
শেষ আপডেট: 17 July 2019 18:30
বিহার রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের ভাইস চেয়ারম্যানের কথায়, সাধারণত জুলাই-অগস্টে ভারী বৃষ্টি নামে বিহারে। টানা বৃষ্টি চললে ফুঁসে ওঠে কোশি, বাগমতীর মতো নদী। বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয় আশপাশের গ্রামগুলিতে। গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতেই প্রায় জলের তলায় মুজফফরনগর। নদীর স্রোত প্লাবিত করেছে সিতামারহি, শেওহর, খাগারিয়া জেলাকেও। ক্ষতিগ্রস্থ ১২টি জেলার ৭৭টি ব্লকের ৫৪৬টি পঞ্চায়েত।
সরকারি সূত্র বলছে, গত এক সপ্তাহে বন্যার কারণে মৃত্যু হয়েছে ৬৭ জনের। সিতামারহি ও শেওহরেই মারা গেছেন ১৭ জন। বেসরকারি হিসেবে সেই সংখ্যাটা আরও বেশি। ১২-১৩ জুলাইয়ের মধ্যে উত্তর বিহারে রেকর্ড বৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। সূত্র বলছে, পূর্ব চম্পারণে বৃষ্টি হয়েছে ২১৪.৯২ মিলিমিটার, সিতামারহিতে ১৫৪.৫৫ মিলিমিটার এবং মুজফফরপুরে ১২৫.১৫ মিলিমিটার।
১৪ জুলাইয়ের হিসেবে, মাত্র পাঁচ ঘণ্টায় কিষাণগঞ্জে বৃষ্টি হয়েছে ১৮৬.৮ মিলিমিটার, কোচাধাম ব্লকে ১৬৪.২ মিলিমিটার, ঠাকুরগঞ্জ ব্লকে ১৬৩ মিলিমিটার ও বাগাদুরগঞ্জ ব্লকে ১৬২ মিলিমিটার।
বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার বলেছেন, "বন্যা পরিস্থিতির মোকাবিলায় সব রকম ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যে কোনও জরুরিকালীন পরিস্থিতির জন্য তৈরি আছে রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা দল। ২৫ কোম্পানি জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা দলকে নিয়োগ করা হয়েছে।"
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে ভয়াবহ বন্যায় প্রায় ৯০ লক্ষ মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিলেন বিহারে। মৃতের সংখ্যা ছিল চারশোর উপরে। কয়েক লক্ষ মানুষ গৃহহারা ছিলেন। জলবন্দি ছিল কয়েক হাজার গ্রাম।