অশোক মালহোত্রা
প্রায় একমাস হতে চলল আইপিএল চলছে। প্রতিটি দলই ছয়-সাতটি করে ম্যাচ খেলে ফেলেছে। যদি আমি গুণগত পার্থক্য বিচার করি দেখবো চারটি দলই এই মুহূর্তে প্লে অফে যাওয়ার দাবিদার। তারা যেতেই পারে সেমিফাইনালে। প্রথমেই দলগুলির নাম বলে দিতে চাই, কেকেআর, মুম্বই ইন্ডিয়ান্স, দিল্লি ক্যাপিটালস ও রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর।
এর মধ্যে যদি কোনও দল আচমকা চলে আসে রকেট গতিতে, সেটি অন্য কথা। কিন্তু একটা টুর্নামেন্টের ট্রেন্ড বিচার করলে আমার বিচারে এরাই যোগ্য শেষ চারে যাওয়ার। প্রথমেই বলি, কেকেআরের কথা, এই দলটির জন্য আমাদের আবেগ সবচেয়ে বেশি। কারণ আমরা যারা কলকাতায় থাকি, তাদের একটা বাড়তি প্রীতি রয়েছে।
কলকাতা দলের প্লাস পয়েন্ট হল দলের দুই তারকা মরগ্যান ও রাসেল এখনও সেরা ফর্মে আসেনি। ওরা যদি এর মধ্যে নিজেদের সেরা ছন্দ খুঁজে পায়, তা হলে সোনায় সোহাগা। বাকি দল না হলে অশ্বমেধের ঘোড়ার মতো ছুটছে। দলের ক্যাপ্টেন দীনেশ কার্তিক গত ম্যাচেই ছন্দে এসেছে। দলের বোলারদের পারফরম্যান্স অতি ভাল। জানি না নারিনের ক্ষেত্রে আবার কেন অবৈধ বোলিং অ্যাকশনের অভিযোগ উঠছে কেন? ও তো আগেই এসব প্রমাণ করেছে, আর তাছাড়া ওর ক্ষেত্রেও তো কনুই ১৫ ডিগ্রি ভাঙছে না!
নারিন ছাড়াও কামিন্সের অভিজ্ঞতা, প্রসিদ্ধ, শিবম, নাগরকোটিরা যে কোনও মুহূর্তে উইকেট তুলে খেলার ব্রেক থ্রু ঘটাচ্ছে। বরুণ চক্রবর্তীর রহস্যজনক স্পিন তো অসাধারণ। নারিনকে ব্যবহারও করছে কার্তিক দারুণভাবে, ওকে পরে ব্যবহার করছে বিপক্ষ দলের কৌশল বুঝে নিয়ে।
আমি হতাশ এম এস ধোনি ও তাঁর দলকে দেখে। এর আগে চেন্নাই এতবার খেলেছে, তিনবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, কিন্তু এত হতশ্রী দল আমি দেখেনি। বয়স যে সবাইকে ধরে নেয়, আমি ধোনিকে দেখে বলতে বাধ্য হচ্ছি। আমরা সবাই ধোনিকে ভালবাসি, কিন্তু এবার ওঁকেও থামতে হবে। তারপর দলের বাকিরাও বুড়ো হয়ে গিয়েছে। চেন্নাইয়ের এই দলে তরুণ রক্ত আরও বেশি করে চাই। না হলে বছরের পর বছর এই দল ধরে রেখে এবার লাভ হচ্ছে না।
দিল্লি ক্যাপিটালস এবার বাকিদের টেক্কা দিয়েছে। তাদের প্রথম পাঁচ ব্যাটসম্যান ভারতের। সেদিক থেকে এটি ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য ভাল বিজ্ঞাপন হতে পারে। দলের মূল বোলার রাবাদা প্রতি ম্যাচে দলের নায়ক হিসেবে আবির্ভাব হচ্ছে। দলের ব্যাটিংটাও বেশ ভাল।
মুম্বই দলের একটা গৌরবগাথা রয়েছে। তবে তারা আইপিএল জিতেছে একটা করে বছর পার করে। সেই ল অব অ্যাভারেজ খেটে গেলে এবার রোহিতদের দান নয়! এও বলি, যে দলে এতগুলি তারকা রয়েছে, তাদের জিততে গেলে কৌশলের চেয়েও প্রয়োজন ব্যক্তিগত মুনশিয়ানা। তা হলেই দল হাসতে হাসতে ম্যাচ জিতবে।
আমার মন বলছে এই আইপিএল জিতবে ব্যাঙ্গালোর। এত ভাল দল, প্রতিবার ব্যর্থ হয়। শুরুতেই এবার তাই দলনায়ক কোহলি বলেছে, কিছু একটা করতেই হবে। কিছু একটা মানে খেতাব পাওয়া। ব্যাঙ্গালোর একবারও আইপিএল জিতবে না, এটা ভাবতেই কেমন লাগে। কিন্তু এবার দলের ক্রিকেটারদের খেতাব ছাড়া কিছু মাথায় নেই। আর কোহলিও চাইবে তার আসন্ন সন্তানদের জন্য এই আইপিএল জিতে স্মরণীয় করে রাখতে।