দ্য ওয়াল ব্যুরো : দূরারোগ্য ক্যানসার রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসার জন্য আমেরিকায় গিয়েছেন অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি। কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী থেকে শুরু করে অনেকেই তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন। কিন্তু অসুস্থ অবস্থাতেই ব্লগে কংগ্রেসের সমালোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন জেটলি। এদিন তিনি রাহুলের নাম না করে ব্লগে লিখেছেন, এমন অনেকে আছে যারা কেবল অভ্যাসবশত সব কিছুর বিরোধিতা করে। সেজন্য তারা মিথ্যার আশ্রয় নিতেও পিছপা হয় না।
তাঁর কথায়, বিরোধিতা করাই যাদের স্বভাব, তারা মিথ্যা বলতেও দ্বিধাগ্রস্ত হয় না। তারা দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে গিয়ে নানা যুক্তি পেশ করে। দুর্নীতিকে তারা ন্যায়ের পক্ষে যুদ্ধ বলে চালাতে চায়। তারা প্রয়োজনে দু’মুখো আচরণ করে।
বিরোধীদের ‘মিথ্যাচারের’ উদাহরণ দিয়ে জেটলি বলেন, বিচারপতি বি এইচ লোয়ার মৃত্যু, রাফায়েল চুক্তি, সিবিআই এবং রিজার্ভ ব্যাঙ্ক নিয়ে তারা মিথ্যার জাল বুনেছে।
বিচারপতি লোয়া সোহরাবুদ্দিনের এনকাউন্টার কিলিং নিয়ে মামলায় বিচারক ছিলেন। সেই হত্যাকাণ্ডে অন্যতম অভিযুক্ত ছিলেন বিজেপির অমিত শাহ। ২০১৪ সালে বিচারপতি লোয়া হৃদরোগে মারা যান। জেটলি ব্লগে লিখেছেন, বিচারপতির মৃত্যু নিয়ে কোনও রহস্য ছিল না। তা সত্ত্বেও নানা জল্পনা-কল্পনা ও মিথ্যা জনস্বার্থের মামলা হয়েছিল।
রাফায়েল নিয়ে তিনি লিখেছেন, আদালতের রায়ই এক্ষেত্রে চূড়ান্ত। কিন্তু বিঘ্ন সৃষ্টিকারীরা তাতেও থামতে রাজি নয়। তারা বিষয়টি নিয়ে ফের সংসদে বিতর্ক তুলেছিল। সেই বিতর্কে হেরে গিয়েও তারা মিথ্যাচার চালিয়ে যাচ্ছে।
রাফায়েল চুক্তি করে অন্যায়ভাবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঘনিষ্ঠ শিল্পপতি অনিল আম্বানিকে ৩০ হাজার কোটি টাকা পাইয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বিরোধীরা। আগামী লোকসভা ভোটে যাতে রাফায়েল একটি বড় ইস্যু হয়ে ওঠে তার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বিরোধীরা।
জেটলির বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রী মোদী দেশের জনগণের হাজার হাজার কোটি টাকা বাঁচিয়েছেন। তাঁর কথায়, বিরোধীরা চাইছেন, রিজার্ভ ব্যাঙ্কের স্বশাসনের নাম করে দেশের তহবিলে টাকার যোগান কমাতে। আদালতের রায় পছন্দসই না হলে বিচারকদেরও সমালোচনা করতে ছাড়ছেন না। এক্ষেত্রে মহাত্মা গান্ধীর উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, বামপন্থী ও উদারনৈতিকরা স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় মহাত্মা গান্ধীরও সমালোচনা করত।