দ্য ওয়াল ব্যুরো: কংগ্রেসের ইস্তাহার প্রকাশ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রত্যাশা মতো বিজেপি'র তরফ থেকে আক্রমণ শানানো হল কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীর প্রতি। কংগ্রেসের ইস্তাহারকে 'দেশকে দুর্বল করার সনদ' আখ্যা দিয়ে অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি বলেন নয়া দিল্লিতে সদ্য প্রকাশিত কংগ্রেসের নির্বাচনী ইস্তাহার আসলে দেশকে টুকরো করার প্রস্তাব। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর অভিযোগ, ইস্তাহারের প্রতিটি পাতায় দেশের 'টুকরে টুকরে গ্যাং'–এর মানসিকতা প্রতিফলিত হয়েছে।
''কংগ্রেসের ইস্তাহারে কিছু ধারণা নিশ্চিত বিপজ্জনক। সেগুলি দেশকে বিভক্ত করার প্রস্তাব।'' সাংবাদিক সম্মেলনে কংগ্রেসের ইস্তাহার প্রকাশ প্রসঙ্গে এমনই মন্তব্য করেন অরুণ জেটলি। তিনি বলেন, ''২০১৯–এর কংগ্রেসের ইস্তাহার ভারতকে দুর্বল করার সনদ। ওই ইস্তাহার পড়ে দেখলাম আমার আশঙ্কাই সত্যি হয়েছে।'' ভারতীয় ফৌজদারি বিধির ১২৪এ ধারা বাতিল, আফস্পা আইনের লঘুকরণ এবং 'জামিন আইন, হাজতবাস ব্যতিক্রম' ইত্যাদি প্রতিশ্রুতি সন্ত্রাসবাদী এবং দুষ্কৃতীদের দেশের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার জন্য সুযোগ করে দেবে বলে অভিমত প্রকাশ করেন জেটলি। দেশদ্রোহিতার আইন প্রসঙ্গে রণদীপ সিং সুরজওয়ালার কথোপকথন শুরু করার প্রস্তাব প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, যদিও ইস্তাহারের খসড়া রচনার জন্য একটি কমিটি গঠিত হয়েছিল, কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি রচনা করেছেন কংগ্রেস সভাপতির 'টুকরে টুকরে গ্যাং'–এর বন্ধুরা।
ইস্তাহারে উল্লিখিত ১২৪এ ধারা বাতিল প্রসঙ্গে বর্ষীয়াণ বিজেপি নেতা বলেন, এই ধারা বাতিলের কথা ইন্দিরা গান্ধী, রাজীব গান্ধী এমনকী মনমোহন সিং–ও কোনওদিন ভাবেননি। এই ধারা বাতিলের অর্থ এরপর থেকে দেশদ্রোহিতা আর অপরাধ বলে বিবেচিত হবে না। যে দল তাদের ইস্তাহারে এই ধরনের প্রতিশ্রুতি দেয় তাদের একটিও ভোট পাওয়ার অধিকার নেই বলে সাংবাদিক সম্মেলনে জানান অরুণ জেটলি।
কংগ্রেসের নির্বাচনী ইস্তাহারে মোট জনসংখ্যার ২০ শতাংশ দরিদ্রতম পরিবারকে বছরে ৭২ হাজার টাকা দেওয়ার প্রকল্পটিকে কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ প্রকল্প হিসেবে দেখানো হয়েছে। সেই দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে এই প্রতিশ্রুতিটি বিশাল একটি ''কংগ্রেসী ভাঁওতা'' বলে চিহ্নিত করেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। সম হারে জিএসটি নেওয়ার কংগ্রেসের ঘোষণা সম্পর্কে জেটলি বলেন, ''তার মানে দাঁড়াচ্ছে বিলাস দ্রব্য, আম আদমির ব্যবহৃত সামগ্রী এবং খাদ্যদ্রব্য সবকিছুরই একই হারে কর নেওয়া হবে। রাহুল গান্ধী সিঙ্গাপুর থেকে জ্ঞান লাভ করে এসেছেন যেখানে দারিদ্র নেই সে কারণেই ইস্তাহারেও দরিদ্রদের কথা ভাবা হয়নি।''
জেটলির মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় কংগ্রেসের মুখপাত্র রণদীপ সিং সুরজেওয়ালা বলেন, গত নির্বাচনের আগে নরেন্দ্র মোদীর দেওয়া প্রতি অ্যাকাউন্টে ১৫ লাখ টাকা আর প্রতি বছর দু'কোটি চাকরির প্রতিশ্রুতি নিয়ে জেটলি কি একটিও প্রশ্ন তুলেছেন?