দ্য ওয়াল ব্যুরো : করোনার ভ্যাকসিন নিয়ে পরীক্ষা শেষ হলেই তা বড় আকারে উৎপাদন শুরু করবে ভারত। সকলে যাতে ওই প্রতিষেধক পান, তার ব্যবস্থা করবে। বিশ্বকে করোনা সংকট থেকে উদ্ধার করব আমরাই। শনিবার রাষ্ট্রপুঞ্জের ভার্চুয়াল সাধারণ সভায় এমনই দাবি করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রাষ্ট্রপুঞ্জের কাছে তিনি আবেদন জানান, করোনা অতিমহামারীর মোকাবিলা করার জন্য আরও উদ্যোগ নিতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আমরা হব বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারী দেশ। আমাদের যে পরিমাণ ভ্যাকসিন উৎপাদন ও সরবরাহ করার ক্ষমতা আছে, তা সমগ্র মানব জাতিকে করোনা সংকট থেকে উদ্ধারের পথ দেখাবে।"
পরে তিনি বলেন, "আমরা ভ্যাকসিন নিয়ে তৃতীয় দফার পরীক্ষা চালিয়েছি।"
গত ১৫ অগাস্টের ভাষণে মোদী বলেছিলেন, ভারতে তিনটি ভ্যাকসিন এখন পরীক্ষার নানা স্তরে রয়েছে। তাঁর কথায়, "যখন বিজ্ঞানীরা বলবেন ভ্যাকসিন তৈরি হয়ে গিয়েছে, আমরা বড় আকারে উৎপাদন শুরু করব। সেজন্য আমাদের নির্দিষ্ট পরিকল্পনা আছে। কীভাবে ন্যূনতম সময়ে প্রত্যেক ভারতীয়ের কাছে ভ্যাকসিন পৌঁছে দেওয়া যাবে, তার রোডম্যাপ তৈরি হয়ে গিয়েছে।"
শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা পর্যন্ত ভারতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৫৯,০৩,৯৩২। এ যাবৎ কোভিড সংক্রমণে দেশে মৃত্যু হয়েছে মোট ৯৩,৩৭৯ জনের। সংক্রমণ সারিয়ে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৪৮,৪৯,৫৮৪ জন। ভারতে এখন অ্যাকটিভ রোগীর সংখ্যা ৯,৬০,৯৬৯।
গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতে কোভিড সংক্রমণে মৃত্যু হয়েছে ১০৮৯ জনের। সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন ৯৩,৪২০ জন। ভারতে এখন সুস্থতার হার ৮২.১৪ শতাংশ। আর মৃত্যুহার ১.৫৮ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় ১৩,৪১,৫৩৫ কোভিড টেস্ট করানো হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্যমন্ত্রক।
বিশ্বের কোভিড পরিসংখ্যানে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ভারত। এর আগে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের বুলেটিন অনুসারে মহারাষ্ট্র, অন্ধ্রপ্রদেশ, তামিলনাড়ু, কর্নাটক এবং উত্তরপ্রদেশ—–এই পাঁচ রাজ্যে করোনার প্রভাব সবচেয়ে বেশি। গত ২৪ ঘণ্টায় এই ৫টি রাজ্যেই আক্রান্তের সংখ্যা সর্বাধিক। এই ৫ রাজ্য মিলিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা ৪৩,৪৫৭, যা নতুন করে সংক্রামিতের সংখ্যার ৫১ শতাংশ।
অন্যদিকে মহারাষ্ট্র, অন্ধ্রপ্রদেশ, তামিলনাড়ু, কর্নাটক এবং পঞ্জাবে গত ২৪ ঘণ্টায় কোভিড সংক্রমণে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে। এই ৫ রাজ্যে মৃতের সংখ্যা মোট ৭২৬, যা গত ২৪ ঘণ্টায় মোট মৃতের সংখ্যার ৬৭ শতাংশ।
মহারাষ্ট্রে গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্তের সংখ্যা ১৭,৭৯৪ এবং মৃত্যু হয়েছে ৪১৬ জনের। অন্ধ্রপ্রদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছেন ৭০৭৩ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৪৮ জনের। তামিলনাড়ুতে আক্রান্তের সংখ্যা ৫৬৭৯, মৃত্যু হয়েছে ৭২ জনের। কর্নাটকে আক্রান্তের সংখ্যা ৮৬৫৫, মৃত্যু হয়েছে ৮৬ জনের। উত্তরপ্রদেশে আক্রান্তের সংখ্যা ৪২৫৬ এবং মৃত্যু হয়েছে ৮৪ জনের।