
শেষ আপডেট: 23 December 2023 11:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুরসভার চুক্তিভিত্তিক কর্মীর বিরুদ্ধে লক্ষ লক্ষ টাকা তছরুপের অভিযোগ! আজ থেকে নয়, গত ৮ বছরে পুরসভার ৮৭ লক্ষ টাকার হিসেব মিলছে না। অভিনব জালিয়াতির ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পরেই থানায় অভিযোগ দায়ের করলেন পুরসচিব।
ঘটনাটি আসানসোল পুরসভা এলাকার। অভিযুক্ত চুক্তিভিত্তিক কর্মীর নাম সোমনাথ মাহাতো। চীনাকুড়ির বাসিন্দা সোমনাথ কুলটি বরো অফিসে পিওনের কাজ করত। সূত্রের খবর, ২০২০ সালের ২১ ডিসেম্বর পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের দামাগড়িয়া শাখায় ১ লক্ষ ৭৬ হাজার ২৫৬ টাকা জমা দিতে গিয়েছিল সে। কিন্তু তারপর থেকেই আর তার খোঁজ মেলেনি। ব্যাঙ্কে খবরাখবর করে জানা যায় টাকাও জমা পড়েনি। সেই ঘটনার পর ৩ জানুয়ারি পুরসভার পক্ষ থেকে কুলটি থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। কিন্তু তারপরেও বিষয়টি ধামাচাপা পড়ে গিয়েছিল।
অবশেষে কংগ্রেস কাউন্সিলর গোলাম সরোবরের অভিযোগের ভিত্তিতে ফের তদন্ত শুরু করে পুরসভা। তাতেই জানা যায়, ২০১৫ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত মোট ৮৬ লক্ষ ৮৬ হাজার ৯৮৯ টাকা জমা পড়েনি পুরসভার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে। কেন এতদিন এই ব্যাপারে কোনও তদন্ত করা হয়নি বা এফআইআর করা হয়নি পুরসভার তরফে, তা নিয়ে বিস্তর গোলমাল হয় পুরসভার সর্বশেষ বৈঠকে। এরপরেই গোলাম সরোবর পুরসচিব শুভজিৎ বসুকে একটি চিঠি লিখে অভিযোগ দায়ের করেন। তার ভিত্তিতেই পুর কর্তৃপক্ষ পুরসভার আইনজীবী, ফিন্যান্স অফিসার সহ মোট তিনজনকে নিয়ে একটি কমিটি গঠন করে অবিলম্বে এফআইআর দায়ের করা নির্দেশ দেয়।
এরপর কুলটি থানায় ঘটনার বিষয়ে লিখিতভাবে অভিযোগ দায়ের করা হয়। কুলটি পুরসভার এক আধিকারিক জানিয়েছেন, প্রতিদিন পুরসভার সংগৃহীত রাজস্ব ব্যাঙ্কে জমা দিতে যেত সোমনাথ। ব্যাঙ্কের বইয়ের স্লিপের যে অংশটি জমা পড়ে যেত সেখানে যে টাকা দেখানো হত, ওই স্লিপেরই অন্য অংশে সেই টাকার পরিমাণ অনেক বেশি দেখানো হত। তাতে ব্যাঙ্কের স্ট্যাম্পও মারা হত।
ওই স্লিপ ধরেই পুরসভার ক্যাশ রেজিস্টারে তোলা হত। ফলে পুরসভায় ওই জমা রাখা স্লিপের ভিত্তিতে মনে করা হত, পুরো টাকাটাই জমা পড়েছে। ২০১৫ সালের এপ্রিল থেকে ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এই আর্থিক তছরুপের ঘটনা লাগাতার ঘটেছে। পরে বিষয়টি সামনে আসার পর ওই বিভাগের একাধিক আধিকারিককে কারণ দর্শানোর জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছিল।
আইন দফতরের দায়িত্বে থাকা আইনজীবী সুদীপ্ত ঘটক জানিয়েছেন, পুরসভার বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছিল অ্যাকাউন্টস দফতরের আধিকারিকরা এই বিষয়ে আইন আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে তদন্ত করবেন। সেই তদন্তের শেষে মেয়রের অনুমতি নিয়ে কুলটি থানায় বুধবার অভিযোগ দায়ের করেছেন পুরসচিব। মেয়র বিধান উপাধ্যায় জানিয়েছেন থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে, বিষয়টির তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে পুলিশ।