দ্য ওয়াল ব্যুরো : সোমবারের অশান্তি থামল না মঙ্গলবারেও। এদিন সকাল থেকেই ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে উত্তর-পূর্ব দিল্লি। নাগরিকত্ব আইনের সমর্থক ও বিরোধীদের মধ্যে পাথর ছোঁড়াছুড়ির খবর আসছে। কয়েকটি গাড়ি ও দোকানেও আগুন লাগানো হয়েছে। সোমবারের হিংসায় ওই অঞ্চলে এক পুলিশকর্মী সহ সাতজন মারা গিয়েছেন। আহত হয়েছেন ১০০ জনের বেশি। তাঁদের মধ্যে আছেন ২০ জন পুলিশকর্মী। দমকলের তিন কর্মীও আহত হয়েছেন। তাঁদের গাড়িতে জনতা আগুন লাগিয়ে দেয়। তাঁদের দিকে পাথর ছোঁড়ে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সোমবার গভীর রাতে দিল্লির পুলিশ প্রধান, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব ও অন্যান্য উচ্চপদস্থ অফিসারদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
একটি সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার বেলা ১২ টায় দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও লেফটেন্যান্ট গভর্নর অনিল বাইজালের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসবেন অমিত শাহ। সেখানে দিল্লির পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হবে। ওই বৈঠকের জন্য অমিত শাহ এদিন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্মানে আয়োজিত বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পারবেন না।
অরবিন্দ কেজরিওয়ালও এদিন অশান্ত এলাকার বিধায়ক ও অন্যান্য সরকারি কর্তাদের জরুরি বৈঠকে ডেকেছেন। তিনি টুইট করে বলেন, "দিল্লির কয়েকটি অঞ্চলে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, সেজন্য আমি অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। শহরে শান্তি ফেরানোর জন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা উচিত। আমি সকলের কাছে আবেদন জানাচ্ছি, হিংসা বর্জন করুন।"
এদিন সকালে মৌজপুরের কয়েকটি দোকানে পাথর ছোঁড়া হয়েছে। আগুন নেভানোর জন্য ঘন ঘন ফোন আসছে দমকলে। সকালে একটি ই-রিকশকে থামিয়ে যাত্রীদের মূল্যবান জিনিসপত্র লুঠ করা হয়েছে। দিল্লি পুলিশ বিবৃতি দিয়ে বলেছেন, "পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ। উত্তর-পূর্ব দিল্লি থেকে হিংসার খবর আসছে।"
সোমবার রাতে উত্তেজিত জনতা গোকুলপুর অঞ্চলে টায়ারের বাজারে আগুন ধরিয়ে দেয়। দিল্লির দুই মন্ত্রী গোপাল রাই, ইমরান হুসেন ও আম আদমি পার্টির অন্যান্য বিধায়ক সোমবার রাতে লেফটেন্যান্ট জেনারেলের সঙ্গে দিল্লির আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। অনিল বাইজাল বলেন, তিনি দিল্লি পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন, যে কোনও মূল্যে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করতে হবে।