Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
ইরানের সঙ্গে সংঘাত এবার শেষের পথে? ইঙ্গিত ভ্যান্সের কথায়, দ্বিতীয় বৈঠকের আগে বড় দাবি ট্রাম্পেরওIPL 2026: টানা চতুর্থ হারে কোণঠাসা কেকেআর, ৩২ রানে ম্যাচ জিতল সিএসকে‘ভূত বাংলো’য় সেন্সর বোর্ডের কাঁচি! বাদ গেল ৬৩টি দৃশ্য, ছবির দৈর্ঘ্য কমতেই চিন্তায় অক্ষয়ভোটের ডিউটিতে কড়া নিয়ম! প্রিসাইডিং ও সেক্টর অফিসারদের জন্য একগুচ্ছ নির্দেশিকা কমিশনের'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকের

১০০০ নয়, মহাভারতের সময়কাল খ্রিস্টের জন্মের ২০০০ বছর আগে, গবেষণায় দাবি পুরাতাত্ত্বিকদের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১৯৫০-এর দশকে ইন্দ্রপ্রস্থে উৎখনন করে পুরাতত্ত্ববিদ ব্রজবাসী লাল (যিনি অধ্যাপক বিবি লাল নামেই বেশি পরিচিত) হিসাব কষে বলেছিলেন, মহাভারতের সময়কাল হল খ্রিস্টজন্মের ৯০০-১০০০ বছর আগে। অতি সম্প্রতি একটি উৎখননের পরে  ভারতীয় পুরাতত্

১০০০ নয়, মহাভারতের সময়কাল খ্রিস্টের জন্মের ২০০০ বছর আগে, গবেষণায় দাবি পুরাতাত্ত্বিকদের

শেষ আপডেট: 28 October 2019 12:31

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১৯৫০-এর দশকে ইন্দ্রপ্রস্থে উৎখনন করে পুরাতত্ত্ববিদ ব্রজবাসী লাল (যিনি অধ্যাপক বিবি লাল নামেই বেশি পরিচিত) হিসাব কষে বলেছিলেন, মহাভারতের সময়কাল হল খ্রিস্টজন্মের ৯০০-১০০০ বছর আগে। অতি সম্প্রতি একটি উৎখননের পরে  ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণ (আর্কিওলিজক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া বা এএসআই) মনে করছে, মহাভারত রচিত হয়েছিল খ্রিস্টের জন্মের দেড় থেকে ২০০০ বছর আগে। দিল্লি থেকে ৬৮ কিলোমিটার দূরে সনৌলিতে উৎখনন করে যে সব জিনিস পাওয়া গেছে তার মধ্যে একটি যুদ্ধের রথ, মরচে ধরা ধনুক ও তির, সমাধিস্থল, হলদেটে পাত্র, যুদ্ধের ঢাল, চাবুক, হাতল সমেত সরু তলোয়ারও রয়েছে। প্রত্নতত্ববিদদের ধারনা, রথটি ঘোড়ায় টানত। কয়েক দিন আগেই এই আবিষ্কারের ব্যাপারে বলেন এএসআইয়ের অধীন ইনস্টিটিউট অফ আর্কিওলজির নির্দেশক সঞ্জয় মঞ্জুল। তিনি বলেন, “এখানে একটি যুদ্ধের রথ পাওয়া গিয়েছে, এখানে এই ধরনের জিনিস এই প্রথম পাওয়া গেল। আমরা উন্নত ধরনের পরীক্ষা করে দেখেছি, এটি ঘোড়ায় টানা রথ, এটির সঙ্গে মহাভারতের যুগের খুব মিল রয়েছে।” তিনি বলেন, “আমরা এখানে যে চাবুকটি পেয়েছি সেটি নির্দিষ্ট ভাবে ঘোড়ার জন্যই ব্যবহার করা হত, ষাঁড়ের জন্য নয়। চাকা, দণ্ড ও জোয়াল নিরেট, তাতে তামার ত্রিকোণ আছে। শিরস্ত্রাণ ও ঢাল বেশ মানানসই। সনৌলি থেকে যা পাওয়া গেছে তা ঋগ্বেদের যুগ ও পরবর্তী যুগের সভ্যতার ধারাবাহিকতার চিহ্ন। ঋগ্বেদ, রামায়ণ ও মহাভারতে রথের সুস্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে।” ১৯৫১-৫২ সালে হরিয়ানার ইন্দ্রপ্রস্থ ও হস্তিনাপুরে উৎখনন করেছিলেন অধ্যাপক বিবি লাল। মঞ্জুল জানিয়েছেন, এই উৎখননও তারই সূত্র ধরে। বিবি লাল দেখিয়েছিলেন, ৮০০ খ্রিস্টপূর্বে গঙ্গার বিধ্বংসী বন্যায় কী ভাবে এই জনপদের বড় অংশ ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। সেখান থেকে পাওয়া সচিত্র ধূসর পাত্র দেখে তিনি সময়কাল নির্ধারণ করেছিলেন এবং বলেছিলেন, মহাভারতের যুগে হস্তিনাপুর, মথুরা, কুরুক্ষেত্র প্রভৃতি স্থানের এটিই ছিল সাধারণ ভাবে ব্যবহৃত পাত্র। অধ্যাপক বিবি লালের হিসাব করে দেখেছিলেন, খ্রিস্টপূর্ব অষ্টম শতকে কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ হয়েছিল। পরে নিচক্ষুর রাজত্বকালে হস্তিনাপুর থেকে রাজধানী সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল কৌশাম্বিতে। মহাভারত অনুযায়ী, যুধিষ্ঠিরের পরে হস্তিনাপুরের সিংহাসনে বসেন পরীক্ষিৎ। তাঁর পরে পঞ্চম পুরুষ ছিলেন নিচক্ষু। এই বংশের উনবিংশ উত্তরপুরুষ উদয়ন ছিলেন গৌতম বুদ্ধের সমসাময়িক, তিনি ৫০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে রাজত্ব করেছেন। উদয়নের পরে আরও ২৪ জন রাজা প্রত্যেকে গড়ে ১৫ বছর করে রাজত্ব করেছেন। এই ভাবে হিসাব কষেই বিবি লাল বার করেছিলেন, মহাভারতের সময়কাল হল খ্রিস্টপূর্ব নবম শতক। সঞ্জয় মঞ্জুল বলেন, “তাম্রযুগের বিস্তার ছিল খ্রিস্টপূর্ব ২৭০০- খ্রিস্টপূর্ব ১৭০০ পর্যন্ত। আধুনিক অস্ত্র, রথ, ছুরি, ধাতুর পাত্র -- এসব বৈদিক যুগের সংস্কৃতির বাহক, তবে আমরা জানি যে এর সঙ্গে আরও অনেক বেশি মিল রয়েছে মহাভারতের যুগের। মিরাট-সহ বিভিন্ন জায়গায় আমরা এই ধরনের প্রমাণ পেয়েছি। চিত্রিত ধূসর পাত্র অনুযায়ী যে কাল নির্ণয় করা হয়েছে তা মূলত গ্রামীণ জনপদের জন্য প্রযোজ্য, তখন রথ, বিভিন্ন রীতিনীতি ও বিভিন্ন ধরনের পাত্র হিসাবের মধ্যে ছিল না।” কুরুরাজদের বংশলতাও খতিয়ে দেখেছেন মঞ্জুল। প্রতীপ থেকে হিসাব শুরু করলে পাণ্ডু, ধৃতরাষ্ট্র ও যুধিষ্ঠির ছিলেন যথাক্রমে পঞ্চম, ষষ্ঠ ও সপ্তম রাজা। এই হিসাবে ৩৬তম রাজা ছিলেন ক্ষেমক। তিনি বলেন, “২৩তম রাজা ছিলেন বুদ্ধের সমসাময়িক। যদি প্রত্যেকের রাজত্বকাল গড়ে ৫০ বছর করে ধরা হয়, তা হলে দেখা যাবে প্রথম যিনি ছিলেন তিনি রাজত্ব শুরু করেছেন খ্রিস্টপূর্ব ১৭৫০ সালে।” উৎখননে প্রাপ্ত পুরাতাত্ত্বিক নিদর্শনের কাল ঠিক ভাবে নির্ণয় করার জন্য এক্সরে, সিটি স্ক্যান, থ্রিডি স্ক্যানিং, ফোটোগ্রামেট্রি ও জিপিআর পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে। ১৯৫০-এর গোড়ার দিকে প্রথমবার উৎখনন করা হয়েছিল ইন্দ্রপ্রস্থে। তার পর থেকে এখনও পর্যন্ত মহাভারতে উল্লেখ রয়েছে এমন আটটি জায়গায় উৎখনন করা হয়েছে। মহাভারতের যে নতুন সময়কালের কথা বলছে এএসআই, এখনও তারা তা লিখিত ভাবে কোথাও প্রকাশ করেনি। পড়ুন 'দ্য ওয়াল' পুজো ম্যাগাজিন ২০১৯–এ প্রকাশিত গল্প: শয্যা উত্তোলন https://www.four.suk.1wp.in/pujomagazine2019/%e0%a6%b6%e0%a6%af%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be-%e0%a6%89%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a7%8b%e0%a6%b2%e0%a6%a8/

```