
শেষ আপডেট: 17 December 2023 09:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেন্দ্রের থেকে একাধিক প্রকল্পের টাকা আসছে না বাংলায়, শাসকদল তৃণমূলের এমন অভিযোগ নতুন না। পাল্টা প্রকল্পের টাকা নয়ছয় করা হচ্ছে বলে পাল্টা অভিযোগ করেছে বিজেপিও। তবে দু’পক্ষের এই টানাপোড়েনে বিপাকে পড়েছেন বাংলার প্রান্তিক মানুষরা, যাঁরা এই প্রকল্পের কাজের সঙ্গে যুক্ত। ১০০ দিনের টাকা আটকানো হয়েছিল আগেই। এবার বাংলায় জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনেরও টাকা আটকানো হল বলে জানা গিয়েছে। এর ফলে বন্ধ হল রাজ্যের ৭০ হাজার আশাকর্মীর ইনসেন্টিভ।
সূত্রের খবর, এই বিপুল সংখ্যক কর্মীর মধ্যে গ্রামীণ এলাকায় কাজ করেন প্রায় ৬০ হাজার। শহরাঞ্চলে সেই আশাকর্মীর সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার। তাঁদের ইনসেন্টিভ বন্ধ করে আসলে রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উপরই আঘাত করা হল বলেই মনে করছেন স্বাস্থ্যকর্তারা। সূত্রের খবর, কেন্দ্র থেকে টাকা আসা বন্ধ হওয়ার পর রাজ্যের তরফে ওই টাকা দেওয়ার ব্যবস্থা হচ্ছে। রাজ্যের অভিযোগ, নানা কৌশলে কেন্দ্র জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের ১১০০ কোটি টাকা আটকে রেখেছে। ফলত দু’মাস ধরে ইনসেন্টিভ বন্ধ।
কী কাজ করেন রাজ্যের আশাকর্মীরা? জানা গিয়েছে, মা ও শিশুদের চেক আপ, টিকাকরণ, ডেঙ্গি, ম্যালেরিয়া, যে কোনও জ্বর-সর্দি, সুগার, প্রেসার মাপা, ক্যানসার চিহ্নিতকরণ, কুষ্ঠ, যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ-সহ নানারকম কাজ তাঁদের করতে হয়। সেজন্য মাসে সাড়ে চার হাজার টাকা ভাতা পান তাঁরা। এছাড়া প্রত্যেক আশাকর্মীকে তাঁদের কাজের হিসেব অনুযায়ী ইনসেন্টিভও দেওয়া হয়। কেউ ২ হাজার, কেউ ৩ বা ৪ হাজার টাকা পান। এই ভাতার টাকা দেয় রাজ্য সরকার আর ইনসেন্টিভ দেয় কেন্দ্র।
এখন গত মাস দুয়েক ধরে সেই ইনসেন্টিভের টাকাই বন্ধ হয়ে রয়েছে। যার ফলে বিপাকে পড়েছেন হাজার হাজার আশাকর্মী। এই প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যভবনের আধিকারিকরা বলেন, “কেন্দ্র টাকা বন্ধ করে রেখেছে। কীভাবে আমরা এখনও পরিষেবা, বেতন দিচ্ছি, তা শুধু আমরাই জানি। রাজনীতির আঁচ কেন স্বাস্থ্য পরিষেবায় লাগছে জানি না। তবে আশাকর্মীদের সমস্যা সমাধানে শেষ অবধি রাজ্যই এগিয়ে এসেছে। ইনসেন্টিভের ওই বকেয়া টাকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে রাজ্যের তরফেই।