দ্য ওয়াল ব্যুরো : দলের স্বার্থে আগের মতোই কাজ করে যান। পাঞ্জাবের পদত্যাগী মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দর সিংকে এমনই পরামর্শ দিলেন রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলোট (Ashoke Gehlot)। শনিবার সন্ধ্যায় রাজভবনে গিয়ে পদত্যাগ করেন অমরিন্দর। পরে সাংবাদিকদের বলেন, হাইকম্যান্ড যাকে খুশি মুখ্যমন্ত্রী নিয়োগ করতে পারে। তাঁর অভিযোগ, কংগ্রেসে তিনি তিনবার অপমানিত হয়েছেন। এক প্রশ্নের জবাবে বর্ষীয়ান নেতা বলেন, সকলেরই কখনও না কখনও সুযোগ আসে। আমারও সুযোগ আসবে। তখন আমি যা করার করব।
ক্যাপটেন অমরিন্দর সিং-এর এই মন্তব্য নিয়ে জল্পনা-কল্পনা শুরু হয় রাজনৈতিক মহলে। প্রশ্ন ওঠে 'সুযোগমতো ব্যবস্থা নেবেন' বলতে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কী বোঝাতে চেয়েছেন। তিনি কি নতুন দল গড়বেন? অমরিন্দর অবশ্য জানিয়ে দেন, "আপাতত আমি কংগ্রেসেই থাকছি।"
এরপরে গেহলোট টুইট করে বলেন, "ক্যাপটেন সাহেব দলের সম্মানিত নেতা। আমি আশা করি তিনি পার্টির স্বার্থের কথা মাথায় রেখে আগের মতোই কাজ করে যাবেন।" পরে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ ও বিধায়কদের মতামত শুনে হাইকম্যান্ড সিদ্ধান্ত নেয়। দলের স্বার্থেই হাইকম্যান্ডের নেতারা সিদ্ধান্ত নেন। দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে কংগ্রেস নেতাদের দায়িত্ব বেড়েছে। আমাদের এখন ব্যক্তিস্বার্থের ওপরে উঠতে হবে। দেশ ও দলের কথা চিন্তা করতে হবে।
শনিবার পদত্যাগ করার আগে সনিয়াকে একটি চিঠি লেখেন অমরিন্দর। তাতে ক্যাপটেন লিখেছেন, গত পাঁচ মাস ধরে পাঞ্জাবের রাজনীতিতে যা ঘটছে, তাতে আমি অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। পরে তিনি দাবি করেন, ২০১৭ সালের ভোটের আগে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তার ৮৯.২ শতাংশ পূরণ করা হয়েছে। বাকি প্রতিশ্রুতিগুলিও পূরণ করার জন্য কাজ চলছে।
২০১৫ সালে পাঞ্জাবে একটি পবিত্র ধর্মগ্রন্থের অবমাননা করা হয়। তার বিরুদ্ধে জনতা বিক্ষোভ দেখালে ফরিদকোটে পুলিশ গুলি চালায়। গত এপ্রিলে পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্ট ওই মামলায় তদন্তের ফলাফল নাকচ করে দিয়েছে। এরপরই সিধু বলেন, অমরিন্দর সিং ওই ঘটনার যথাযথ তদন্ত করাননি।
ওই অভিযোগের জবাবে অমরিন্দর লিখেছেন, পূর্বতন অকালি-বিজেপি সরকারের আমলে ধর্মাবমাননা মামলার তদন্তের দায়িত্ব সিবিআইকে দেওয়া হয়েছিল। তারা তদন্তের দায়িত্ব ফের রাজ্যের হাতে ফিরিয়ে দিতে চায়নি। এর পরেও তাঁর আমলে ২৪ জনকে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। ১৫ জন পুলিশকর্মীকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। গ্রেফতার হয়েছেন ১০ জন।
একইসঙ্গে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, তাঁর আমলে বিদ্যুৎ পরিবহণের উপযোগী পরিকাঠামো নির্মাণে সরকার কোটি কোটি টাকা খরচ করেছে। বিদ্যুতের সাধারণ উপভোক্তা ও কৃষকদের সুবিধার জন্য প্রতি বছর খরচ করা হয়েছে কোটি কোটি টাকা। অমরিন্দর দাবি করেছেন, কৃষকদের ঋণ মকুব এবং মাদক চোরাচালান বন্ধের জন্য তাঁর আমলে যথেষ্ট ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
শেষে অমরিন্দর সিং লিখেছেন, "আশা করি আমার পদত্যাগের ফলে পাঞ্জাবে অতি কষ্টে অর্জিত শান্তি বিঘ্নিত হবে না। যে কাজগুলিকে আমি গুরুত্ব দিয়েছিলাম, তা আগের মতোই চলবে। রাজ্যের মানুষ ন্যায়বিচার পাবেন।"