দ্য ওয়াল ব্যুরো : হরিদ্বারে ধর্ম সংসদে (Dhram Sansad) ঘৃণাভাষণ (Hate Speech) নিয়ে বিতর্ক (Controversy) সৃষ্টি হয়েছে দেশ জুড়ে। এই পরিস্থিতিতে দু'টি দক্ষিণপন্থী গোষ্ঠী সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানাল, ঘৃণাভাষণের বিরুদ্ধে যে আবেদন জমা পড়েছে, তা নাকচ করা হোক। ওই মামলায় তাদের পক্ষ হিসাবে যুক্ত করার জন্য আবেদন জানিয়েছে দু'টি সংগঠনই। একইসঙ্গে হিন্দু সেনার সভাপতি বিষ্ণু গুপ্ত আবেদন করেছেন, ঘৃণাভাষণের জন্য মুসলিম নেতাদেরও গ্রেফতার করতে হবে।
ওই সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অহিন্দুরা নানাভাবে হিন্দু ধর্ম ও সংস্কৃতির ওপরে আক্রমণ করে। ধর্ম সংসদে হিন্দু নেতারা সেই আক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। তাকে ঘৃণাভাষণ বলা যায় না। হিন্দু সেনার আবেদনে বলা হয়েছে, "হিন্দু আধ্যাত্মিক নেতাদের বিরুদ্ধে কুৎসা রটানো হচ্ছে। যিনি হরিদ্বারের ধর্ম সংসদের বিরুদ্ধে আবেদন করেছেন, তিনি ধর্মে মুসলিম। ধর্ম সংসদ নিয়ে তাঁর কিছু বলার থাকতে পারে না।"
হিন্দু সেনার সভাপতি বলেন, এআইএমআইএমের প্রধান আসাদুদ্দিন ওয়াইসি এবং ওয়ারিস পাঠানের বিরুদ্ধেও ঘৃণাভাষণের অভিযোগে মামলা করা হোক। হিন্দু ফ্রন্ট ফর জাস্টিস নামে এক সংগঠন বলেছে, হিন্দুদের বিরুদ্ধে ঘৃণাভাষণ নিয়েও মামলা করা উচিত। ওই সংগঠন 'হিন্দুদের বিরুদ্ধে ঘৃণাভাষণের' ২৫ টি উদাহরণ দিয়েছে।
হরিদ্বারের ধর্ম সংসদে ঘৃণাভাষণ নিয়ে শীর্ষ আদালতে আবেদন জানিয়েছেন সাংবাদিক কুরবান আলি ও পাটনা হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি অঞ্জনা প্রকাশ। সেনাবাহিনীর পাঁচজন প্রাক্তন প্রধান, কয়েকজন প্রাক্তন শীর্ষস্থানীয় অফিসার রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি লিখে আবেদন জানান, দেশের ঐক্য ও সংহতি রক্ষায় যেন অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
গত ১২ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট নোটিশ দেয় কেন্দ্রীয় সরকার, উত্তরাখণ্ড সরকার এবং দিল্লি পুলিশকে। ধর্ম সংসদের ইস্যুতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা বিচারপতিরা জানতে চান। এর পরে উত্তরাখণ্ড পুলিশ ধর্ম সংসদের দুই বক্তা যতি নরসিংহানন্দ এবং জিতেন্দ্র নারায়ণ ত্যাগীকে গ্রেফতার করে।