দ্য ওয়াল ব্যুরো : আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার মামলায় ইতিমধ্যেই গ্রেফতার হয়েছেন রিপাবলিক টিভির এডিটর ইন চিফ অর্ণব গোস্বামী। কিন্তু মহারাষ্ট্র বিধানসভার স্বাধিকারভঙ্গের মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করা যাবে না বলে শুক্রবার রায় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। একইসঙ্গে বিধানসভার সচিবকে শো-কজ নোটিশও দিয়েছে শীর্ষ আদালত। অভিযোগ, তিনি অর্ণবকে সতর্ক করে বলেছিলেন, বিধানসভার নোটিশ সুপ্রিম কোর্টকে যেন না দেখানো হয়। বিচারপতিরা বিধানসভার সচিবকে নোটিশ দিয়ে বলেছেন, কেন তাঁর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা করা হবে না, দুই সপ্তাহের মধ্যে তার কারণ দেখাতে হবে।
সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি এস এ বোবদে, বিচারপতি এ এস বোপান্না এবং বিচারপতি ভি রামসুব্রমনিয়ামকে নিয়ে গঠিত বেঞ্চ এদিন মন্তব্য করেছে, "বিষয়টি খুবই সিরিয়াস। তা আদালত অবমাননার শামিল।"
গত সেপ্টেম্বরে শিবসেনা বিধায়ক প্রতাপ সরনায়েক বিধানসভার অর্ণবের বিরুদ্ধে স্বাধিকারভঙ্গের নোটিশ দেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, রিপাবলিক টিভির এডিটর ইন চিফ মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে এবং এনসিপি প্রধান শরদ পাওয়ারের বিরুদ্ধে মানহানিকর মন্তব্য করেছেন। একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, অর্ণব টিভিতে বিতর্কের সময় নিয়মিত মন্ত্রী, বিধায়ক ও সাংসদদের অপমান করেন। অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর পরে তিনি অনেকের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ করেছেন।
এরপরে অর্ণবের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠায় মহারাষ্ট্র বিধানসভা। এই নোটিশের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আদালতে আবেদন করেছিলেন অর্ণব।
ইতিমধ্যে তাঁকে ১৪ দিনের জেল হেপাজতে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ অবশ্য তাঁকে নিজেদের হেপাজতে চেয়েছিল।
আলিবাগ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট সুনয়না পিঙ্গলে তাঁর অর্ডারে জানান, রায়গড় পুলিশ সঠিক কারণ দেখাতে পারেনি, কেন তারা অর্ণবকে পুলিশ হেফাজতে চাইছে। এমনকি অর্ণব গোস্বামীর গ্রেফতারিও বেআইনি বলেই মনে হচ্ছে বলেও জানান তিনি। কারণ ২০১৮ সালে আর্কিটেক্ট ও তাঁর মায়ের আত্মহত্যার ঘটনার সঙ্গে অর্ণব গোস্বামীর জড়িত তাকার স্বপক্ষে কোনও শক্তপোক্ত প্রমাণ এখনও মেলেনি। নতুন কোনও তথ্যপ্রমাণ ছাড়া ঠিক কী কারণে দুবছর পরে এই মামলায় পুলিশ ফের সক্রিয় হল, তাও স্পষ্ট নয়।
রায়গড় পুলিশ আদালতে জানায়, ২০১৮ সালে দায়ের হওয়া এফআইআর-এর ভিত্তিতে তারা অর্ণব গোস্বামীকে গ্রেফতার করেছে এবং তদন্ত এগোনোর জন্য অর্ণবকে তাদের জেরা করা দরকার। সে জন্যই পুলিশি হেফাজত চেয়েছিল তারা। অ্যাডিশনাল পাবলিক প্রসিকিউটর আদালতে জানান, ২০১৮ সালে যে এফআইআর দায়ের হয়, তা তথ্যপ্রমাণের অভাবে বন্ধ হয়ে যায় ঠিকই। কিন্তু আত্মঘাতী অন্বয় নায়েকের স্ত্রী অক্ষতা নায়েক ও মেয়ে আদন্যা নায়েক আরও একটি অভিযোগ দায়ের করলে নতুন করে তদন্ত শুরু হয়। তাতেই অর্ণব গোস্বামী ও আরও দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়।