দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্থায়ী কর্মীদের বেতনে দেরি। কর্মী ও অবসরপ্রাপ্তদের আর্থিক সুবিধা অনিয়মিত। মাথায় ঋণের পাহাড়। সব মিলিয়ে আশঙ্কাটা দুয়ে দুয়ে চার হচ্ছিল বেশ কিছুদিন ধরেই। ভোটের আগে স্বভাবতই মুখে কুলুপ এঁটেছে রাষ্ট্রায়ত্ত এই টেলিকম সংস্থা, তবে সূত্রের খবর ভোট শেষেই সংস্থার প্রায় ৫৪,০০০ কর্মীকে ছাঁটাই করতে চলেছে বিএসএনএল।
টেলিকম পরিষেবায় দুই রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা এমটিএনএল ও বিএসএনএল বেশ কয়েক মাস ধরেই আর্থিক সঙ্কটে ভুগছে। অল ইউনিয়ন্স অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েশন অব বিএসএনএলের (এইউএবি) দাবি, কর্তৃপক্ষ ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নেওয়ার প্রস্তাব দিলেও সায় দেয়নি টেলিকম দফতর (ডট)। আর্থিক সমস্যা মেটানোর কার্যকরী উপায় বার করতে মার্চেই এক দফা বৈঠক সেরেছে বিএসএনএল। জানা গেছে, ডটের পরবর্তী নির্দেশের জন্য অপেক্ষা করছে তারা।
বিএসএনএল সরকারি দফতর, সাধারণ গ্রাহকের পাশাপাশি ভোটে জরুরি পরিষেবা দেয়। আর্থিক সঙ্কটের কারণে সে পরিষেবা এমনিতেই কিছুটা বিপর্যস্ত। এমন পরিস্থিতিতে কর্মী ছাঁটাইয়ের কথা ঘোষণা করলে ভোটের বাজারে সেটা বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে। সেই জন্যই ডট এত রাখঢাক করে চলছে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।
ইতিমধ্যেই বিএসএনএলের বিশেষজ্ঞ কমিটির সুপারিশের মধ্যে কয়েকটিকে শিলমোহর দেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে, কর্মীদের অবসরের বয়স ৬০ বছর থেকে কমিয়ে ৫৮ বছর করা, ৫০ বছরের বেশি বয়সের কর্মীদের স্বেচ্ছাবসর দেওয়া এবং ৪জি সংযোগ দেওয়ার স্পেকট্রাম দ্রুত বরাদ্দ করা। সংস্থার দাবি, কেন্দ্রের কাছে আর্জি জানানো সত্ত্বেও মেলেনি ৪জি সংযোগ দেওয়ার স্পেকট্রাম। স্পেকট্রামের অভাবে বিএসএনএলের কেরল, বিহার, ওড়িশার মতো সার্কল কিছু জায়গায় পুরনো স্পেকট্রাম দিয়েই কোনও রকমে ৪জি পরিষেবা চালু করেছে। উত্তরবঙ্গের কিছু জায়গাতেও একই ভাবে চলছে ৪জি পরিষেবা।
আর্থিক দুর্দশার কারণে জম্মু-কাশ্মীর, কেরল ও দিল্লিতে বিএসএনএলের কর্পোরেট অফিস (সিএমডি-সহ পদস্থ কর্তারা বাদে) ছাড়া ফেব্রুয়ারির বেতন পাননি সংস্থাটির প্রায় দেড় লক্ষ স্থায়ী কর্মী-অফিসার। কোনও মাসে এত দিন বেতন বকেয়া পড়ার ঘটনাও এই প্রথম। বিএসএনএলে বর্তমানে মোট কর্মীর সংখ্যা ১,৭৪,৩১২। শোনা যাচ্ছে সংস্থার ৫৪,৪৫১ জন কর্মীকে ছাঁটাই করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। অবসরের বয়স কমে যাওয়ার ফলে কর্মী সংখ্যা কমবে আরও ৩৩,৫৬৮ জনে, বাকিদের স্বেচ্ছাবসর দেওয়া হতে পারে। এই ভাবে চললে আগামী ছ’বছরে বিএসএনএলের প্রায় ১৩,৮৯৫ কোটি টাকা বকেয়া মেটানো সম্ভব হবে।