দ্য ওয়াল ব্যুরো : কিছুদিন ধরে কর্ণাটকে জেডিএস এবং কংগ্রেসের জোট সরকার অভিযোগ করে চলেছে, তাদের বিধায়কদের কিনতে চেষ্টা করছে বিজেপি। অন্যদিকে বিজেপিও একই অভিযোগ করেছে ক্ষমতাসীন জোটের বিরুদ্ধে। এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার শোনা গেল, দুই নির্দল বিধায়ক এইচ ডি কুমারস্বামীর সরকার থেকে সমর্থন তুলে নিয়েছেন। তাঁদের নাম এইচ নাগেশ ও এস শংকর। তাঁদের বক্তব্য, এই সরকার অযোগ্য। আমরা চাই মকর সংক্রান্তিতে রাজ্যে সরকার বদল হোক। তাই সরকারের ওপর থেকে সমর্থন তুলে নিচ্ছি।
কর্ণাটকের রাজনৈতিক মহলে বেশ কয়েকদিন ধরে জল্পনা-কল্পনা চলছে, রাজ্যে ‘অপারেশন লোটাস’ কার্যকর করতে চায় বিজেপি। অর্থাৎ লোকসভা ভোটের আগে শাসক জোট থেকে কয়েকজন বিধায়ককে ভাঙিয়ে সরকারের পতন ঘটানো হবে। তার জায়গায় আসবে বিজেপি সরকার। অন্যদিকে একই ভয় পাচ্ছে গৈরিক ব্রিগেডও। তাদের ধারণা, কুমারস্বামী তাদের কয়েকজন বিধায়ককে ভাঙিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবেন। বিজেপির অন্তত ৯৯ জন বিধায়ককে এখন গুরগাঁওয়ের এক রিসর্টে রাখা হয়েছে। কর্ণাটকের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বি এস ইয়েদুরাপ্পা বলেছেন, কুমারস্বামী সরকার যাতে বিধায়ক কেনাবেচা না করতে পারে, সেজন্য তাঁদের রাজ্যের বাইরে রাখা হয়েছে।
কংগ্রেস অভিযোগ করেছে, তাদের পাঁচ বিধায়ক নিখোঁজ। একটি সূত্রের খবর, তাঁরা এখন আছেন মুম্বইয়ের এক হোটেলে। বিজেপি নেতারা তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তাঁরাও দল ভেঙে বিজেপির দিকে যাবেন বলে মনে করেন অনেকে।
কর্ণাটক বিধানসভায় আসনের সংখ্যা ২২৪। জেডিএস ও কংগ্রেসের জোটের বিধায়কের সংখ্যা ১১৮। বিজেপির বিধায়ক আছেন ১০৪ জন। অর্থাৎ বিরোধী দলের থেকে খুব সামান্যই এগিয়ে আছে শাসক জোট। একটি সূত্রে জানা যায়, কংগ্রেসের ১৫ জন ও জেডিএসের এক বিধায়কের ওপরে নজর রাখা হচ্ছে। শাসক জোটের আশঙ্কা, তাঁরা দল ভাঙতে পারেন।
একটি মহলের ধারণা, বিজেপি যদি কর্ণাটকে সরকার না গঠন করতে পারে, অন্তত একধরণের সাংবিধানিক সংকট সৃষ্টি করতে চায়। তাহলে রাজ্যপাল বিধানসভা সাসপেন্ডেড অ্যানিমেশন করে দেবেন। লোকসভা নির্বাচন অবধি বিধানসভা কাজ করতে পারবে না।
এর পরে বিজেপি উত্তরপ্রদেশের ভোটারদের কর্ণাটকের উদাহরণ দেবে। তারা বলবে মিলিজুলি সরকার বেশিদিন টেকে না। উত্তরপ্রদেশে যদি সপা এবং বসপার জোট সরকার ক্ষমতায় আসে, তাহলেও একই দশা হবে।