দ্য ওয়াল ব্যুরো : মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরের বিরুদ্ধে অপমানজনক মন্তব্য করার জন্য মঙ্গলবার গ্রেফতার হন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নারায়ণ রানে। রায়গড়ে এক আদালতে তাঁকে পেশ করা হয়। তিনি বলেন, রাজনৈতিক কারণে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছিল। বিচারক এস এস পাতিল বলেন, “আপনাকে গ্রেফতার করা আইনসঙ্গত।” তাঁকে ১৫ হাজার টাকার জামিনের বিনিময়ে মুক্তি দেওয়া হয়। আগামী ৩১ অগাস্ট ও ১৩ সেপ্টেম্বর রানেকে পুলিশের সামনে হাজির হতে হবে। বিচারক রানেকে সাবধান করে বলেন, তিনি যেন ভবিষ্যতে এই ধরনের অপরাধ না করেন। সেইসঙ্গে এই মামলার প্রমাণপত্র লোপাট করার চেষ্টা না করেন এবং মামলার সঙ্গে যুক্ত কোনও ব্যক্তিকে হুমকি না দেন।
গ্রেফতার হওয়ার আট ঘণ্টা পরে জামিন পান রানে। মহারাষ্ট্র পুলিশ আদালতে আবেদন জানিয়েছিল, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে সাতদিন জেলে রাখার অনুমতি দেওয়া হোক। কিন্তু বিচারক তাঁকে আটক রাখতে অস্বীকার করেন।
মোদী সরকারের নতুন মন্ত্রীদের জন্য দেশব্যাপী বিজেপি যে ‘জন আশীর্বাদ যাত্রা’ কর্মসূচি নিয়েছে, সেখানেই সোমবার রানের বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগ করে শিবসেনা। উদ্ধব ১৫ আগস্টের ভাষণের মাঝখানে ভারতের স্বাধীনতা কোন সালে, ভুলে গিয়ে সহযোগীদের সাহায্য নেন বলে অভিযোগ করেন রানে। রায়গড়ের সভায় বলেন, এটা লজ্জার, মুখ্যমন্ত্রী কোন বছর দেশ স্বাধীন হয়, জানেন না। ভাষণের মধ্যেই ঝুঁকে পড়ে স্বাধীনতার বয়স গুনতে বলেন কাউকে। ওখানে আমি থাকলে কষে থাপ্পড় মারতাম!
শিবসেনা এর তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ করেছে। এমনকী মঙ্গলবার সকালে মুম্বইয়ে রানের বাসভবনের দিকে মিছিল করে তারা। দলীয় পতাকা নিয়ে স্লোগান দিতে দিতে তারা এগতে থাকলে বাধা দেয় বিজেপি কর্মীরা। রানের জুহুর বাসভবনের বাইরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে বলপ্রয়োগ করতে হয়। বিজেপি, শিবসেনা কর্মীরা পরস্পরকে লক্ষ্য করে ইট-পাথর ছোঁড়ে।
রানে এককালে শিবসেনায় ছিলেন। এখন বিজেপিতে গিয়ে মহারাষ্ট্রে উত্তেজনা ছড়াতে তিনি ইচ্ছে করে ওই মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ শিবসেনার। তাদের যুব শাখা যুব সেনা রাজ্যব্যাপী রানেকে ‘মুরগী চোর’ বলে পোস্টার মেরেছে। শিবসেনায় থাকাকালে ৫ দশক আগে চেম্বুরে মুরগীর দোকান চালাতেন রানে।
তিনি বিজেপি নেতৃত্বকে খুশি করতেই শিবসেনা, তার নেতাদের আক্রমণ করছেন, যদিও মোদী মন্ত্রিসভায় ঢুকে তিনি মানসিক ভারসাম্য হারিয়েছেন, মোদীর উচিত মন্ত্রিসভা থেকে রানেকে বের করে দেওয়া, দাবি করেছেন শিবসেনা এমপি বিনায়ক রাউত।
উদ্ধবের বাবা প্রয়াত বাল ঠাকরের জমানায় শিবসেনা থেকেই রাজনৈতিক কেরিয়ারের শুরু রানের। ১৯৯০-এ শিবসেনার বিধায়ক হন। ১৯৯৯ এ মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রীও হন। তবে সে বছরই শিবসেনা-বিজেপি জোট ভোটে হেরে যায়। ফলে বিদায় নেন তিনিও। ২০০৫সালে ঠাকরেদের সঙ্গে সংঘাতের জেরে শিবসেনা ছাড়েন রানে। প্রথমে যোগ দেন কংগ্রেসে। মহারাষ্ট্রে মন্ত্রীও হন। তবে ২০১৭য় কংগ্রেসের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন, তারা তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী করার প্রতিশ্রুতি পূরণ করেনি বলে অভিযোগ তুলে। পরে দুই ছেলে নীতেশ, নীলেশকে নিয়ে নিজের দল খোলেন। যদিও পরে সেই দল মিশে যায় বিজেপিতে।