
শেষ আপডেট: 12 March 2024 17:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রত্যাশামতোই হাবড়ায় এসে সিএএ-র বিরুদ্ধে সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার দুপুরে সরাসরি বিজেপিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে মমতা বলেন, বিজেপি দেশজুড়ে অশান্তির খেলা শুরু করেছে। বর্তমানে জেলবন্দি প্রাক্তন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের হাবড়ায় এসে ফের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন নিয়ে বিজেপিকে তুলোধনা করলেন মমতা।
সোমবার দেশজুড়ে কার্যকর হয়েছে সিএএ। ভোটের আগে কেন্দ্রীয় সরকারের এই সিদ্ধান্তকে ভাঁওতা বললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার হাবড়ার সভা থেকে তাঁর দাবি, ভোটের আগে প্রতারণা, ছলনা, নাগরিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার চক্রান্ত চলছে। সিএএ আদৌ বৈধ কিনা, সন্দেহ রয়েছে তাঁর।
মমতা হাবড়ার সভা থেকে দাবি করেন, ''বিজেপির নেতারা বলছেন সিএএ করে দিলাম। যাঁদের দরখাস্ত করতে বলা হচ্ছে তারা একবার দরখাস্ত করলে সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা নাগরিক থাকা সত্ত্বেও বেআইনি অনুপ্রবেশকারী হয়ে যাবেন।'' এই প্রসঙ্গেই মমতার প্রশ্ন, এইসব মানুষের সম্পত্তির কী হবে? চাকরির কী হবে? তাঁর দাবি, সবকিছুই বেআইনি ঘোষণা করে দেবে কেন্দ্রের সরকার। এটা অধিকার কাড়ার খেলা।
মমতা বলেন, বিজেপি লুডো খেলার মতো খেলছে। ওরা ভাবছে ছক্কা মারছে। কিন্তু আসলে সেটা পুট অর্থাৎ শূন্য। বিজেপি আপনাদের ভাঁওতা দিচ্ছে। সব ধাপ্পা। আপনারা যেই সিএএ-র জন্য আবেদন করবেন, সঙ্গে সঙ্গে আপনার নাগরিকত্ব কাটা যাবে। এর সঙ্গে এনআরসি যুক্ত করা আছে। আপনাদের ডিটেনশন ক্যাম্পে নিয়ে চলে যাবে।
কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে দাবি করা হয়েছে, সিএএ-র সঙ্গে এনআরসির কোনও যোগসূত্র নেই। কিন্তু হাবড়ার সভা থেকে মমতার বিস্ফোরক অভিযোগ, এই দুইয়ের যোগসূত্র আছে। মমতা বলেন, ''দরখাস্ত করলেই ডিটেনশন ক্যাম্পে নিয়ে চলে যাওয়া হবে। তাই দরখাস্তের আগে ১০ বার ভাবতে হবে।'' বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করে তাঁর বক্তব্য, একজন মানুষ অধিকার পেলে তিনি খুশি হবেন, কিন্তু কারও অধিকার কাড়া হলে তিনি মানবেন না। বাংলা থেকে তিনি কাউকে বিতাড়িত হতে দেবেন না বলেও অবগত করেছেন মমতা।
সোমবারই দেশজুড়ে কার্যকর হয়েছে সিএএ। সেই প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হাবড়ার সভা থেকে বিজেপি সরকারকে তীব্র আক্রমণ করবেন তা বোঝাই গেছিল। তেমনটাই হল। মমতার স্পষ্ট কথা, সিএএ একটা ভাঁওতা। কোনও স্পষ্টতা নেই। তাই তিনি আমজনতাকে উদ্দেশ্য করে বার্তা দিলেন, শুধু ভোটের জন্য ভাববেন না। নাহলে কিন্তু সব হারাতে হবে।
সোমবারের সিএএ নিয়ে ঘোষণার আগেই অবশ্য নবান্ন থেকে কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেছিলেন, ২০২০ সালে আইনটা পাশ হয়েছিল। তারপর চার বছর কেটে গেছে। নির্বাচন ঘোষণার আর ২-৩ দিন বাকি আছে। তার আগে এটা করা মানে একটা রাজনৈতিক পদক্ষেপ। মমতা বলেন, ''যদি ক্যা দেখিয়ে এনআরসি নিয়ে এসে কারও নাগরিকত্ব বাতিল করা হয় তাহলে আমরা কঠোর প্রতিবাদ করব। কাউকে ডিটেনশন ক্যাম্পে রেখে দেবে, এই চালাকি আমরা মানব না।''