দ্য ওয়াল ব্যুরো: যান্ত্রিক বুদ্ধি প্রযুক্তির উন্নতিও ঘটাবে, আবার এর অপপ্রয়োগ ডেকে আনবে বিপদ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স (এআই) আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরছে মানব সভ্যতাকে যার প্রভাব হতে পারে মারাত্মক। অতি পরিচিত এই কথাটাই ফের একবার মনে করিয়ে দিলেন অ্যালফাবেটের প্রধান ভারতীয় বংশোদ্ভূত সুন্দর পিচাই। গুগলের মতো বিশ্বে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত সার্চ ইঞ্জিনে আর্টিফিশায়াল ইনটেলিজেন্সের প্রয়োগকে নিয়ন্ত্রণে রাখার বার্তাও দিলেন পিচাই।
ব্রাসেলসে ইউরোপীয়ান ইকোনমিক থিঙ্ক ট্যাঙ্কের মঞ্চে নিজের বক্তব্য রাখতে গিয়ে অ্যালফাবেট কর্তা বলেন, ‘‘ইন্টারনেটের অপব্যবহার নিয়ে মানুষের মনে যে ভয়, সেটা খুবই স্বাভাবিক, সঙ্গত। তবে তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলোকে এ ব্যাপারে আরও সচেতন থাকতে হবে। আর্টিফিশাল ইনটেলিজেন্সকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারলেই বিপদ।’’
অ্যালফাবেটের প্রধান ল্যারি পেজ এবং প্রেসিডেন্ট সার্গেই ব্রিন দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার পর থেকে এখন অ্যালফাবেটের সর্বময় কর্তা সুন্দর পিচাই। অ্যালফাবেটের অধীনে আছে গুগল এক্স, নেস্ট, গুগল ফাইবার, ক্যালিকো, লাইফ সায়েন্স এবং গুগল ফাইবার। স্বয়ংক্রিয় গাড়ি, ডেলিভারি ড্রোন, ইন্টারনেট বেলুন-এর মতো ব্যবসাগুলি দেখে গুগল এক্স। স্মার্ট থার্মোস্ট্যাট-এর ব্যবসা দেখে নেস্ট। গুগল ফাইবার-এর অধীনে আছে ব্রডব্যান্ড পরিষেবা। এই সমস্ত কিছুতেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অতিরিক্ত নির্ভরতা আগামী দিনে বিপদ ডেকে আনতে পারে বলেই মনে করছেন পিচাই।
ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের মঞ্চে তিনি বলেন, ‘‘নতুনভাবে শুরু করছি আমরা। চাই না কোনও খামতি থাকুক। এআইয়ের অপব্যবহার রুখতে আগে ভেবে দেখা উচিত কী ভাবে প্রযুক্তির অপব্যবহার হতে পারে।’’ পিচাইয়ের কথায়, গুগলের হেলথ অ্যালগোরিদম থেকে চালকহীন গাড়ি চালাবার পদ্ধতি, সব কিছুতেই বহুনভাবে ব্যবহৃত হয় আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স। একদিকে প্রযুক্তির উন্নতিতে এর প্রয়োগ হয়, অন্যদিকে একে নিয়ন্ত্রণে না রাখলে অন্তর্জালের সম্ভাবনাও প্রবল। এআইকে ব্যবহার করে বিদ্বেষমূলক বার্তা ছড়িয়ে পড়তে পারে সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে।
অনেকে ইতিমধ্যে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ঢুকে পড়া যাবে মানুষের ব্যক্তিগত পরিসরে। রাষ্ট্র সহজে নাগরিকদের ওপরে নজর রাখতে পারবে। এমন ভয়ংকর মারণাস্ত্র তৈরি হবে আগে যার কথা ভাবাই যায়নি। খুব সহজে লক্ষ লক্ষ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া যাবে গুজব। এর আগে আমেরিকার কংগ্রেসের সদস্যরা গুগলকে হুমকি দেন, আর্টিফিসিয়াল ইনটেলিজেন্স ব্যবহার করে যদি কারও সম্পর্কে ঘৃণা ছড়ানো হয়, তা হলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির ওপরে কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে।
সুন্দর পিচাইয়ের কথায়, বৃহৎ প্রযুক্তি সংস্থাগুলিকে দেখতে হবে যাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের ক্ষতির কারণ না হয়ে দাঁড়ায়। আমি আশাবাদী, এই প্রযুক্তি শেষপর্যন্ত মানুষের উপকারেই লাগবে।