দ্য ওয়াল ব্যুরো : অস্ট্রেলিয়া জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে করোনার অতি ছোঁয়াচে ভ্যারিয়ান্ট ডেল্টা প্লাস। পরিস্থিতির মোকাবিলায় সোমবারই জরুরি বৈঠকে বসছে কোভিড রেসপন্স কমিটি। সিডনিতে জারি হয়েছে লকডাউন। দেশের অন্যত্রও কড়াকড়ি করা হয়েছে। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার ১ কোটি ৮০ লক্ষ মানুষ, অর্থাৎ দেশের নাগরিকদের ৭০ শতাংশ রয়েছেন লকডাউনের আওতায়।
অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল ট্রেজারার জশ ফ্রাইডেনবার্গ বলেন, "আমরা অতিমহামারীর এক নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছি। আমাদের চিফ মেডিক্যাল অফিসার শীঘ্র প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসনকে পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত রিপোর্ট দেবেন।"
গত সপ্তাহের শেষ থেকে অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে জনবহুল শহর সিডনিতে জারি করা হয়েছে দুই সপ্তাহের লকডাউন। দেশের উত্তরে ডারউইন শহরে শাটডাউন করা হয়েছে দু'দিনের জন্য। কুইনসল্যান্ড প্রদেশে ফের মাস্ক বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ব্রিসবেন, পার্থ, মেলবোর্ন ও ক্যানবেরাতেও জমায়েতের ওপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
গত সপ্তাহের শেষে জানা যায়, ভার্জিন অস্ট্রেলিয়া এয়ারলাইন্সের এক কেবিন ক্রু কোভিডে আক্রান্ত হয়েছেন। অসুস্থ অবস্থায় তিনি ডিউটি করেছেন ব্রিসবেন, মেলবোর্ন, গোল্ড কোস্ট সহ পাঁচটি ফ্লাইটে। এরপরে ওই বিমানগুলির যাত্রীদের সাবধান করে দেওয়া হয়।
এখনও পর্যন্ত যথেষ্ট সাফল্যের সঙ্গে কোভিড নিয়ন্ত্রণ করেছে অস্ট্রেলিয়া। এখনও পর্যন্ত সেখানে আক্রান্ত হয়েছেন ৩০ হাজার ৪৫০ জন। মারা গিয়েছেন ৯১০ জন।
জুনের মাঝামাঝি জানা যায়, ভিক্টোরিয়ার গিপসল্যান্ডে আকাশে জাল বুনেছে মাকড়সারা। ওই খবরে হইচই পড়ে যায় বিশ্ব জুড়ে। ভিক্টোরিয়া প্রদেশে কয়েকদিন ধরে জোর ঝড়বৃষ্টি হয়েছিল। আকাশ পরিষ্কার হওয়ার পরে গিপসল্যান্ডের মানুষ দেখলেন যতদূর চোখ যায় আকাশ জুড়ে কেবল জাল বেছানো। গাছ থেকে গাছে, বাড়ির ছাদ থেকে উঁচু টাওয়ার এবং আরও যত উঁচু থেকে উঁচুতে ওঠার অবলম্বন রয়েছে সর্বত্র রেশমি জালের আস্তরণে ঢাকা পড়ে গিয়েছে গোটা এলাকা। রেশম জাল বিছিয়ে রয়েছে ঘাস জমিতেও। হাওয়া লেগে দুলছে সেই চাদর।
এমন দৃশ্য দেখে ভয় পেয়ে গেলেন স্থানীয়রা। অনেকে ভাবলেন এই বুঝি পৃথিবীর শেষ! আবার কেউ কেউ প্রকৃতির আশ্চর্য খেয়াল ভেবে জরিপ করতে লাগলেন। ভিডিও তুলে আপলোড করলেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। তারপর নিমেষে ভাইরাল হল ভিক্টোরিয়ার বুকে রেশমি জালের আস্তরণ।
জানা গেল, সেই সূক্ষ মিহি চাদরের মত জাল বুনেছে বিপন্ন মাকড়সারাই। গত দু'সপ্তাহ ব্যাপী প্রবল বর্ষণের জেরে বান এসেছিল দক্ষিণ পূর্ব অস্ট্রেলিয়ায়। উপকূল ভেসে বিস্তীর্ণ এলাকা জলের তলায় চলে যায়। আগাম সতর্কতা নিয়ে স্থানীয় মানুষজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু পশুপাখি, কীটপতঙ্গদের যে পালাবার পথ নেই। তারা বন্যার জল থেকে নিজেদের বাঁচাবে কী করে?