মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলার কোনও ধর্মীয় স্থানে হাত দিতে দেব না। আমি ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করি না। সর্ব ধর্মের সমন্বয় আমাদের মানুষকে ভালবাসতে শেখায়।
.jpeg.webp)
ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 3 December 2025 16:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ওয়াকফ বিলকে (Waqf Amendment Bill, 2025) সামনে রেখে বাংলায় নতুন করে বিভেদ তৈরির চেষ্টা হচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় (Chief Minister Mamata Banerjee)।
এদিন মালদহের গাজলের সভা থেকে তিনি বলেন, কোনও কোনও সম্প্রদায়িক শক্তি ধর্ম নিয়ে বিভেদ তৈরি করতে চাইছে, রটাচ্ছে। তাঁদের উদ্দেশে বলি, ওয়াকফ সম্পত্তি (Waqf Property,) কেন্দ্র আইন করেছে, আমরা করিনি।
এরপরই মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা, "পরিষ্কার জেনে রাখুন, বিধানসভায় আমরা এর বিরুদ্ধে প্রস্তাব এনেছি, সুপ্রিম কোর্টেও মামলা করেছি। কেসও চলছে। তাছাড়া আমরা যতদিন আছি, এ সব জায়গায় আমি কাউকে হাত দিতে দেব না।"
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলার কোনও ধর্মীয় স্থানে হাত দিতে দেব না। আমি ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করি না। সর্ব ধর্মের সমন্বয় আমাদের মানুষকে ভালবাসতে শেখায়।
ঘটনার সূত্রপাত, এ বছরের গোড়ায় সংসদের দুই কক্ষেই পাশ হয় ওয়াকফ সংশোধন বিল ২০২৫ (Waqf Amendment Bill, 2025)। বিরোধীরা তীব্র আপত্তি জানালেও কেন্দ্রের সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠতার কাছে তা ধোপে টেকেনি। সংশোধিত আইন অনুযায়ী—ওয়াকফ বোর্ড ও ট্রাইব্যুনালে অ-মুসলিম সদস্য থাকবেন, কোনও সম্পত্তিকে ওয়াকফ দাবি করতে হলে প্রমাণপত্র দেখাতে হবে, এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সরকার।
কেন্দ্রের এই নতুন ওয়াক্ফ আইন (Waqf amendment act 2025) মানতে প্রথমে অস্বীকার করলেও নভেম্বরের শেষে রাজ্যের ওয়াকফ সম্পত্তির (Waqf property) তথ্য সেন্ট্রাল পোর্টালে আপলোড করতে রাজি হয় পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এ ব্যাপারে জেলা শাসকদের কাছে গত বৃহস্পতিবার সন্ধেয় চিঠি পাঠিয়েছেন সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষা দফতরের সচিব ডঃ পি. বি. সালিম। নবান্নের নির্দেশ, ৫ ডিসেম্বর ২০২৫-এর মধ্যে ‘umeedminority.gov.in’ পোর্টালে রাজ্যের জেলা ধরে ধরে ওয়াকফ সম্পত্তির খতিয়ান বা তথ্য আপলোড করতে হবে।
এরপরই থেকেই ওয়াকফ ইস্যুতে রাজ্যের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে বিরোধী সহ বিভিন্ন সংগঠন। যার তীব্র নিন্দা করে এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "পরিষ্কার জেনে রাখুন, বিধানসভায় আমরা এর বিরুদ্ধে প্রস্তাব এনেছি, সুপ্রিম কোর্টেও মামলা করেছি। কেসও চলছে।" যদিও বিরোধীদের অভিযোগ, একদিকে কেন্দ্রের আইন কার্যকর করার জন্য রাজ্যের তরফে জেলাশাসকদের নির্দেশ দিচ্ছে অন্যদিকে জনসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী অন্য কথা বলছেন। এর থেকে বড় রাজনীতি আর কী হতে পারে!