা শিকারিকে মণিপুর থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হচ্ছে।”