দ্য ওয়াল ব্যুরো : বর্তমান সেনাপ্রধানের পাশে প্রাক্তন সেনাপ্রধান। বর্তমান সেনাপ্রধান বিপিন রাওয়াত বৃহস্পতিবার বলেছিলেন, যারা অপরকে আগুন লাগাতে বলে, তারা কখনও নেতা নয়। ওই মন্তব্য নিয়ে সমালোচনায় মুখর হয় নানা মহল। তাদের বক্তব্য ছিল, সেনাপ্রধানের মন্তব্য রাজনৈতিক। প্রাক্তন সেনাপ্রধান তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভি কে সিং শুক্রবার বলেন, "আমি ওই মন্তব্যে কোনও রাজনীতি দেখতে পাচ্ছি না।" তাঁর দাবি, মিডিয়া খাপছাড়াভাবে তাঁর মন্তব্য তুলে ধরেছে।
ভি কে সিং বলেন, কেউ যদি ছাত্রদের শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানাতে বলেন, তার মানে এই নয় যে তিনি রাজনীতি করছেন। তাঁর কথায়, "আমাদের মহান দেশে বিরোধীরা যে কোনও বিষয় নিয়েই বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে। একটি নির্দিষ্ট প্রেক্ষিতে সেনাপ্রধান মন্তব্য করেছেন। তাঁকেই জিজ্ঞাসা করুন তিনি কী বোঝাতে চেয়েছেন। আমি যদি ছাত্রদের বলি, অকারণে সম্পত্তির ক্ষতি কোর না, তা কি রাজনৈতিক মন্তব্য?" বিরোধীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, "সেনাপ্রধান কী বলেছেন, ভাল করে জানুন।"
পরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, "আমি যদি ফুটবল খেলি, তাহলেও বিরোধীরা বলবেন রাজনীতি করা হচ্ছে। আপনারা যদি সেনাপ্রধানের কথা না বুঝে থাকেন, ভাল করে দেখুন তিনি কোন প্রসঙ্গে ওই কথা বলেছেন। তিনি যদি ছাত্রদের আগুন লাগাতে বারণ করেন, তা রাজনীতি করা নয়।"
সেনাপ্রধান বিপিন রাওয়াত বলেন, “লিডারের কাজ হচ্ছে নেতৃত্ব দেওয়া। নেতৃত্ব দেওয়া এত সহজ কাজ নয়। কারণ যখনই আপনি কোনও দিকে যাবেন, সবাই আপনাকে অনুসরণ করবে। দেখে মনে হয় নেতৃত্ব দেওয়া খুব সহজ কাজ। কিন্তু ব্যাপারটা মোটেও অত সহজ নয়।” তারপরেই একজন লিডারের কী করা উচিত, তা নিয়ে মন্তব্য করেন রাওয়াত। তিনি বলেন, “তাঁরাই নেতা, যাঁরা মানুষকে সঠিক পথে নিয়ে যান। কিন্তু যাঁরা মানুষকে ভুল বোঝান, তাঁরা কখনওই লিডার হওয়ার যোগ্য নন। আমরা দেখছি হাজার হাজার কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের ভুল পথে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। হিংসার দিকে যাচ্ছে তারা। আগুন জ্বলছে। সংঘর্ষ হচ্ছে। যাঁরা এটা করছেন তাঁরা লিডার নন।”
আগামী ৩১ ডিসেম্বর সেনাপ্রধানের পদ থেকে অবসর নেওয়ার কথা বিপিন রাওয়াতের। এদিন দিল্লিতে একটি অনুষ্ঠানে কথা বলতে গিয়ে দিল্লি জুড়ে হয়ে চলা এই বিক্ষোভ নিয়ে মন্তব্য করেন সেনাপ্রধান। রাওয়াতের এই মন্তব্যের পরে পর্যবেক্ষকদের একাংশের বক্তব্য, বর্তমানে দেশের পরিস্থিতি খুব উত্তপ্ত হয়ে রয়েছে। এনআরসি ও নাগরিকত্ব আইন বিরোধী মিছিলে নেতৃত্ব দিচ্ছে বিভিন্ন সরকার বিরোধী দল। ছাত্র-ছাত্রীরা অরাজনৈতিক আন্দোলন করলেও কোথাও কোথাও রাজনৈতিক রং তাতে লেগে গিয়েছে। এটা কখনই অভিপ্রেত নয়। সেটাই সবার সামনে এদিন তুলে ধরার চেষ্টা করলেন সেনাপ্রধান। বোঝাতে চাইলেন, প্রতিবাদের ভাষা কখনওই হিংসা নয়। শান্তিপূর্ণভাবে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেও বিক্ষোভ দেখানো সম্ভব।