
শেষ আপডেট: 18 December 2023 15:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রেশন দুর্নীতি মামলায় রাজ্যের আরও এক মন্ত্রীকে গ্রেফতার করল ইডি। প্রায় ২১ ঘণ্টা ধরে তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদের পর রাত ৩টে ২২ মিনিট নাগাদ রাজ্যের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে তাঁর সল্টলেকের বাড়ি থেকে বের করেন তদন্তকারীরা। সাড়ে তিনটে নাগাদ তাঁকে নিয়ে আসা হয় সিজিও কমপ্লেক্সে। শুক্রবার ধৃত মন্ত্রীকে আদালতে হাজির করাবেন এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের আধিকারিকরা।
নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গত বছর প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করেছিল ইডি। এবার ফের রাজ্যের আর এক মন্ত্রীকে গ্রেফতার করা হল। জ্যোতিপ্রিয় রাজ্যের বনমন্ত্রী। সম্প্রতি রেশন দুর্নীতি মামলায় বাকিবুর রহমান নামে এক রেশন ডিলার গ্রেফতার করেন তদন্তকারীরা। সেই সূত্রে সামনে আসে প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয়র নাম। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৬টা থেকে তাঁর সল্টলেকের দুটি বাড়ি-সহ একাধিক জায়গায় তল্লাশি শুরু করেছিল ইডি।
বৃহস্পতিবার অধুনা বনমন্ত্রীর সল্টলেকের বিসি ব্লকের পাশাপাশি দুটি বাড়িতে ভোর থেকে তল্লাশি শুরু করে ইডি। তাঁর বেনিয়াটোলার পৈত্রিক বাড়িতেও হাজির হয়েছিল কেন্দ্রীয় এজেন্সি। তবে সেখানে থাকেন না বনমন্ত্রী। সল্টলেকের দুটি বাড়িতেই নিয়ম করে থাকেন তিনি। বৃহস্পতিবার দিনভর সেখানে তল্লাশি চালান কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার কর্তারা।
কেন্দ্রীয় এজেন্সির গোয়েন্দারা প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রীর বাড়িতে হানা দেওয়ার খবর চাউর হতেই মন্ত্রীর বাড়ির সামনে ভিড় বাড়তে শুরু করে। এমনকী, বিজয়ার মিষ্টি বিলি করার নাম করেও সেখানে জমায়েত করতে শুরু করেন পড়শিরা। পরে বিধাননগর উত্তর থানার পুলিশ এসে তদন্তকারীদের সঙ্গে কথা বলেই মন্ত্রীর বাড়ির সামনে ব্যারিকেড বসিয়ে দেয়।
রাত ৯.৩০ নাগাদ মন্ত্রীর বাড়ির সামনে দুটি গাড়িতে করে অতিরিক্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী আনা হয়। স্থানীয় থানার পুলিশের সহযোগিতায় বাইরে জমে থাকা ভিড়ও সরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর রাত ৩ টে ২২ নাগাদ কড়া নিরাপত্তার মধ্যে মন্ত্রীকে বাড়ি থেকে বের করা হয়। টানা ২১ ঘণ্টা জেরা শেষে ততক্ষণে কার্যত বিধ্বস্ত দেখাচ্ছিল জ্যোতিপ্রিয়কে।
প্রসঙ্গত কেন্দ্রীয় এজেন্সির তল্লাশি অভিযান নিয়ে বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠক থেকে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, “আমি বলতে বাধ্য হচ্ছি। এবার সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। পুজো সবে শেষ হয়েছে। জেলায় জেলায় আজ কার্নিভাল রয়েছে। সবাই বিজয়ার শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন। তার মধ্যেই মন্ত্রীদের বাড়িতে হানা দিতে নেমে পড়েছে (পড়ুন কেন্দ্রীয় এজেন্সি)। একটা লোক কারও নাম বললেই, ওমনি তাঁর বাড়িতে চলে যাচ্ছে। একবারও তদন্ত করে দেখছে না, সেটা সত্যি না মিথ্যে। বালুর সুগার রয়েছে। ওঁর শরীর খুব খারাপ। ও যদি মরে যায়, বিজেপি-ইডির বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করতে হবে।”