দ্য ওয়াল ব্যুরো: তেইশ বছর পরে পুজোর নতুন গান রেকর্ড করলেন আশা ভোঁসলে। তাঁর নতুন অ্যালবামের নাম "এবার পুজোয় এলাম ফিরে"।
ছয়ের দশক থেকেই বাঙালির কাছে বিনোদনের অন্যতম সেরা আকর্ষণ হয়ে উঠেছিল দুর্গা পুজোর গানের অ্যালবাম। আশা ভোঁসলে, লতা মঙ্গেশকর, আর ডি বর্মন, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, মান্না দে, কিশোর কুমারের পুজোর অ্যালবাম এক সময় অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিল। প্রয়াত সঙ্গীতশিল্পী এবং আশার স্বামী আর ডি বর্মনের সঙ্গে ৬৬টি পুজোর গান করেছেন আশা। কিন্তু তাঁর মৃত্যুর পর থেকে পুজোর অ্যালবামে গান গাওয়া বন্ধ করে দিয়েছিলেন আশা।
২৩ বছর পরে ফের খুলল খাতা। গানের খাতা। পুজোয় বাংলা গান গাইলেন আশা। ওই অ্যালবামের অন্যতম কম্পোজার শিলাদিত্য চৌধুরী জানাচ্ছেন, এ যেন স্বপ্ন সত্যি হওয়ার আনন্দ। "আশাজিকে রাজি করানো সহজ ছিল না। কিন্তু অনেক অনুরোধে শেষমেশ রাজি হন তিনি। আসলে পুজোর বাংলা গান নিয়ে ওঁরও আবেগ কম নয়। কিন্তু নানা কারণে এত বছর পুজোয় গাননি উনি।"-- বলেন শিলাদিত্য।
১৯৬৩ সালে আশা ভোঁসলের গাওয়া প্রথম পুজোর গান মান্না দে কম্পোজ করেছিলেন। "আমার খাতার পাতায়" গানটি বেশ মন জ. করেছিল শ্রোতাদের। তার পর থেকে আরও বহু বার। ১৯৬৮ সালে গৌরীপ্রসন্ন মজুমদারের লেখা এবং আরডি বর্মনের সুর করা "এই এদিকে এসো" এবং "যাবো কি যাবো না"-- এ দু'টি পুজোয় তাঁর গাওয়া হিট গান। এর পরে ব্লকব্লাস্টার হিট করে "দুর্গে দুর্গে দুর্গতিনাশিনী" এবং "ময়না বলো তুমি কৃষ্ণ রাধে"। এছাড়াও শ্রোতারা মনে রেখেছে যেতে দাও আমায় ডেকো না, চোখে চোখে কথা বলো, ফুলে গন্ধ নেই, মহুয়ায় জমেছে আজ মৌ ইত্যাদি।
এর পরে দীর্ঘ বিরতি। এই বছরের পুজোর গান '"এবার পুজোয় এলাম ফিরে" আশার ৮৫তম জন্মদিনের ঠিক এক সপ্তাহ পরেই রেকর্ড করা হয়েছিল। সূত্রের খবর, গান রেকর্ড করার সময় তিনি পঞ্চম দার সঙ্গে তাঁর রেকর্ডিং-এর স্মৃতিচারণ করছিলেন। অনেক দিন পর মানুষ তাঁর গান শুনতে পারবে ভেবে খুব খুশি হয়েছিলেন। গানটির কথা লিখেছেন উৎপল দাস।
পুজোয় বাংলা গান হারিয়ে গেছে-- এ নিয়ে অভিমান আছে বহু বাঙালির। গানের সোনালি দিন আর কখনও ফিরে আসবে না বলে আক্ষেপ করতেও শোনা যায় অনেককে। আশা ভোঁসলের এই বছরের অ্যালবাম তাঁদের জন্য এক বিশেষ উপহার।