অশোক মালহোত্রা
আইপিএল থেকে এবারও রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর (আরসিবি) বিদায় নেওয়ার পরে প্রাসঙ্গিকভাবে প্রশ্ন আসছে, বিরাট কোহলিকে কী আরসিবি দলের অধিনায়ক রেখে দেওয়া উচিত হবে?
আমি এই প্রশ্নে সরাসরি কিছু বলব, কারণ বলা উচিত নয়। তার কারণ কোহলি এমন একজন ক্রিকেটার যে কিনা ভারতীয় দলের ক্রিকেট মানচিত্রকে বদলে দিয়েছে। আমি বলতে চাই শচীনোত্তর পর্যায়ে কোহলি আমাদের ক্রিকেটের ধ্রুবতারা। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে কোহলি নিয়ে বলা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।
তবে এটাও বলতে পারি, এতবার আইপিএল হয়েছে, সেখানে কোহলির দল চ্যাম্পিয়ন হবে না, এ আবার কেমন কথা? তাও মাত্র একবার ফাইনালে উঠেছে। যা কখনই কোহলিচিত দলের নমুনা হতে পারে না।
এবার আশা করা গিয়েছিল বিরাটের দল একটা মরণকামড় দেবে। কিন্তু গত হায়দরাবাদ ম্যাচে যেভাবে পর্বতের মূষিক প্রসব হয়েছে, তাতে বলা যেতে পারে কোথাও একটা পরিবর্তনের শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। কোহলি যদি নিজে সরে যায় নেতৃত্ব পদ থেকে, সেটি ঠিক রয়েছে। কিন্তু ওঁকে বাদ দেওয়া, দায়িত্ব থেকে সরানো কঠিন।
সব থেকে বড় কথা, আরসিবি-র গত আট বছরে মোট ৫ বার কোচ বদল হয়েছে। কে ছিলেন না, সেই রে জেনিংস থেকে শুরু করে বর্তমানে রয়েছেন সাইমন ক্যাটিচ। এই ব্যর্থতার পরে আবারও হয়তো কোচের ঘাড়ে কোপ পড়বে। আমার প্রশ্ন সেখানেই, যদি কোচ এতবার বদল করতে হয় ব্যর্থতার জন্য, তা হলে দলনেতা বদলের আওয়াজ ওঠা অস্বাভাবিক কিছু নয়।
আইপিএলের নিলাম পর্ব থেকে শুরু করে দলের যে কোনও বিষয়ে যাবতীয় সিদ্ধান্ত নেয় কোহলি, তাই ব্যর্থতার দায়ভার তাকে নিতে হবেই। আমার মনে হচ্ছে, কোনও নতুন নেতা এলে তাঁর ভাবনার আমদানি ঘটলে দলের পক্ষে ভাল হবে। এবারও আমরা প্রতি ম্যাচে দেখেছি কোহলি, ডি’ভিলিয়ার্স ভাল না খেললে পুরো দল বসে যাচ্ছে। এটা কেন হবে?
আইপিএলের মতো একটা হেভিওয়েট লিগে একটা দলকে সাফল্য পেতে গেলে ভারসাম্য থাকতে হবে। দলটিকে ভালমতন সাজাতে হবে। ঈশান কিশান, সঞ্জু স্যামসন, শুভমান গিল, মনীশ পান্ডে, ঋদ্ধিমান সাহা, তারপর অনেক প্রতিভা ছিল এবার, কেন নিলামে আরসিবি তাদের নেয় না? তার জবাব তো দিতেই হবে টিম ম্যানেজমেন্টকে, আর যে দলের সর্বেসর্ব্বা কোহলি, সেই দলকে তো দিতেই হবে। তারপর মনদীপ সিংকে ছেড়ে দিল। বরং দলে নিয়েছে গুরকিরাত সিং, শিবম দুবেদের, তারা তো কিছু করতেই পারল না!
ম্যাচের কৌশলও ঠিক হচ্ছে না, গ্যারি কার্স্টেন, আশিস নেহেরা, জাহির খানরা ছিল কোচ হিসেবে, তারা যদি সরে যেতে পারে ব্যর্থতার কারণে। তা হলে অধিনায়ক হিসেবে নতুন ভাবনা আমদানি করতে অসুবিধে কোথায়? একটা সময় তো রে জেনিংসের মতো কোচও বলেছেন, আমরা টিম মিটিংয়ে কিছু বলতেই পারি না, যাবতীয় সিদ্ধান্ত নেয় কোহলি। ওর ভাবনার মধ্যে অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তা হলে এবার তো ভাবতেই হবে আরসিবি ফ্রাঞ্চাইজি আধিকারিকদের।
এমন একজন দলনেতা আনা যেতে পারে, যে সঠিক ক্রিকেটার নিলামে কিনতে পারবে, কিংবা দলের কৌশল অদলবদল করতে পারবে। আমি বলছি না যে কোহলিকে সরিয়ে দাও, কিন্তু কোথাও না কোথাও নতুন ভাবনা আনতেই হবে, না হলে আরসিবি-র ব্যর্থতার বছর বাড়বেই।